প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
নওগাঁয় প্রসূতির মৃত্যুতে আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলা
নওগাঁয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগে চিকিৎসকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে গজ কাপড় বের করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁ সদর ১ নম্বর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দেন।গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামিরা হলেন,অপারেশনকারী চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন (২৯), অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগকারী চিকিৎসক মো. আখেরুজ্জামান রবি (৩৩), মেট্রো হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মো. রিপন আলী (৩৭), অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ মোছা. সালমা বিবি নাজমা (৩২), রোগীর দালাল মো. রাশেদুল ইসলাম হিরু (৩৩) ও মো. নাহিদ বাবু (২২)।মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল নওগাঁ শহরের দক্ষিণ সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা প্রসূতি রাহী মুনী সন্তান প্রসবের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে এক দালাল তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বেসরকারি হাসপাতালে ভালোভাবে সিজারিয়ান অপারেশন করানোর কথা বলেন। পরে ৮ হাজার টাকায় চুক্তি করে তাঁকে শহরের মেট্রো হাসপাতালে নেওয়া হয়।মেট্রো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ওই দিন সন্ধ্যায় রাহী মুনীর প্রসববেদনা শুরু হয়। রাতে চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। এ সময় হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অস্ত্রোপচারে সহযোগিতা করেন।অস্ত্রোপচারের পর থেকেই রাহী মুনীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে পরদিন তড়িঘড়ি করে তার পেটে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই সময় পেটের ভেতর থেকে গজ কাপড় বের করে পুনরায় সেলাই করে দেওয়া হয়।তবে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারের পরও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাহী মুনীকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তে নওগাঁর সিভিল সার্জন মেট্রো হাসপাতালে সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, মেট্রো হাসপাতালটি অনিবন্ধিত।ঘটনাটি নিয়ে ‘প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই, পরে রোগীর মৃত্যু’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ আদালতের নজরে এলে ১৩ এপ্রিল নওগাঁ সদর ১ নম্বর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি আমলে নেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে প্রতীয়মান হওয়ায় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন।মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। আদালত পিবিআই পুলিশ সুপার, নওগাঁকে পোস্টমর্টেম রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাদের সুনির্দিষ্ট নাম-ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।পরে পিবিআই তদন্ত শেষে গত ২২ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বুধবার ধার্য তারিখে মামলার ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত