প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
সাংবাদিকদের ফ্যাসিস্ট বললেন বালু ব্যবসায়ী আলমগীর
সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরন, ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও সাংবাদিকদের নিয়ে নানা কটুক্তি করার অভিযোগ উঠেছে সাঘাটার বিডিআর বিদ্রোহে চাকরিচ্যুত ও বালু ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে । সোমবার দুপুরে সাঘাটার দক্ষিণ সাথালিয়ায় সাঘাটা প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিক নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য মাঝিপাড়া পশ্চিম পাড়ার রাস্তার ব্রহ্মপুত্র ডান তীর বাধের উপরে পৌঁছায়। এসময় পেছন থেকে ঐ এলাকায় বসবাসরত কথিত সাব ঠিকাদার ও অবৈধ বালু ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের পথরোধ করে সংবাদ কাজের তথ্য সংগ্রহে বাধার সৃষ্টি করে। এসময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অসৌজন্যমূলক শব্দ প্রয়োগ করেন। সাংবাদিকরা অসদাচরণের কারণ জানতে চাইলে কথিত এ সাব ঠিকাদার ও বালু ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে পূর্বের প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সংবাদে ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে তাৎক্ষণিকভাবে ওসব সংবাদের তথ্য প্রমান তার নিকট দাখিল করার জন্য সাংবাদিকদের বাধ্য করার চেষ্টা করেন। ঘটনার এক পর্যায়ে কথিত এ সাব ঠিকাদারের বিভিন্ন অনিয়ম ও সুবিধামতো দল পরিবর্তন করার বিষয়ে কিছু প্রমাণ দেখিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি এ জবাবে চটে গিয়ে বলতে শুরু করেন, ‘আপনার নাম রেজোয়ান না? আপনি তো ফ্যাসিস্টের এক নম্বর দালাল।’এসময় পাশে থাকা সাংবাদিকরা, ফ্যাসিস্ট বলার কারণ জানতে চাইলে কোনো সদুত্তোর না দিয়ে মারমুখী আচরণের মাধ্যমে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান কথিত এ সাব ঠিকাদার ও চাকরিচ্যুত সাবেক বিডিআর সদস্য আলমগীর। শুধু তাই নয়, মারমুখী ও অসৌজন্যমূলক আচরনের ভিডিও ধারণ করার জন্য সাংবাদিকরা স্ব-স্ব ক্যামেরা চালু করার চেষ্টা করলে এ বালু ব্যবসায়ী ও সাব ঠিকাদার তেড়ে গিয়ে দু’হাত দিয়ে ফুটেজ ধারনে বাধার সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের সংবাদ কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা ধরে টানা হেঁচড়া করেন।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পক্ষে আনছারুজ্জামান রেজুয়ান জানান, ‘এ বালুব্যবসায়ী নিজ অপরাধ ঢাকতে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে মব সৃষ্টির কৌশল অবলম্বন করেছিল। তবে স্থানীয় ’এ ঘটনার বিষয়ে সাঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে জানান, সংবাদ কাজে বাধা দিয়ে কারোও অপরাধ ঢাকা যায় না। এ বিষয়ে তিনি আরও জানান, ‘সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া আইনত অপরাধ। আমরা এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি’প্রসঙ্গত, চাকরিচ্যুত ও সাব ঠিকাদার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে কয়েক বছর যাবৎ যমুনা নদীর বালু উত্তোলন ও গোপনে বিক্রির অভিযোগ সর্বত্রে চাওড়। এছাড়াও সূত্রমতে, তার এসমস্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময়ে তিনি ৪ এর অধিক চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলায় বিভিন্ন ব্যক্তিদের ফাঁসিয়েছেন। বিবাদীদের দেওয়া তথ্যে ও মামলার রায় সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি মামলাই অবশেষে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত