প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কালিগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে বাড়ছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিড-ডে মিল বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। পুষ্টিকর খাবার ও সকালের নাস্তার আকর্ষণে কোমলমতি শিশুরা নিয়মিত স্কুলে আসছে, ফলে একদিকে যেমন শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বহুগুণ বেড়েছে, অন্যদিকে বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হারও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্কুল চলাকালীন সময়ে বেশ কয়েকটি স্কুলে সরেজমিনে গেলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চোখে পড়ার মতো শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের এই যুগোপযোগী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এই কর্মসূচির আওতায় পাটগ্রাম উপজেলার ১৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫ হাজার ৩৫৬ জন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার ১৬২টি বিদ্যালয়ের ২২ হাজার ৪৪ জন শিক্ষার্থীকে নিয়মিত বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।খাবারের তালিকায় নিয়মিতভাবে বনরুটি, কলা, সেদ্ধ ডিম, এবং দুধের মতো পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার রাখা হয়েছে। স্কুল ছুটির আগে বা নির্দিষ্ট সময়ে এই পুষ্টিকর খাবার হাতে পেয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিভাবকরাও সরকারের এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, "মিড-ডে মিল চালুর পর থেকেই স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি প্রায় শতভাগে উন্নীত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও চরাঞ্চলের যেসব শিশু নানা কারণে অনিয়মিত ছিল, তারা এখন প্রতিদিন আগ্রহ নিয়ে স্কুলে আসছে। এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং ঝরে পড়া রোধে দারুণ কাজ করছে।স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়মিত ও স্থায়ীভাবে চালু রাখা গেলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত