প্রকাশের তারিখ : ২২ নভেম্বর ২০২৫
নওগাঁয় সাবেক স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ
নওগাঁয় সাবেক স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মচারী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অপমান সইতে না পেরে ভুক্তভোগী নারী দুই দফায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা গেছে।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ( ১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রমাণাদিসহ মামলা করতে নওগাঁ সদর মডেল থানায় গেলে দায়িত্বরত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামলা গ্রহণ না করে কেবল একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। অভিযোগ দেওয়ার ৭ দিন পার হলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের ওবাইদুর রহমানের মেয়ের সঙ্গে ধর্মীয় মতে বিয়ে হয় রাণীনগরের পারইল গ্রামের দবির উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেনের। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।এরপর সংসার জীবনে যৌতুকের দাবিসহ নানা বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে। স্ত্রীকে নিয়মিত নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। একপর্যায়ে আনোয়ার স্ত্রীকে তালাক দেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী আদালতে যৌতুক ও দেনমোহর আদায়ের মামলা দায়ের করেন। মামলা চলমান অবস্থায় সাবেক স্বামী আনোয়ার বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন।ভুক্তভোগীর দাবি, দাম্পত্য জীবনে ভিডিও কলে কথা বলার সময় কৌশলে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে রাখেন আনোয়ার হোসেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেন। তিনি রাজি না হলে ভিডিওগুলো ইমু অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর বাড়ির এলাকার একাধিক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দেন।এতে সামাজিকভাবে ব্যাপক মানহানি হওয়ায় ভুক্তভোগী মানসিক চাপে দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসা করান। বর্তমানে সন্তানসহ বাবার বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় দিনযাপন করছেন তিনি।ভুক্তভোগী জানান, গত ১৩ নভেম্বর থানায় মামলা দিতে গেলে ওসি মামলা না নিয়ে অভিযোগ দিতে বলেন। পরে রবিবার অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও ছয় দিন পার হয়ে গেলেও কোনো তদন্ত কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। এতে তিনি ও তার পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।আনোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো ভিডিও ভাইরাল করিনি। তার তিনারাই এমনটি করতে পারে।নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ভিডিওটি যেহেতু একটি ইমু অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো হয়েছে, অ্যাকাউন্টটি শনাক্ত ছাড়া মামলা নেওয়া সম্ভব নয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত চলছে।তিনি আরও বলেন, হঠাৎ কেউ এসে কারো নামে মামলা দিতে চাইতেই পারে। তাই সত্যতা যাচাই করে ঘটনার উৎস বের করার পরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত