সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত, ডিলার পর্যায়ে অনিয়ম বন্ধ এবং সুষ্ঠু সার বিতরণ ব্যবস্থার দাবিতে বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
রংপুরের বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতি বদরগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত, ডিলার পর্যায়ে অনিয়ম বন্ধ এবং সুষ্ঠু সার বিতরণ ব্যবস্থার দাবিতে বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির মানববন্ধন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
সংগঠনটির উপজেলা আহবায়ক রতন কুমার মোহন্ত বলেন, আমাদের জেলার কৃষকরা বর্তমানে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে সারের সংকট নেই বলা হলেও মাঠ পর্যায়ে অনেক কৃষকের অভিযোগ—অনুমোদিত ডিলারের দোকানে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না; অথচ বেশি দাম দিলে খোলাবাজারে সার পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ দুলাল মন্ডল বলেন, সম্প্রতি কুড়িগ্রামে কৃষকেরা ডিলারের গুদামে সার না পেয়ে জোটবদ্ধ হয়ে গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সারাদেশের আমাদের জেলাতেও কৃষকরা হতাশ ও বিক্ষুব্ধ। চাষাবাদের ভরা মৌসুমে এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা কাম্য পরিস্থিতি নয়। এমন ঘটনা কৃষকের অসহায়ত্ব ও বিতরণ ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
তাই আমরা এ সংকটকে মোকাবেলায় দাবী ও প্রস্তাব তুলে ধরছি-সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আশু দাবী ও প্রস্তাব:১. প্রত্যেক কৃষকের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার সময়মতো নিশ্চিত করতে হবে। ২. ডিলারের কাছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বরাদ্দকৃত সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে কিনা,তা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে যাচাই করতে হবে। ৩. কোন ডিলারকে কত সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কত সার বিক্রি হয়েছে,এই তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ৪. গুদামে সার রেখে দোকানে ‘সার নেই’ বলা এবং পরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করতে হবে। ৫. সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতেহ হবে। ৬. কৃষককে সার কেনার সময় বাধ্যতামূলক রসিদ দিতে হবে, যাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ যাচাই করা যায়। ৭. কোনো ডিলারের কাছে সার শেষ হয়ে গেলে কৃষক যেন নিকটবর্তী অন্য অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে সার কিনতে পারেন—এমন ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. উপজেলা কৃষি অফিস, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত বাজার ও গুদাম মনিটরিং করতে হবে। ৯. কৃষকদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নথিবদ্ধ করতে হবে। কৃষকের অভিযোগ জানানোর জন্যই হউনিয়ন, ও উপজেলা কার্যকর হটলাইন/অভিযোগ কেন্দ্র চালু করা প্রয়োজন। ১০. অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা ও ডিলারদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ১১. সার বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সিন্ডিকেট কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের চলতি কৃষি বাজেটে সারের আমদানি ও ভর্তুকি বাবদ সরকার ২৭ হাজার কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভর্তুকি কার্যক্রমে ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা সরকারের অন্যান্য সার উৎপাদন ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছরে এই খাতে সংশোধিত বাজেটে ধরা হয়েছিলো ২৮ হাজার কোটি টাকা। সারের জন্য রাষ্ট্রীয় এই ভর্তুকির টাকা যাতে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ডিলারদের পকেটে না যেয়ে প্রকৃত কৃষকদের জন্য ব্যয় করা হয়, তার জন্য আপনাদের সতর্ক হতে হবে।
উক্ত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানে উপস্থিত ছিলেন, রোকনুজ্জামান রাসেল, আবু তাহের ইসলাম, মোস্তাহেদুল ইসলাম, গোবিন্দ দাস সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত, ডিলার পর্যায়ে অনিয়ম বন্ধ এবং সুষ্ঠু সার বিতরণ ব্যবস্থার দাবিতে বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
রংপুরের বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতি বদরগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত, ডিলার পর্যায়ে অনিয়ম বন্ধ এবং সুষ্ঠু সার বিতরণ ব্যবস্থার দাবিতে বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির মানববন্ধন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
সংগঠনটির উপজেলা আহবায়ক রতন কুমার মোহন্ত বলেন, আমাদের জেলার কৃষকরা বর্তমানে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে সারের সংকট নেই বলা হলেও মাঠ পর্যায়ে অনেক কৃষকের অভিযোগ—অনুমোদিত ডিলারের দোকানে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়া যাচ্ছে না; অথচ বেশি দাম দিলে খোলাবাজারে সার পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষক-মজুর সংহতির কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ দুলাল মন্ডল বলেন, সম্প্রতি কুড়িগ্রামে কৃষকেরা ডিলারের গুদামে সার না পেয়ে জোটবদ্ধ হয়ে গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সারাদেশের আমাদের জেলাতেও কৃষকরা হতাশ ও বিক্ষুব্ধ। চাষাবাদের ভরা মৌসুমে এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা কাম্য পরিস্থিতি নয়। এমন ঘটনা কৃষকের অসহায়ত্ব ও বিতরণ ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
তাই আমরা এ সংকটকে মোকাবেলায় দাবী ও প্রস্তাব তুলে ধরছি-সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আশু দাবী ও প্রস্তাব:১. প্রত্যেক কৃষকের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার সময়মতো নিশ্চিত করতে হবে। ২. ডিলারের কাছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বরাদ্দকৃত সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে কিনা,তা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে যাচাই করতে হবে। ৩. কোন ডিলারকে কত সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কত সার বিক্রি হয়েছে,এই তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ৪. গুদামে সার রেখে দোকানে ‘সার নেই’ বলা এবং পরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করতে হবে। ৫. সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতেহ হবে। ৬. কৃষককে সার কেনার সময় বাধ্যতামূলক রসিদ দিতে হবে, যাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ যাচাই করা যায়। ৭. কোনো ডিলারের কাছে সার শেষ হয়ে গেলে কৃষক যেন নিকটবর্তী অন্য অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে সার কিনতে পারেন—এমন ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. উপজেলা কৃষি অফিস, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত বাজার ও গুদাম মনিটরিং করতে হবে। ৯. কৃষকদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নথিবদ্ধ করতে হবে। কৃষকের অভিযোগ জানানোর জন্যই হউনিয়ন, ও উপজেলা কার্যকর হটলাইন/অভিযোগ কেন্দ্র চালু করা প্রয়োজন। ১০. অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা ও ডিলারদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ১১. সার বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সিন্ডিকেট কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের চলতি কৃষি বাজেটে সারের আমদানি ও ভর্তুকি বাবদ সরকার ২৭ হাজার কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভর্তুকি কার্যক্রমে ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা সরকারের অন্যান্য সার উৎপাদন ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছরে এই খাতে সংশোধিত বাজেটে ধরা হয়েছিলো ২৮ হাজার কোটি টাকা। সারের জন্য রাষ্ট্রীয় এই ভর্তুকির টাকা যাতে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ডিলারদের পকেটে না যেয়ে প্রকৃত কৃষকদের জন্য ব্যয় করা হয়, তার জন্য আপনাদের সতর্ক হতে হবে।
উক্ত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানে উপস্থিত ছিলেন, রোকনুজ্জামান রাসেল, আবু তাহের ইসলাম, মোস্তাহেদুল ইসলাম, গোবিন্দ দাস সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন