প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
রায়ের পরেও জমি নিয়ে বিরোধ,ধান আবাদে বাধা
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। আদালতে মামলা, নিষেধাজ্ঞা,প্রশাসনিক পর্যায়ে শুনানি ও একাধিকবার পুলিশের হস্তক্ষেপের পরও বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছে জমির দাবিদার মো.বারকাত আলী ও তাঁর স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ,বিরোধপূর্ণ জমিতে আমন ধানের আবাদ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে জমিটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।বুধবার(২১ অক্টোবর)দুপুরে রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব কন্সফারেন্স রুমে জমির মালিক ও স্বজনদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জমির মালিক বারকাত আলী। এ সময় ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হওয়া ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বারকাত আলী বলেন,উপজেলার উমরাডাঙ্গী পদমপুর এলাকার বিরোধপূর্ণ জমির সিএস রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন হাবিল মোহাম্মদ। পরবর্তী সময়ে তাঁর দুই সন্তানের নামে এসএ রেকর্ড হয়। এসএ রেকর্ডে জমির শ্রেণি ছিল ‘দলা’ এবং পরবর্তী আরএস রেকর্ডে শ্রেণি দেখানো হয় ‘জলাশয়’। জমিটি ১৯৬৪ সাল থেকে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে কিনে তাঁরা দীর্ঘদিন ভোগদখলে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষ জমিটিকে শ্মশানের জমি দাবি করে তাঁদের জমি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে ২০১৩ সালের ১৮ অক্টোবর ঠাকুরগাঁওয়ের আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা করেন তাঁরা। মামলাটি ৩৭/১৩ নম্বরের বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।বারকাত আলীর অভিযোগ, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে স্থানীয় থানায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী আপস হয়। আপসের শর্ত অনুযায়ী, ৭৫ শতক জমির মধ্যে ১৫ শতক শ্মশানের ব্যবহারের জন্য, ২৫ শতক দ্বিতীয় পক্ষের সাধারণ ভোগদখলের জন্য এবং ৩৫ শতক বারকাত আলী গংয়ের দখলে রাখার কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ ও জমির আকৃতি পরিবর্তন না করার শর্ত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।বারকাত আলীর ভাষ্য, আপসনামায় আদালতের মামলার চূড়ান্ত রায় যার পক্ষে যাবে, তাঁকে জমি ছেড়ে দেওয়ার শর্তও ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ওই সমঝোতা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমির ৩৫ শতক অংশে মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।বারকাত আলীর দাবি, ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট তাঁরা মামলায় ডিক্রি পান। পরে জমির দখল বুঝে পাওয়ার জন্য আদালতের আশ্রয় নেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের মাধ্যমে ৩৭ শতক জমির দখল পেলেও অবশিষ্ট ৩৫ শতক জমিতে স্থাপনা থাকায় তা বুঝে পাননি।তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ওই স্থাপনার ভিত্তি ভেঙে তাঁরা পুনরায় জমির দখল নেন। তবে পরবর্তী সময়ে প্রতিপক্ষ আবারও জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিরোধ নতুন করে দেখা দেয়।বারকাত আলীর অভিযোগ, ২০২৬ সালের ৪ জুলাই সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে তাঁর ছেলে মোকসেদুল ও ভাতিজা সাহেব সেখানে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁর ভাতিজাকে মারধর করে অচেতন অবস্থায় শ্মশানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানান বারকাত আলী। উভয় পক্ষের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে জমিতে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ওই নির্দেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষের লোকজন জমিতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ তাঁর।তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে ঠাকুরগাঁও -৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ এর কাছে গেলে তাঁকে জানানো হয়, উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় তিন মাস ধরে তাঁরা হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং জমিতে আমন ধান আবাদ করতে পারেননি বলে দাবি করেন বারকাত আলী।বারকাত আলীর অভিযোগ, প্রতিপক্ষ আদালতের রায় কিংবা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত—কোনোটিই মানতে রাজি নয়। তাঁরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে হুমকি দিচ্ছেন।দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে জমির ব্যবহার ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে বারকাত আলী ও তাঁর স্বজনেরা আইনানুগভাবে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি চান। তাঁদের দাবি, আদালতের রায় ও প্রযোজ্য আইন অনুসরণ করে বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা ও দখল নির্ধারণ করা হোক এবং উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত