প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুই ভাই ধ্যান-জ্ঞান ফুটবল,জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখে তারা
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা গ্রামের আপন সহদোর ২'ভাই নুরুজ্জামান ও নূর ইসলাম। পড়ালেখার চেয়ে ফুটবলই তাদের যেন ধ্যান-জ্ঞান। ছোটবেলা থেকেই বই-খাতার চেয়ে মাঠেই তাদের সময় কাটতো বেশি। এজন্যই আজ নুরুজ্জামান দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ফুটবল খেলছেন।বড় ভাই নুরুজ্জামান এসএসসি পাশ করার পর পড়ালেখার ইতি টানলেও ছোট ভাই নূর ইসলাম আগামীতে এসএসসি পরীক্ষায় বসবে। তবে দুজনের স্বপ্ন একটাই - ফুটবল।নুরুজ্জামান বলেন, "বাগজানা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল কাদের স্যার ও প্রয়াত সেলিম মাস্টার আমাকে শুধু ফুটবল খেলাই শেখাননি, তাদের ভালোবাসা, শাসন ও উৎসাহেই আজ আমি এতদূর আসতে পেরেছি। বাগজানার গন্ডি পেরিয়ে পাঁচবিবি উপজেলা মাঠে খেলতে গিয়ে তাপস, কাজল ও রুহুল ভাইদের মতো মানুষের ভালোবাসা ও দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ পেয়েছেন তিনি। যার ফলশ্রুতিতে আজ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় অনুষ্ঠিত বড় বড় টুর্নামেন্টে মোটা অংকের পারিশ্রমিকে খেলেন নুরুজ্জামান।এক সময় নিজ গ্রাম বাগজানা মাঠে যাকে খেলতে দেওয়া হতো না, সেই নুরুজ্জামান এখন বড় বড় আসরে অনুষ্ঠিত ফুটবল খেলায় মাঠের রাইট সাইড ডিফেন্স নিয়ন্ত্রণ করেন। ক্ষিপ্র গতিতে বল নিয়ে ছুটে চলার জন্য ধারাভাষ্যকাররা তাকে "বুলডোজার নুরু", "টাইগার নুরু" বা "দ্রুত গতির নুরু" নামে ডেকে থাকেন। নুরুজ্জামান এখন উত্তরবঙ্গের তারকা ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। অনেক মাঠের ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে সে একাধিক পুরুস্কারও পেয়েন তিনি।অন্যদিকে তার ছোট ভাই নূর ইসলাম সাড়ে আট গজের গোলপোস্ট একাই সামলান। তিনি একজন দক্ষ গোলকিপার হিসেবে ইতিমধ্যে এলাকায় সুনাম কুড়িয়েছেন। জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এ ২'ভাই পাঁচবিবি উপজেলা দলের হয়ে অংশ নিয়েছেন। এবং সফলতাও এনে দিয়েছে দলকে।ঢাকার যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান এবং জাবিদ আহসান সোহেল ক্লাবের হয়ে কয়েক বছর অনেক ম্যাচ খেলেছেন নুরুজ্জামান। তবে তার চূড়ান্ত স্বপ্ন একদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের জন্য সেরা নৈপুণ্য উপহার দেওয়া।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত