প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর পদে এক ব্যক্তির সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের পক্ষে সরকার
প্রধানমন্ত্রী পদে কোনো ব্যক্তির সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা মোট ১০ বছরের বেশি দায়িত্ব পালনের সুযোগ না রাখার প্রস্তাবের প্রতি সরকার সমর্থন জানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় একজন ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে যাতে স্বৈরতান্ত্রিকতার সুযোগ তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই এ প্রস্তাব করা হয়েছে।মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত রোববার ও মঙ্গলবার—দুই দিন ধরে গণমাধ্যমের সম্পাদক, টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বিশেষ কমিটি। এসব আলোচনায় সংবিধান সংশোধন নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তৃত প্রস্তাব পাওয়া গেছে।প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনেকে মনে করছেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালনের বিধান অগণতান্ত্রিক এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। তবে তার দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই প্রস্তাব করেছিলেন, কোনো ব্যক্তি যেন ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে না পারেন।তিনি বলেন, দীর্ঘদিন একই ব্যক্তির ক্ষমতায় থাকা থেকে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এ কারণেই এ ধরনের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার এখনো সেই অবস্থান থেকে সরে আসেনি। তবে সংসদে বিরোধী দল বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে বিকল্প প্রস্তাব এলে সেটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও জানান তিনি।তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিচার বিভাগ নিয়ে প্রস্তাবসংবিধানের অন্যান্য সম্ভাব্য সংশোধনী প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটির বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে।তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও রূপরেখা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা এবং বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব প্রয়োজন। পরবর্তী পর্যায়ে এসব বিষয় সংসদে বিবেচনা করা হবে।দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়ে আলোচনাদ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে দেশকে একটি একক রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, সে প্রশ্নেও কেউ কেউ মতামত দিয়েছেন।তবে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় সরকার সেই অনুযায়ী এগোতে চায় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ।বিরোধী দলকে আলোচনায় আসার আহ্বানসংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ এবং ‘জুলাই সনদে’ তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গে বিশেষ কমিটির সভাপতি বলেন, আলোচনার দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত।গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটিতে তাদের প্রতিনিধির নাম অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদের কোনো বিষয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে সে জন্য তাদের প্রথমে আলোচনায় অংশ নিতে হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত