প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
মাদারগঞ্জে ৬শ টাকা মণ কাঁচামরিচ,কৃষকরা দাম না পেয়ে হতাশ
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এবার বেড়েছে মরিচের আবাদ। নানান প্রতিকুলতা কাটিয়ে মরিচ উৎপাদন করেও ভরা মৌসুৃমে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশায় ভোগছে এই উপজেলার মরিচ চাষিরা।বর্তমানে মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫/১৭ টাকা দরে। এই দামে মরিচ বিক্রি করে কৃষকরা খরচের টাকাও তুলতে পারবেনা বলে জানিয়েছেন মাদারগঞ্জ উপজেলার অনেক মরিচ চাষি। মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের চর শুভগাছা গ্রামের মরিচ চাষি শিপন জানান, এবার সার,কীটনাশক, সেচের বেশী মূল্যের কারণে কৃষকদের বিঘাপ্রতি মরিচ চাষ করতে ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মরিচের যে বাজার মূল্য তা দিয়ে খরচ উঠবে না ফলে কৃষকরা এবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর শুভগাছা গ্রামের রাসেল খান জানান, ‘ক্ষেত থেকে মরিচ তোলা শুরু করেছি। প্রথম দিকে ভালো দাম পেলেও বর্তমানেপাইকারি বাজারে মরিচের ভালো দাম পাচ্ছি না। আজ শুক্রবার( ৬ নভেম্বর) উপজেলার সর্ববৃহৎ কাঁচা মরিচের হাট গাবের গ্রামে হাটে পাইকারী বাজারে ১৫ টাকা কেজি অথাৎ ৬শ টাকা দরে প্রতিমণ মরিচ বিক্রি হচ্ছে। এই দামে মরিচ বিক্রি করে কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। মরিচ চাষিরা হতাশায় পড়েছে। উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের মরিচ চাষি আব্দুল খালেক বলেন, পলিমালচিং পদ্ধতিতে তিন বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল ময়নামতি জাতের মরিচ চাষ করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার মরিচ চাষে খরচ বেড়েছে অনেক। জমি চাষ, সেচ, বীজ, সার-কীটনাশক, যাতায়াত ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি সার নিয়ে অতিরিক্ত ভোগান্তিও যোগ হয়েছে। বাজার ভালো দাম না পেলে ড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়বেন। মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে আগাম মরিচ চাষ হয়েছে ৩০০ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া পলিমালচিং পদ্ধতিতে ২৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করেছেন কৃষকেরা। এখানে বিভিন্ন জাতের মরিচগুলোর মধ্যে - ময়নামতি, গ্রিন সুপার, নাগা ফায়ার, বিজলি, গ্রিন স্টার, সুপার ও প্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন জাতের উন্নত ফলনশীল মরিচের আবাদ হয়েছে বেশি । এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মরিচের আবাদ হওয়ায় এবার উপজেলায় কাঁচা মরিচের উৎপাদন ৪২ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। মাদারগঞ্জের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত মরিচ ঢাকা, সিলেট,চট্রগ্রাম,নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মরিচ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে দুই শতাধিক কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পলিমালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত