প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
জয়পুরহাটে প্রতিবন্ধী কৃষকের শতাধিক ফলন্ত কলাগাছ কর্তন
সদর উপজেলার হাতিল মাংনিপাড়া গ্রামে প্রতিবন্ধী কৃষক মাসুদ রানার শতাধিক ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ভাই ছানোয়ারের বিরুদ্ধে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে কলাবাগানে ঢুকে এসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এতে তার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।ভুক্তভোগী মাসুদ রানা জানান, তার পিতা মৃত হারেজ আলীর পৈতৃক সম্পত্তির অংশ হিসেবে মাগনী মৌজার খতিয়ান নং-১০, দাগ নং-৬৩-তে মোট ১১ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমি বিক্রির কথা বলে তার ছোট ভাই ছানোয়ারের কাছ থেকে তিনি ৮০ হাজার টাকা বায়না নেন। এরপর থেকে তিনি নিজেই ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন।মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার ভাই ছানোয়ার ওই বায়নার টাকা ফেরত না দিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় তার কলাবাগানে ঢুকে ফলসহ শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলা হয়।তিনি বলেন, কলাবাগানের অধিকাংশ গাছই ছিল ফলন্ত। দীর্ঘদিন পরিচর্যা করে গাছগুলো বড় করেছিলেন তিনি। গাছে ফলও ধরেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে ফেলায় তার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একজন প্রতিবন্ধী কৃষক হিসেবে কৃষিকাজই তার আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস বলেও জানান তিনি।মাসুদ রানা আরও বলেন, জমি বিক্রির কথা বলে ৮০ হাজার টাকা বায়না নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা ফেরত না দিয়ে এখন জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার কলাবাগানের শতাধিক ফলন্ত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাতিল মাংনিপাড়া গ্রামের ওই জমিতে মাসুদ রানা কলাগাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য চাষ করে আসছিলেন। রাতের কোনো এক সময় কলাবাগানের গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, গাছ কাটার ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে ছানোয়ারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী ফোনটি রিসিভ করেন। তিনি বলেন, আমার স্বামী বাজারে গেছে। জমির বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।এ বিষয়ে ছানোয়ারের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী মাসুদ রানা এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কলাগাছের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে সাথে সাথেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে দায়িত্ব দিয়েছি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত