প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬
৭০ বছরের বৃদ্ধের পাশে শেরপুরের ইউএনও সাইদুজ্জামান হিমু
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, চোখে চরম অনিশ্চয়তার ছাপ। আক্ষরিক অর্থেই আহার জোগানোর শক্তি আর ছিল না ৭০ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল জব্বার মণ্ডলের। অভাবের নির্মম কষাঘাতে কয়েক দিন ধরেই তাঁর পরিবারে চলছিল চরম অনাহার-অর্ধাহার। জীবনসংগ্রামের শেষ প্রান্তে এসে যখন নীরব আর্তনাদ ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না, ঠিক তখনই একটি ফেসবুক পোস্ট বদলে দিল দৃশ্যপট। কোনো দীর্ঘ প্রশাসনিক আমলাতন্ত্র নয়, কেবল সামাজিক মাধ্যমের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এক অনাহারী পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ালেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু।ঘটনাটি শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ী গ্রামের। দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা আব্দুল জব্বারের পরিবারের জন্য সম্প্রতি নিত্যদিনের খাবার জোড়ানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সাংবাদিক আইয়ুব আলী তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক ওয়ালে বৃদ্ধ জব্বারের করুণ চিত্র তুলে ধরে একটি পোস্ট দেন।ফেসবুকের সেই পোস্ট নজরে আসতেই আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি শেরপুরের ইউএনও। দ্রুততম সময়ে তিনি সত্যতা যাচাই করেন এবং পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ইউএনও সাইদুজ্জামান হিমুর বিশেষ উদ্যোগে আব্দুল জব্বারের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় দুই প্যাকেট জরুরি খাদ্যসামগ্রী।স্বাদ ও পুষ্টির কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিটি প্যাকেটে চাল, ডালসহ মোট ১৪ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই উপহার দিয়ে পরিবারটি আগামী অন্তত দুই মাস অনায়াসে ও নির্বিঘ্নে জীবনধারণ করতে পারবে।জরুরি খাদ্যসহায়তা হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ আব্দুল জব্বার ও তাঁর স্বজনেরা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে একপর্যায়ে বাকরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, “পেটে ভাত ছিল না, আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। সরকারি বড় অফিসার নিজেই আমাদের খবরের খোঁজ নিয়ে খাবার পাঠাবেন তা স্বপ্নেও ভাবিনি।”স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, শুধু প্রথাগত সরকারি দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা। শেরপুরে যোগদানের পর থেকেই তিনি সাধারণ ও দুস্থ মানুষের বিপদে আপদে অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসহায় মানুষের আকুতি দেখলেই সরেজমিনে গিয়ে কিংবা লোক মারফত সহায়তা নিশ্চিত করায় ইতোমধ্যে সর্বমহলে তিনি ‘মানবিক ইউএনও’ হিসেবে ব্যাপক প্রশংসিত ও পরিচিত লাভ করেছেন।উপজেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ইউএনও’র এমন কাজকে প্রশাসনিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তা যখন প্রথাগত চেইন-অব-কমান্ডের বাইরে গিয়ে কেবল মানবিক তাগিদে সরাসরি প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ান, তখন প্রশাসনের প্রতি আমজনতার আস্থার জায়গা বহুগুণ মজবুত হয়। একই সঙ্গে এটি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও অসহায়দের সহায়তায় এগিয়ে আসতে মানসিকভাবে উৎসাহিত করবে। সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের মৌলিক সংকট মোচনে এমন সংবেদনশীল উদ্যোগ শেরপুরে মানবিক ও সুশাসনের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত