প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সাতক্ষীরা আদালতে যুব নেতার নামে চাঁদাবাজি,শজিম্মি বিচারপ্রার্থীরা
সাতক্ষীরা আদালত প্রাঙ্গন এখন বিচারপ্রার্থীদের জন্য আতঙ্কের এলাকা হিসেবে পরিণত হয়েছে। মামলার ধার্য্য দিনে আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়া অনেক বিচারপ্রার্থী বিশেষ করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা এ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।সাতক্ষীরা আদালতের একাধিক দায়িত্বশীল আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্প্রতি তাদের কয়েকজন মোয়াক্কেল মহামান্য হাইকোর্ট থেকে অন্তবর্তীকালিন জামিন নিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদলতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। জামিন আবেদন না’মঞ্জুর হওয়ায় তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি পান। ২০ সেপ্টেম্বর (মামলা নং-জিআর-১৬২/২৪ আশা:) তারা আদালতে হাজিরা দিতে এলে আদালত চত্ত্বর থেকে কৌশলে তাদেরকে ডেকে নিয়ে আদালতের বাইরে মেইন রোড সংলগ্ন একটি বেকারী এ কনফেকশনারীতে নিয়ে যাওয়া হয়।যুব সংগঠনের নেতা পরিচয়ে সেখান থেকে তাদেরকে গাড়িতে তুলে নিয়ে অন্যত্র আটক রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন ধরিয়ে দিয়ে গুমের ভয় দেখিয়ে দুই দিন পর চাঁদা হিসেবে এক জনের (জনপ্রতিনিধি) কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা আদায় করা হয়। অপর একজনের কাছ থেকে (উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা) এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা আদায় করে আড়াই দিন পর ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর একজনের (শ্রমিক লীগ নেতা) কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করে দুই দিন পর আশাশুনির সোহাগ নামে এক যুব সংগঠনের নেতা তাকে সাতক্ষীরা থেকে মুক্ত করে নিয়ে যান।তাদেরকে আবারো আটকানো হতে পারে এমন আশঙ্কায় পরবর্তীতে ওই ক্ষতিগ্রস্তরা আদালতে না এসে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন দেন।দেড় মাস আগে আদালতের ভিতরকার পার্কের দক্ষিণ পাশ থেকে এক বিচারপ্রার্থীকে (কালিগঞ্জ) তুলে নিয়ে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় হাত ও পা ভেঙে দেওয়া হয়।আদালতে হাজিরা দিতে এসে আবারো নির্যাতন বা অপহরণের শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কায় ওইসব নির্যাতিত বা তাদের পক্ষের আইনজীবীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করতে চান না। এ অবস্থা শুধু আশাশুনি বা কালিগঞ্জের বিচারপ্রার্থীদের নয়। জেলার অধিকাংশ উপজেলার বেশ কয়েকজন বিচার প্রার্থীর। যে চক্রটি এ অপহরণ ও মুক্তিপণের সঙ্গে জড়িত তাদেও অনেককেই বিভিন্ন সময়ে আদালত চত্ত্বরে ঘুরতে দেখা যায়।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত