প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের প্রার্থী করার নির্দেশ -প্রধানমন্ত্রীর
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়, জনসমর্থনসম্পন্ন ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের প্রার্থী করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারদলীয় সংসদীয় দলের সভাপতি তারেক রহমান। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতেও সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া সরকারদলীয় সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় ঐক্য, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য দেন। আগামী নির্বাচনে ভালো ফল অর্জনের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় অংশ নেওয়া একজন প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনে জিততে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের প্রার্থী করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।সভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ ২০ জনের বেশি সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে।বৈঠকে গত সাত মাসে সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ উদ্যোগে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কর্মসূচি পালনের পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।সভায় সংসদ সদস্যদের স্বৈরাচারী আচরণ থেকে বিরত থাকার এবং জনগণের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ বা চাঁদাবাজিতে জড়ালে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।সভায় রাড্ডা ঘটনার অভিযোগে অভিযুক্ত দলের এক নারী সংসদ সদস্যের পদত্যাগের প্রসঙ্গও উঠে আসে বলে জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন সংসদ সদস্য। এ সময় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হন।আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। পূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের সহিংসতা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।বৈঠকে দেশের অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা এবং অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য। এ পরিস্থিতিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সতর্ক থাকা এবং সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।আগামী ৮ নভেম্বর থেকে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হতে পারে বলেও সভায় জানানো হয়েছে। অধিবেশন শুরুর আগে আবারও সরকারদলীয় সংসদীয় দলের সভা আয়োজনের কথা রয়েছে।সভা শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থী দেবে বলেও জানান তিনি। সরকারের কার্যক্রমের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।চিফ হুইপ আরও জানান, আগামী মাসে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আবার বসবে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত