প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ফেসবুক পোষ্টে ২৬ বছর পর নুর আলম ফিরে পেলেন পরিবার
ময়মনসিংহের সদর উপজেলার পান্ডাপাড়া গ্রামের মোঃ চাঁন মিয়া ও মোসা.আবেদা খাতুনের ছেলে আলী হোসেন ২৬ বছর আগে মানষিক ভারসাম্যহীন পরিবারের অজান্তে বাড়ী থেকে বের হয়ে আর ফিরেন নাই দীর্ঘ সময়। পথ পরিক্রমায় মধুখালীতে পৌছে যান নুর আলম। দুর্ভাগ্য বসত বাড়ীর ঠিকানা এমনকি নিজের নাম পর্যন্ত বলতে পারেন নাই। কোথা থেকে এসেছেন কোথায় তার পরিবার? মধুখালীতে বিভিন্ন হোটেল অথবা বাসা বাড়ীতে বিনা পারিশ্রমিকে খাবারের বিনিময়ে কাজ করেছেন সে। দীর্ঘ সময় মধুখালীতে অবস্থানের কারনে নিজের নাম হারিয়ে স্থানীয়দের দেওয়া নাম নুর আলমেই সে পরিচিতিপান। শারিরিক ও মানুষিক অবস্থার অবনতি হলে বেরিয়ে আসেন রাস্তায় অথবা খোলা আকাশের নিচে। মধুখালীর স্থানীয় দয়াবান মানুয়ের দয়ায় চিকিৎসা এবং খাবার চলতে থাকে। এ বছরের অক্টোবর ২০২৬খ্রি. দৈনিক মানবকন্ঠের মধুখালী প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক শাহজাহান হেলাল তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে নুর আলমের ছবিসহ একটি আবেগঘন পোষ্ট দেন। পোষ্টটি পৌছে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। খোঁজ আসতে থাকে বিভিন্ন জেলা থেকে। এ প্রতিনিধির মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে নুর আলমের দাবীতে পরিবার ও স্বজনেরা ফরিদপুরের মধুখালী রেলগেট এলাকায় আসেন এবং নুর আলমকে বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তান নয় বলে ফিড়ে যান। অবশেষে আসে সেই মহেন্দ্রক্ষণ ৭ নভেম্বর ২০২৬খ্রি. শনিবার। নুর আলমের দাবীদার তার পরিবার ময়মনসিংহ থেকে আসেন মধুখালী রেলগেট এলাকায় খোঁজেপান তাকে। তারা দাবী করেন ২৫/২৬বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তাদের মোঃ আলী হোসেনই আজকের নুর আলম। তাদের দাবীর বিপরিতে ময়মনসিংহ জেলার সদরের ১নং অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক আরমানের প্রদেয় প্রত্যয়নপত্র ও মোবাইলে যোগাযোগ করে নুর আলম বা মোঃ আলী হোসেনের পরিবারের ও মোঃ আলী হোসেনের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মধুখালী সার্কেল এসএম মাসুদুজ্জামান ও মধুখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকদেব রায়ের পরামর্শক্রমে এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে পরিবারের কাছে তাকে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় রেলগেট এলাকায় মোঃ আলী হোসেনের পরিবারের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সুষ্টি হয়। তারা দৈনিক মানবকন্ঠের মধুখালী প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক শাহজাহান হেলালসহ স্থানীয়দের ধন্যবাদ ও কৃজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় মোঃ আলী হোসেনের পরিবারের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পুলিশ সদস্য মোঃ তারিকুল ইসলাম,বড় বোন হোসনেয়ারা বেগম,বড় দুলাভাই মোঃ আবু বক্কার সরদার,মামাতো ভাই ইমরান মীর,ভাতিজা মজনু মিয়া ও মোঃ আলী হোসেনের সন্তান মোঃ মানিক মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত