প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
আক্কেলপুরে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় অবৈধ ছ'মিল ও কাঠের কারখানা
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের হাজীপাড়া গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে ছ'মিল (করাতকল) ও শব্দদূষণকারী কাঠের কারখানা স্থাপনের প্রতিবাদে এবং তা দ্রুত অপসারণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আক্কেলপুর (পুরাতন বাজার) এলাকার বাসিন্দা মো.সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো.আবু ইউসুফ সাকিরুল ইসলাম,হাজীপাড়া গ্রামের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অননুমোদিতভাবে এই ছ'মিল ও একাধিক কাঠের মেশিন স্থাপন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মৌজা- আক্কেলপুর, এসএস খতিয়ান ৩৮২, দাগ ২৫৭, আরএস খতিয়ান ৯৩১ এবং দাগ ১৫৯-এর জায়গায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আক্কেলপুর-বদলগাছী সড়কের উত্তর পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, জয়পুরহাটের প্রায় ১১ শতাংশ সরকারি জমি ব্যবহার করে বিকট শব্দে কাঠ কাটার কাজ চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছ'মিলটির পূর্ব পাশে সরকারি জমিতে একাধিক শৌচাগার (টয়লেট) নির্মাণ, গাছের গুঁড়ি এবং খড়ির স্তূপ করে পথ চলাচলে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত ছ'মিল ও কাঠের মেশিনের বিকট ও অসহনীয় শব্দের কারণে আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সেই সাথে কাঠ কাটার গুঁড়া ও ধূলিবালি বাতাসে উড়ে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাবাসী শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উল্লেখ্য, উক্ত ছ'মিল সংলগ্ন এলাকায় ৩টি মসজিদ, ৪টি মাদ্রাসা, ১টি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৫০টিরও বেশি বসতবাড়ি রয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ছ'মিলটি প্রতিষ্ঠার পূর্বেই এলাকার পক্ষে প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ ও সমাজসেবক মো. ওয়াজেদ আলী পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তবে বিবাদীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং বন বিভাগ ও পরিবেশ অফিসের কিছু কর্মকর্তাকে বিভ্রান্ত করে অবৈধভাবে এ কার্যক্রম চালু রেখেছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এ বিষয়ে হাজী পাড়া গ্রামের পক্ষে ফরিদ আহমেদসহ স্থানীয় বাসিন্দারা সরজমিনে তদন্তপূর্বক অবৈধ ছ'মিল ও কাঠের মেশিনগুলো দ্রুত অপসারণ করে জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের জরুরি ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।ছ”মিলের মালিক আবু ইউসুফ সাকিরুল ইসলাম বলেন,এলাকাবাসীর অনুমতি ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিয়ে ছমিল স্থাপন করেছি। আইনগতভাবে আমার ছ’মিলটি চলছে। কারো সমস্যা হচ্ছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। জয়পুরহাট পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: ফারুক হোসেন বলেন,এবিষয়ে একটি আবেদনপত্র পেয়েছি। আবাসিক বা ঘনবসতি এলাকায় ছমিল স্থাপন করা যাবে না। ছমিলটি অপসারণ করে অন্য জায়গায় নেবার জন্য মালিককে আমরা নোটিশ পাঠিয়েছি। আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আশিক-উর রহমান এবিষয়ে বলেন,এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি আবেদন পেয়েছি। উপজেলা কৃষি অফিসারকে আহবায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত