প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
নওগাঁয় তেল সংকটে কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাত দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলেছে। দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে নওগাঁর মোটরসাইকেল বিক্রিতেও। আগের মতো নেই কোন বেচাকেনা। চলমান যুদ্ধের ফলে জেলায় মোটরসাইকেল বিক্রি কমে এসেছে প্রায় কয়েকগুন। এছাড়া তেল সংকটের কারণে অনেকেই কিনছেন না এই মূহুর্তে মোটরসাইকেল। মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের দাবি,যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে দিনে ৭-৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে শূন্যে। সারাদেশে তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না কোন মোটরসাইকেল। আবার কিছু পাম্পে মোটরসাইকেলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া তেল দিচ্ছে না। যার কারণে অনেকেই সার্ভিসিংয়ের জন্য গাড়ি বের করছেন না। চলমান এই পরিস্থিতিতে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।সোমবার (৩০ মার্চ) নওগাঁ শহরের বিভিন্ন মোটরসাইকেল শোরুম ঘুরে দেখা যায়, শোরুমগুলোতে নেই কোন ক্রেতা। আবার সার্ভিসিং সেন্টারগুলোতেও সেভাবে আসছে না কোন মোটরসাইকেল। ফলে অবসর সময় পার করছেন এখানে কর্মরতরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিএ) নওগাঁ কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলায় মোট নিবন্ধনকৃত মোটরসাইকেল রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। এছাড়া আরও প্রায় ১ লাখ মোটরসাইকেল অনিবন্ধিত রয়েছে। জেলার ১১ টি উপজেলায় প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল বিক্রয়ের দোকান রয়েছে। নওগাঁর তালতলী এলাকার স্কুল শিক্ষক নাসির হায়দার বলেন, দীর্ঘদিন টাকা জমিয়ে রেখে ঈদের আগে একটি মোটরসাইকেল কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি তাতে আর মোটরসাইকেল কেনার সাহস পাচ্ছি না। তেলের পাম্প গুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখে মোটরসাইকেল কেনার চিন্তা আপাতত স্থগিত রেখেছি। জানিনা এ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে। হিরো মোটরসাইকেলের ডিলার ও নওগাঁ পল্লী এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঈদের তৃতীয় দিনের পর থেকে একজন কাস্টমার ও দোকানে আসেনি। চলমান পরিস্থিতির আগে দিনে ৫-৭টা মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এখন কোন মোটরসাইকেল বিক্রি নেই। অন্যান্য বছর ঈদে ৩০০-৪০০ পিস মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। কিন্তু এ বছর তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় মাত্র ১০০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। আমার এখানে ২৮ জন লোক কর্মরত রয়েছে। শোরুম পরিচালনা থেকে তাদের বেতনসহ প্রতিদিন গড়ে ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। এখন কোন মোটরসাইকেল বিক্রি নাই। খরচ উঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। নওগাঁ আরিস মোটরস এর স্বত্বাধিকারী মোতাহার হোসেন বলেন, আমরা এসিআই ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বিক্রি করি। ৯ বছরের ব্যবসায় জীবনে এ বছর সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। এবার ঈদে টার্গেট ছিল ২৫০ টা মোটরসাইকেল বিক্রি হবে। কিন্তু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মাত্র ১১০ টা মোটরসাইকেল বিক্রি করতে পেরেছি। সার্ভিসিং এর জন্য কোন গাড়ি আসছে না। সার্ভিসিং এর জন্য কাউকে ফোন দেওয়া হলে বলে তেল কিনে দেন আমরা গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক মোটরসাইকেল চালক মোটরসাইকেল বাড়ি থেকে বের করছেন না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের চরম লোকসানের মধ্যে পড়তে হবে। নওগাঁ টিভিএস বাইক ওয়ার্ল্ডের সেলস এক্সিকিউটিভ সাদনান আনসারী বলেন, চলমান এই পরিস্থিতির পর থেকে সার্ভিসিংয়ে কোন গাড়িই আসছে না। আগে দিনে ২৫-৩০ টা গাড়ি আসলেও এখন দিনে এক থেকে দুইটার বেশি আসেনা। মানুষ ঠিকমতো তেল পাচ্ছে না, গাড়ি নিয়ে কিভাবে আসবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিএ) নওগাঁর মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন,আমরা সচরাচর তিন মাস পরপর ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা নিয়ে থাকি। আমরা একসাথে ২০০-৩০০ জনের ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা নেই। বিভিন্ন জেলাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ছাড়া তেল না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ড্রাইভিং লাইসেন্সে এখনো সেভাবে কোন চাপ লক্ষ্য করা যায়নি। তবে মাস খানেক গেলে সেটি হয়তো বুঝা যাবে।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত