প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫
বাঘায় গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য
রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার মিলিক বাঘা গ্রামে আগুনে পুড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য ও রহস্য। নিহত গৃহবধূ অনন্যা ওরফে মুন্নি (২৩)-এর মৃত্যুকে তার পরিবার দাবি করছে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে, তবে স্বামীর পরিবারের দাবি—তিনি আত্মহত্যা করেছেন।শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুন্নি মারা যান। এর আগের দিন ভোরে তার শরীরে আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটে। রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে শোকের মাতমে ভেঙে পড়ে পুরো এলাকা। বাদ আসর নামাজের পর তাকে বাঘা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।নিহত মুন্নির মা মনোয়ারা বেগম জানান, “আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ঘটনার আগের দিন দুপুরে ফোনে কথা বলার সময় মুন্নি কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, ‘আমি আর নির্যাতনের যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি না মা।’”পরিবারের দাবি, মুন্নির স্বামী সুরুজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং যৌতুকের জন্য চাপ দিতেন। প্রায়ই তিনি মুন্নিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। মুন্নির বাবা মাসুদ রানা বলেন, “আমার মেয়েকে নির্যাতন করে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা আত্মহত্যা হতে পারে না।”অন্যদিকে, মুন্নির শ্বশুর সহিদুল মাঝি দাবি করেন, “মুন্নি নিজেই ডিজেল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আমরা দরজা ভেঙে ঢুকে আগুন নেভাই।”তবে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা মুন্নিকে আংশিক বিবস্ত্র ও দগ্ধ অবস্থায় লুঙ্গি দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখেছেন। তাদের ধারণা, ঘটনাস্থলে আরও লোকজন উপস্থিত ছিলেন, এবং পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে।নিহতের ভাই মিঠু জানান, ঘটনার দিনই তিনি বাঘা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৪৫) করেন এবং এখন হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ ফ ম আছাদুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”মুন্নির মৃত্যুর পর স্থানীয় এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। কেউ বলছেন, পারিবারিক নির্যাতনের জেরে এটি পরিকল্পিত হত্যা; আবার কেউ মনে করছেন, মানসিক চাপে পড়ে মুন্নি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত