জয়পুরহাট    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আর্কাইভ দেখুন

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের পৃথক অভিযানে মাদক জব্দ

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের পৃথক অভিযানে মাদক জব্দ

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধীনে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭২ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ, ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ৩৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মোট সিজার মূল্য এক লাখ ৩৫ হাজার ৬০০ টাকা।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি এ তথ্য জানায়।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৫০ মিনিটে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধীন বৈরচুনা বিওপির একটি টহল দল ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সিংহর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সীমান্ত পিলার ৩৩৫/৭-এস থেকে প্রায় ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭২ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।এদিকে, ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৫ মিনিটে দানাজপুর বিওপির সদস্যরা পীরগঞ্জ উপজেলার রনসিয়া এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালিয়ে সীমান্তের মেইন পিলার ৩৪০ থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন।বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত পলাতক মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ভবিষ্যতেও কঠোর ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে।


দিনাজপুরে চেকপোস্টে ওয়ান শুটার-গুলিসহ দুইজন আটক

দিনাজপুরে চেকপোস্টে ওয়ান শুটার-গুলিসহ দুইজন আটক

দিনাজপুর শহরে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় তৈরি একটি ওয়ান শুটার ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ দুইজনকে আটক করেছে ট্রাফিক পুলিশ।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে শহরের হাসপাতাল মোড়ে নিয়মিত চেকপোস্ট চলাকালে তাদের আটক করা হয়।আটকরা হলেন, দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার দপ্তরীপাড়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে হারুন (৫৫) এবং ষষ্ঠীতলা এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. রতন (২০)। হারুন পিকআপচালক এবং রতন একটি পিকআপ গ্যারেজে কর্মরত।ট্রাফিক পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে লিলির মোড় থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে হারুন ও রতন বালুবাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় হাসপাতাল মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট রুপক কুমার তাদের থামার সংকেত দেন। তবে তারা সংকেত অমান্য করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সার্জেন্ট রুপক কুমার ধাওয়া করে তাদের আটক করেন।পরে তাদের সঙ্গে থাকা লাল রঙের একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় তৈরি একটি ওয়ান শুটার ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।অভিযানে ট্রাফিক কনস্টেবল শাহনেওয়াজ ও মেহেদী হাসান অংশ নেন। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) অমৃত সরকারের উপস্থিতিতে তল্লাশি শেষে আটক দুজনকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলিসহ দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।ট্রাফিক বিভাগের টিআই (প্রশাসন) রাহিনুর ইসলাম খান বলেন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটি থামিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময় আরোহীদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তল্লাশি করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক অ্যান্ড এস্টেট) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা পিপিএমের নির্দেশনায় চলমান চেকপোস্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাসপাতাল মোড়ে অভিযান চালানো হয়। আটক দুইজনকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, আটক হারুনের বিরুদ্ধে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি ডাকাতির মামলা রয়েছে।


সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর

সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আইহাই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় করছেন আরিফ মাহমুদ। তিনি আইহাই ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।আরিফ মাহমুদ বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে আইহাই ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে জনকল্যাণমূলক কাজে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবেন। ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।দলীয় রাজনীতিতে আরিফ মাহমুদ এর আগে আইহাই ইউপি ছাত্রদলের সভাপতি ও আইহাই ইউপি বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং সহযোগিতা কামনা করেন।


‎পাঁচবিবিতে একই কলেজে দুই অধ্যক্ষ অতঃপর অধ্যক্ষের রুমে তালা

‎পাঁচবিবিতে একই কলেজে দুই অধ্যক্ষ অতঃপর অধ্যক্ষের রুমে তালা

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে একই কলেজে ২ জন অধ্যক্ষের ঘটনায় অবশেষে অধ্যক্ষের রুমে তালা ঝুলিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন। ‎গত এক সপ্তাহ ধরে অধ্যক্ষের রুমে তালা ঝুলানো অবস্থায় চলছে কলেজের ক্লাসসহ যাবতীয় কার্যক্রম।  ‎এই ঘটনাটি ঘটেছে পাঁচবিবি উপজেলার নাকুড়গাছি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট এন্ড কলেজে। ‎জানা যায়,উক্ত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিনা আক্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রায় ১০ বছর পর মামলা জটিলতায় সাময়িক বরখাস্ত হাওয়া প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোঃ শাহিনুর রহমান গত ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১০ টায় হঠাৎ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেন এবং জেলা-উপজেলার সাংবাদিকদের ডেকে তাদের উপস্থিতিতে তার অবস্থান জানান দিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।‎মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানের সূচনালগ্ন থেকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছি। গত ২০১৭ সালে কিছু কুচক্রী মহল আমাকে জড়িয়ে ছিনতাই ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন ঢাকার আাগারগাঁও শেরে বাংলা নগর থানায়। সেই মামলায় দুই দিন কারাভোগের পর জামিন পেলেও আর প্রতিষ্ঠানে এসে ঢুকতে পারিনি। ‎বিগত সরকারের আমলে কুচক্রীমহল আমাকে কলেজে বসতে দেয় নাই এবং তাদের ইন্ধনে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা হয়েছিল।‎তিঁনি আরোও বলেন, আমার নামে আনিত মিথ্যা মামলা আদালতের মাধ্যমে ২০২৫ সালে অব্যাহতি পাই। ব্যবস্থাপনা কমিটির নিকট পুনর্বহালের আবেদন করলে কোন প্রকার গুরুত্ব বা স্বপদে বহাল না করে কালক্ষেপণ করেন। এমতাবস্থায় ১৮০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আমি স্ব-পদে আসীন হই।‎এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিনা আক্তার বলেন, অধ্যক্ষের রুমে তালাবদ্ধ থাকলেও অন্য রুম থেকে আমার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও কোনো বাধা নেই।‎প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ বলেন, এ ঘটনার পরদিন গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অধ্যক্ষের রুমে তালা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ২১ ও ৩০ সেপ্টেম্বর ২দিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আমরা ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ইউএনও অফিসে গিয়ে আমাদের মতামত জানিয়ে এসেছি।‎প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন,অধ্যক্ষের রুমে মূল্যবান কাগজপত্র থাকায় আপাতত বন্ধ করে রাখা হয়েছে কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যক্রম অন্য রুম থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর ও ৩০ সেপ্টেম্বর ২ দিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে জানিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি আরো বলেন,২১ সেপ্টেম্বর শুনানি গ্রহণ করা হলেও পরবর্তী তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।


ইসলামপুরে ১২৮ প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য! দিনদিন ঝড়ে পড়ছে শিক্ষার্থী

ইসলামপুরে ১২৮ প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য! দিনদিন ঝড়ে পড়ছে শিক্ষার্থী

জামালপুরের ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৮টি নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। পাশাপাশি ৫৬ জন সহকারী শিক্ষক এবং তিনটি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিও), একজন উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহকারী পদ খালি রয়েছে। শিক্ষক সংকট, তদারকির অভাব এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন ঝরে পড়ছে।দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট থাকায় বিদ্যালয় গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সহকারী শিক্ষককে পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর বাড়ছে বাড়তি চাপ এবং শিক্ষার্থীরাও কাঙ্খিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামপুরে মোট ১৭৭টি সরকারি এবং বেসরকারী,কেজিসহ ২৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি সরাসরি সরকারি এবং ৯৮টি নিবন্ধিত বিদ্যালয় পর্যায়ক্রমে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২৮৫টি বিদ্যালয়ের ৫১ হাজার ৮শত ৭০জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের পদ ৯৩৬টি স্থলে ৮৮০ জন কর্মরত থাকলেও ৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে। ১৭৭টি প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে মাত্র ৪৮ জন কমর্রত রয়েছেন। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে ১২৮টি বিদ্যালয়। এছাড়াও উপজেলায় জাতীয়করণ প্রস্তাবিত ৯৮টি এবতেদায়ী মাদরাসা ও ২৫টির মত কওমি মাদরাসাও রয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজস্ব খাতে অর্ন্তগত ২৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের কাউকে চলতি দায়িত্ব এবং কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থাকায় নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজও সামলাতে হচ্ছে।অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকের ৫৬টি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ও অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।সরেজমিনে গিয়ে, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিনে ঘুরে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। ২২ সেপ্টেম্বর উপজেলার বীর সিংহ সপ্রাবিতে ৬৬জন শিক্ষার্থীর স্থলে ১০জন, মোহাম্মদপুর বালুচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক ও ৬ জন শিক্ষার্থীর দেখা মিলেছে। এছাড়াও, পূর্ব পোড়ার চর সপ্রাবিতে ৮৯শিক্ষার্থীর স্থলে ৪জন, দক্ষিন মোহাম্মদপুর,সাজলের চর প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে চার থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী উপস্থিতি থাকলেও দক্ষিণ চিনাডুলী ও হরিণধরা সপ্রাবিতে শিক্ষক,শিক্ষার্থী শুন্য দেখা গেছে। এছাড়াও এবতেদায়ী মাদরাসা গুলোর জাতীয় করনের আশায় নামমাত্র স্থাপনা করে রাখা হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে সাধারণ শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সহকর্মীরা যথাযথভাবে মানতে চান না। আবার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়েন। সংকট নিরসন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন।অভিভাবক রিপন মিয়া বলেন, উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কোনো কোনো শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ে না আসায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এ কারণে অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা মাদরাসায় ভর্তি করাচ্ছেন।শিক্ষার্থীর উপস্থিতির বিষয়ে বীর সিংহ সপ্রাবি প্রধান শিক্ষক রেহেনা খাতুন বলেন, আশে পাশে একাধিক বিদ্যালয় গড়ে উঠায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের মাদ্রাসাতে ভর্তি করাচ্ছেন। যারা স্কুলে আসে টিফিনের সময় বাড়িতে গেলে আর আসতে চায়না, অভিভাবদের কারণে শিক্ষার্থীরা দিনদিন স্কুলের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বর্ণজীব দেব বলেন,আমি সবে মাত্র যোগদান করেছি। বিভিন্ন অনিয়ম খোঁজ খবর রাখছি। তবে ১৭৭টি সরকারী বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করা অত্যন্ত কঠিন। শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, যমুনা চরাঞ্চলসহ রাজস্ব খাতে অন্তর্ভক্ত অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনিয়ম ও অনুপস্থিতি দীর্ঘদিনের। অনেক শিক্ষক জেলা সদরে বসবাস করে নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষক সংকট নিরসন, কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ইসলামপুরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা থুবড়ে পড়বে।


নলছিটির প্রধান শিক্ষক রিংকু জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত

নলছিটির প্রধান শিক্ষক রিংকু জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত

ঝালকাঠি জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সারাহ্ পারভিন রিংকু। তাঁর এ অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ নলছিটিবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে।শিক্ষাক্ষেত্রে নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা, নেতৃত্বগুণ এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে কাজ করে আসছেন।সারাহ্ পারভিন রিংকুর এ সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পুরো নলছিটি উপজেলার জন্যও গৌরবের বিষয়। তাঁর এ অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর এই স্বীকৃতি অন্যান্য শিক্ষককেও শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর ভূমিকা আরও উৎসাহব্যঞ্জক হবে।নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সারাহ্ পারভিন রিংকু বলেন, এ সাফল্য শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরসহ উপজেলার জন্যও গৌরবের বিষয়। আমি সবার কাছে দোয়া,পরামর্শ ও সহযোগিতা চাই। আমি যেনো আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।


কাঠালিয়ার তোতা মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক সভাপতি হলেন মো.শাহীন হোসেন

কাঠালিয়ার তোতা মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক সভাপতি হলেন মো.শাহীন হোসেন

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার বিলছোনাউটা তোতামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির (এডহক) সম্মানিত সভাপতি মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও কাঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো.শাহীন হোসেন। তাকে গত ২২ সেপ্টেম্বর -২০২৬ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড,বরিশাল এর বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান হাওলাদার স্বাক্ষরিত পত্রে জনাব মো. শাহীন হোসেন কে এ মনোনয়ন পদায়ন করেন।তিনি উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের ছোনাউটা গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেনের বড় ছেলে। মো. শাহীন হোসেন সভাপতি মনোনীত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন উপজেলার রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।


বারহাট্টায় চুরি হওয়া গর্ভবতী গাভী গরু পুলিশের সহায়তা উদ্ধার

বারহাট্টায় চুরি হওয়া গর্ভবতী গাভী গরু পুলিশের সহায়তা উদ্ধার

নেত্রকোণা  বারহাট্টা উপজেলায় চুরি হওয়া একটি গর্ভবতী গাভী উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফকিরের বাজার পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এসআই (নিঃ) মোঃ শাহজাহান খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে গাভীটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ হাফছা আক্তার (৩৫) ও তাঁর স্বামী অসুস্থ রোগী নিয়ে ময়মনসিংহ হাসপাতালে যান। এ সময় তাঁদের বসতবাড়ির পেছনে বাঁধা থাকা লাল রঙের একটি গর্ভবতী গাভী চুরি হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গাভীটির পেটে আনুমানিক পাঁচ মাসের বাচ্চা ছিল এবং এর মূল্য প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।পরবর্তীতে তিনি ফকিরের বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানান। ফাঁড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে গাভীটি শনাক্ত করতে সক্ষম হন বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। পরে খোঁজখবর নিয়ে গাভীটি কলমাকান্দায় উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সারার কোনা এলাকায় রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।এরপর ফকিরের বাজার পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এসআই (নিঃ) মোঃ শাহজাহান খানের নেতৃত্বে পুলিশের চৌকস দল চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে গাভীটি উদ্ধার করে।পুলিশের এই অভিযানে চুরি যাওয়া গাভীটি উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে।


শেরপুর সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ

শেরপুর সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ

শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার ভোরে উপজেলার গজনী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে কসমেটিকসের চালানসহ একটি পাওয়ার টিলারের ট্রলি জব্দ করা হয়।ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টহল দল গজনী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ভারত থেকে চোরাইপথে আনা বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস ও একটি পাওয়ার টিলারের ট্রলি জব্দ করা হয়।জব্দ করা কসমেটিকস ও ট্রলির আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকা। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।বিজিবি অধিনায়ক জানান, শেরপুর সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।


কুড়িগ্রামে সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে কৃষি বিভাগের ডিডি'র বদলী

কুড়িগ্রামে সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে কৃষি বিভাগের ডিডি'র বদলী

কুড়িগ্রামে সার বিতরণে একের পর এক বিশৃঙ্খলা ও কৃষক ভোগান্তির মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে ঝিনাইদহ জেলার বীজ প্রত্যয়ন অফিসার হিসেবে বদলি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাকে ঝিনাইদহ বদলি করা হয়েছে। আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি।কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগ সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কামরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে আদেশের অনুলিপি কুড়িগ্রামে পৌঁছায়।জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, জেলায় সার বিতরণে একের পর এক বিশৃঙ্খলা ও কৃষক ভোগান্তির কারণে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশ দেওয়া হয়েছে।তাঁকে আজ ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থল ঝিনাইদহে যোগ দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে।তাঁর স্থলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ি, ঢাকার প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ মো. রওশন কবীরকে কুড়িগ্রামের উপপরিচালক হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।খামারবাড়ি কুড়িগ্রাম সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল মামুন অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ) তানভীর আহমেদ সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম ত্যাগ করেছেন।কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, কৃষি বিভাগের উপপরিচালকের বদলির হয়েছে। আজ বুধবার নতুন উপপরিচালক পদে একজন কর্মকর্তা যোগদান করবেন


নলছিটিতে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল মহড়া ও বিক্ষোভ মিছিল

নলছিটিতে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল মহড়া ও বিক্ষোভ মিছিল

সারাদেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আওয়ামী লীগ এবং একটি গুপ্ত সংগঠনের অপ-তৎপরতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার প্রতিবাদে নলছিটি ছাত্রদলের উদ্যোগে মোটরসাইকেল মহড়া ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার( ২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল এগারোটায় উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের আয়োজনে শহীদ মিনার চত্বর থেকে মোটরসাইকেল মহড়া ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষন করে। মহড়ায় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আদিফ হাসান,শাহাদাত সিকদার,আব্দুল্লাহ আলিফুর রনি,জাহিদুল ইসলাম হিরন।নলছিটি পৌর ছাত্রদলের ফরিদ হোসেন হিরা,আদনান রুবেল হৃদয়,সোহান খলিফা,রিমন হাওলাদার ,সজিব,রফিকুল,ওলিউল্লা,প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠন গুলোর  বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।ঘন্টাব্যাপী এ মহড়ায় প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলযোগে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।


এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে ‘জরুরি’ ধারা ব্যবহার করে ব্যাপক নিয়োগ

এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে ‘জরুরি’ ধারা ব্যবহার করে ব্যাপক নিয়োগ

সুনির্দিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ইসলামী ব্যাংকে  ৮ হাজার ৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই ঘটনা ঘটে। নিয়োগ পাওয়া ১০ হাজার ৮৩২ জনের মধ্যে বড় অংশই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এই প্রক্রিয়ায়।এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশই চট্টগ্রামের, বিশেষ করে সাইফুল আলম ওরফে এস আলমের জন্মস্থান পটিয়ার বাসিন্দা।বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে ইসলামী ব্যাংকের ওই সময়কার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৫৫১। এর মধ্যে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয় ১০ হাজার ৮৩২ জনকে। ওই সময় ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৬৬ জন ছিলেন লেটারাল এন্ট্রির মাধ্যমে এবং ১০ হাজার ৩৩৬ জন সরাসরি প্রবেশ পর্যায়ে নিয়োগ পান।ইসলামী ব্যাংকের প্রচলিত নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার বিধান ছিল। প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য অন্তত ১৫ দিন সময় দেওয়ার পাশাপাশি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতো। উভয় পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়া নিয়োগের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতো।কিন্তু ২০১৭ সালে ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের পর এই প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় ঘটে। ওই সময় ৮ হাজার ৫৪২ জনকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নিয়মসিদ্ধ করার জন্য ওই সময়ে ইসলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়। নীতিমালার ৭.০৪ ধারায় নতুন করে বলা হয়, ‘জরুরি প্রয়োজন’ দেখা দিলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনবলের প্রয়োজন অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেল ও লেটারাল এন্ট্রি গ্রেডে কর্মী নিয়োগ দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়।তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে মূল নিয়োগবিধির ৭.০১ ধারা কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। ওই ধারায় বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগের জন্য অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কার্যক্রম সচল রাখতে সাধারণত সীমিতসংখ্যক লেটারাল এন্ট্রি বা বিশেষায়িত কারিগরি পদে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকে সেই বিধান ব্যবহার করে প্রবেশনারি পর্যায়েই ছয় হাজারের বেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অস্বাভাবিক।আরও বলা হয়েছে, ওই সময় ব্যাংকে বড় ধরনের জনবল সংকট ছিল—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি। বরং বিজ্ঞপ্তি ছাড়া যে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, তা ব্যাংকের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ছিল বলে সে সময়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এস আলমের নিয়ন্ত্রণকালে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮ জনই পটিয়ার বাসিন্দা। পটিয়া এস আলমের জন্মস্থান হওয়ায় এই নিয়োগের ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের প্রার্থীদের আবেদন ও প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী নিয়োগ পাওয়ায় ব্যাংকে একটি কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে দেশের অন্যান্য এলাকার যোগ্য প্রার্থীরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়া কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল বলে পরিদর্শনে তথ্য পাওয়া গেছে।বাংলাদেশ ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহের জন্য এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পটিয়ার বাড়ি এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের বাক্স রাখা হতো। এসব বাক্সে ‘পটিয়া জেনারেল’, ‘পটিয়া ক্যাশ’, ‘পুরুষ জেনারেল-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া’, ‘পুরুষ ক্যাশ-গন্ডামারা-বাঁশখালী’, ‘মহিলা-ক্যাশ’, ‘নারী’ ও ‘ডিপ্লোমা’সহ বিভিন্ন পরিচয় লেখা থাকত।এসব বাক্সে জমা পড়া সিভি থেকে পছন্দের প্রার্থীদের পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হতো। এরপর প্রধান কার্যালয় থেকেই তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।ইসলামী ব্যাংকের ২৬টি প্রবেশনারি অফিসার ব্যাচের মধ্যে ২৪তম ব্যাচের নিয়োগে নিয়োগবিধি অনুসরণ করা হয়নি বলে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ব্যাচের নিয়োগে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।২০১৯ সালের শুরুতে চট্টগ্রাম থেকে ৮৪০ জন প্রার্থীর একটি তালিকা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে তাদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগকে। পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৬৩ জন।ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী পাস নম্বর ছিল ৫০ শতাংশ। কিন্তু ওই নম্বর অর্জন করতে পারেন মাত্র ৩৬ জন। এরপর পাস নম্বর কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এর ফলে ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৩০৪ জন।এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষা না দিয়েই আরও ১২ জনকে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তালিকার প্রথম ১৭৮ জন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১২ জনসহ মোট ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১২৬ জনকে পাঠানো হয় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। এই প্রার্থীদের সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ১৯০ জনের মধ্যে ১৮৪ জন পরে চাকরিতে যোগ দেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আরও বেশ কিছু পদে নিয়োগবিধি না মানার তথ্য পাওয়া গেছে।এই সময়ে ২ হাজার ২৩২ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ দেওয়া হয়, কিন্তু এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পদে ২ হাজার ৮২৮ জন এবং ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে ৫০১ জনকে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।লেটারাল এন্ট্রির ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় ৪৬৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২৬৪ জনই চট্টগ্রাম জেলার প্রার্থী।পরিদর্শনের সময় ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঢাকায় কর্মরত ওই সময়ের ১০ কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।তাদের সবাই জানান, তারা সিভি জমা দিয়ে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন কোনো ধরনের মৌখিক পরীক্ষাও দেননি বলে লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন।কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তারা সুগন্ধা আবাসিক এলাকা ও পাঁচলাইশে অবস্থিত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের বাড়ি এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে রাখা বাক্সে সিভি জমা দিয়েছিলেন। সেখানেই তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং পরে যোগদানপত্রও দেওয়া হয় বলে তারা জানান।শুধু সাধারণ কর্মী নিয়োগ নয়, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ না করার তথ্য পাওয়া গেছে।ইসলামী ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ডিএমডি পদে নিয়োগ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আগের পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। একই সঙ্গে যোগদানের আগে মোট ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত রয়েছে।কিন্তু এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আকিজ উদ্দিন মাত্র আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিএমডি পদে পদোন্নতি পান। ডিএমডি হওয়ার আগে আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন থাকলেও তার ছিল মাত্র এক বছর চার মাসের অভিজ্ঞতা।অন্যদিকে ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিনের মোট অভিজ্ঞতা ছিল ১৭ বছর, যেখানে নীতিমালায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল। ডিএমডি হওয়ার আগে দুই বছরের অভিজ্ঞতার বিধান থাকলেও তার ছিল এক বছরের অভিজ্ঞতা।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর ইসলামী ব্যাংকের নীতিগত পরিবর্তনগুলো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংযোজন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একই সঙ্গে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার বাধ্যবাধকতাও অনেক ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়নি।এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি যুক্ত থাকে না। এটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। তবে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা পালন করে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর অনিয়ম পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নির্দেশনা দেওয়া হবে।ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম তদন্তে চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ নিরীক্ষার দায়িত্ব দেয়। সেই নিরীক্ষাতেও এস আলমের সময়কার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।বাংলাদেশ ব্যাংক ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।এই পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে দুই কর্মী হাইকোর্টে রিট করেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।এরপর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার আয়োজন করে।ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫ হাজার ৩৭৩ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সবাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং চাকরিতে বহাল থাকেন।অন্যদিকে ৪ হাজার ৯৭২ জন কর্মকর্তা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পরীক্ষায় অংশ নেননি। ব্যাংকের অভিযোগ, তাদের কয়েকজন পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী কর্মীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পাশাপাশি কর্মবিরতি, সড়ক বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগও ওঠে।ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নীতিমালাবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করে। পরিচালনা পর্ষদের পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে মানবসম্পদ নীতিমালা অনুসারে ৪ হাজার ৬৮৫ জনকে তিন মাসের বেতন পরিশোধ করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসাইন বলেন, ওই কর্মীদের নিয়োগ বৈধ না অবৈধ—শুধু এই বিবেচনায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় তারা নিয়োগ পেয়েছিলেন, সেখানে সার্ভিস রুল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করা হয়নি।তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া পূর্ণ করার সুযোগ হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পরীক্ষায় অংশ নেননি এবং অন্যদেরও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দিয়েছেন। ফলে ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করায় তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের আওতায় দেখেছে বলে জানান তিনি।


রোগীদের আগে খাবার,পরে চিকিৎসা— চিকিৎসকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

রোগীদের আগে খাবার,পরে চিকিৎসা— চিকিৎসকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

চিকিৎসা নিতে এসে আগে খাবার,এরপর চিকিৎসাসেবা—এমন ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত চক্ষু চিকিৎসক প্রফেসর ডা. গোলাম মোস্তফা মজুমদার। নিজের শৈশবের ক্ষুধার কষ্টের স্মৃতি থেকেই চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের জন্য এ আয়োজন করেছেন তিনি।হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নং  ওয়ার্ড করিম বাগান এলাকায় তার চেম্বারে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য রয়েছে খাবারের ব্যবস্থা। রোগীরা চেম্বারে প্রবেশের আগে পেট ভরে খাবার খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এরপর দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা। শুধু খাবার নয়,অনেক রোগীকে ওষুধ ও ফলমূল কেনার জন্যও আর্থিক সহায়তা করছেন এই চিকিৎসক।প্রফেসর ডা.গোলাম মোস্তফা মজুমদার চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান। অবসর গ্রহণের পর বর্তমানে তিনি হাজীগঞ্জের করিম বাগান এলাকায় রোগী দেখছেন।স্থানীয়রা জানান, সাধারণত চিকিৎসকের কাছে গেলে রোগীকে চিকিৎসা ও ওষুধের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ডা.গোলাম মোস্তফা মজুমদারের উদ্যোগটি কিছুটা ভিন্ন। রোগীর অসুস্থতার পাশাপাশি তার ক্ষুধা ও আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টিও তিনি বিবেচনায় নিচ্ছেন। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীর জন্য এটি স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।ক্ষুধার কষ্ট থেকেই উদ্যোগ শৈশবে নিজেরও ক্ষুধার যন্ত্রণা অনুভব করেছেন ডা. গোলাম মোস্তফা মজুমদার। সেই স্মৃতি এখনো তাকে নাড়া দেয়। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের ক্ষুধার কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করার চিন্তা করেন তিনি।তার কাছে চিকিৎসা শুধু রোগ নিরাময়ের বিষয় নয়; রোগীর প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিক দায়িত্ব পালনও চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই রোগীকে ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার,ফলমূল ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করছেন তিনি।বক্সপপ—চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী: চিকিৎসকের এই উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারা বলেন,চিকিৎসার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থা পাওয়ায় তারা উপকৃত ও কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসচ্ছল রোগীদের জন্য এ উদ্যোগ স্বস্তিদায়ক।সট—প্রফেসর ডা. গোলাম মোস্তফা মজুমদা।অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান,চক্ষু বিভাগ,চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতাল।পে-অফচিকিৎসার সঙ্গে মানবিকতার এমন সমন্বয় সমাজে তৈরি করতে পারে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। নিজের জীবনের কষ্টের অভিজ্ঞতাকে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর শক্তিতে পরিণত করেছেন ডা. গোলাম মোস্তফা মজুমদার। তার এই উদ্যোগ মনে করিয়ে দেয়—একজন চিকিৎসক শুধু রোগের চিকিৎসাই করেন না,মানবিকতার স্পর্শে একজন রোগীর কঠিন সময়কেও কিছুটা সহজ করে তুলতে পারেন।


নগরকান্দায় জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি নিয়ে অবহিতকরণ সভা

নগরকান্দায় জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি নিয়ে অবহিতকরণ সভা

ফরিদপুরের নগরকান্দায় সরকারি, শিল্প, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য শ্রেনীর  গ্রাহকদের জন্য জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তকরণ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।‘সৌর শক্তিতে আলোকিত হোক দেশের প্রতিটি ঘর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৪টায় নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নগরকান্দা  জোনাল অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত সভাটি পরিচালনা করেন নগরকান্দা উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো সোহেল রানা।সভায় জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির লক্ষ্য, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের নিজ নিজ স্থাপনায় রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনে উৎসাহিত করা হয়।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. খায়রুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম এবং নগরকান্দা থানার তদন্ত কর্মকর্তা আ. রাজ্জাক।এ ছাড়া সভায় নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান মুকুল, সহসভাপতি মো. মাহাবুব আলী মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়বুর রহমান মাসুদ সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় বক্তারা বলেন, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই। বিশেষ করে ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুতের একটি অংশ নিজস্বভাবে উৎপাদন করা সম্ভব। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় ও দক্ষতা বাড়বে।সভায় অংশ নেওয়া গ্রাহক ও সার্ভিস প্রোভাইডারদের রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনের কারিগরি দিক, বিদ্যুৎ ব্যবহারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা এবং কর্মসূচির আওতায় সার্ভিস প্রোভাইডারদের তালিকাভুক্তির বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। 


বোর্ডের ১০ কর্মদিবসের নির্দেশনা পেরিয়ে গেছে,তবুও নেই কোন অগ্রগতি

বোর্ডের ১০ কর্মদিবসের নির্দেশনা পেরিয়ে গেছে,তবুও নেই কোন অগ্রগতি

নওগাঁ বদলগাছীতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সরকারি নির্দেশনায় সময়সীমা ছিল ১০ কর্মদিবস। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেছে এক মাসেরও বেশি। অথচ উপজেলার মিঠাপুর ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বোর্ডের বেঁধে দেওয়া ১০ কর্মদিবসের হিসাব কি এই বিদ্যালয়ে অন্য কোনো ক্যালেন্ডারে চলছে?অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নওশেদ আলী সরদার। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ডের আওতাধীন যেসব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. শামীম হাসান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর ২/এস/১৯২৬/১০/১৮০৪। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখের স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০৭২.১৮.০০৩.২৪.৪১-এর নির্দেশনা অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়ী থাকবেন এবং বিধিমতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ‘অতীব জরুরি’ উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।কিন্তু স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, ওই নির্দেশনার পরও মিঠাপুর ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের কার্যক্রমের কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের ভাষায়, বিষয়টি যেন ‘ফাইলের পাতাতেই আটকে আছে’।স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার অন্যান্য বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটি গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে গেলেও এই বিদ্যালয়ে একই ধরনের অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। ফলে তাঁদের প্রশ্ন—কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া আদৌ শুরু হয়েছে কি না, শুরু হয়ে থাকলে বর্তমানে তা কোন পর্যায়ে রয়েছে?স্থানীয় কয়েকজন আরও অভিযোগ করেছেন, প্রধান শিক্ষক নওশেদ আলী সরদার ইচ্ছাকৃতভাবে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছেন না। কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তুলেছেন। অ্যাডহক ও নিয়মিত কমিটি গঠন নিয়ে এর আগেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় একাধিক নির্দেশনা দিয়েছে।২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০৭২.১৮.০০৩.২৪.২২৪-এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি গঠন এবং পরবর্তী সময়ে নিয়মিত গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে দায়ী করার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়।এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিলের স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০৭২.১৮.০০৩.২৪.১১৪-এ অ্যাডহক কমিটি ও নিয়মিত কমিটি গঠনসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বরের স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০০০.০৭২.৪৪.০০০২.২৫.৫৯-এ অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়া প্রতিষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে সভাপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সভাপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারির স্মারক নম্বর ৩৭.০০.০০০০.০৭২.৯৯.০০৮.২৩.১৪-এ সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির সভাপতিদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানানো হয়।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মিঠাপুর ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নওশেদ আলী সরদার মুঠোফোনে বলেন, আপনাকে কে জানালো। আপনি স্কুলে আসেন। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।বদলগাছী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, আমি ছুটিতে আছি। অফিসে গিয়ে দেখব কী অবস্থায় আছে, তারপর বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেব।নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহাদৎ হোসেন বলেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমিটি গঠন না করেন, তাহলে বিধিমোতাবেক তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মিঠাপুর ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান ছনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। তবে আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।


তেলের পরিমাপ কারচুপি ও মজুত প্রতিরোধে জয়পুরহাটে অভিযান

তেলের পরিমাপ কারচুপি ও মজুত প্রতিরোধে জয়পুরহাটে অভিযান

জ্বালানি তেলের সম্প্রতি মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পরিমাপে কারচুপি ও অবৈধ মজুত প্রতিরোধে জয়পুরহাটের পেট্রোল পাম্পগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই।​মঙ্গলবার বিকেলে শহরের সড়ক ভবন এলাকার উত্তরা ফিলিং স্টেশন এবং গুলশান মোড় এলাকার জয়পুর ফিলিং স্টেশনে এই তদারকি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর উল আলম এবং বিএসটিআই-এর পরিদর্শক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান। অভিযানকালে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহকৃত পরিমাপ পরীক্ষা করে সঠিক পাওয়া যায়।​নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর উল আলম জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সুযোগে কোনো অসাধু চক্র যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা ওজনে কম দিতে না পারে, সেজন্য জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় এ তদারকি চালানো হচ্ছে। জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ এ ধরণের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।


মহাদেবপুরে ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মহাদেবপুরে ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আক্কেলপুর হাসপাতাল চত্বর থেকে ইয়াবাসহ দুইজনকে হাতেনাতে ধরল র‌্যাব

আক্কেলপুর হাসপাতাল চত্বর থেকে ইয়াবাসহ দুইজনকে হাতেনাতে ধরল র‌্যাব

আক্কেলপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী আটক

আক্কেলপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী আটক

বগুড়ায় পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

বগুড়ায় পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

সান্তাহারে উঁচু রেলগেটে উঠতে না পেরে পেছাল ট্রাক, চাকায় পিষ্ট হয়ে এনজিও ম্যানেজার নিহত

সান্তাহারে উঁচু রেলগেটে উঠতে না পেরে পেছাল ট্রাক, চাকায় পিষ্ট হয়ে এনজিও ম্যানেজার নিহত

আক্কেলপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা: অতঃপর মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

আক্কেলপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা: অতঃপর মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

‎চাঁদা না দেওয়ায় ‘মব’ সৃষ্টি করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ

‎চাঁদা না দেওয়ায় ‘মব’ সৃষ্টি করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ

ফার্মেসীর কর্মচারীর দেয়া ভুল ওষুধ খেয়ে মৃত্যু পথযাত্রী নওগাঁর আখের আলী

ফার্মেসীর কর্মচারীর দেয়া ভুল ওষুধ খেয়ে মৃত্যু পথযাত্রী নওগাঁর আখের আলী

আক্কেলপুরে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু: পলাতক ইউপি সদস্য সেলিম গ্রেপ্তার

আক্কেলপুরে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু: পলাতক ইউপি সদস্য সেলিম গ্রেপ্তার

ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক মালামাল আটক

ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক মালামাল আটক

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের পৃথক অভিযানে মাদক জব্দ

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের পৃথক অভিযানে মাদক জব্দ

দিনাজপুরে চেকপোস্টে ওয়ান শুটার-গুলিসহ দুইজন আটক

দিনাজপুরে চেকপোস্টে ওয়ান শুটার-গুলিসহ দুইজন আটক

সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর

সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর

‎পাঁচবিবিতে একই কলেজে দুই অধ্যক্ষ অতঃপর অধ্যক্ষের রুমে তালা

‎পাঁচবিবিতে একই কলেজে দুই অধ্যক্ষ অতঃপর অধ্যক্ষের রুমে তালা

ইসলামপুরে ১২৮ প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য! দিনদিন ঝড়ে পড়ছে শিক্ষার্থী

ইসলামপুরে ১২৮ প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য! দিনদিন ঝড়ে পড়ছে শিক্ষার্থী

নলছিটির প্রধান শিক্ষক রিংকু জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত

নলছিটির প্রধান শিক্ষক রিংকু জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত

কাঠালিয়ার তোতা মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক সভাপতি হলেন মো.শাহীন হোসেন

কাঠালিয়ার তোতা মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক সভাপতি হলেন মো.শাহীন হোসেন

বারহাট্টায় চুরি হওয়া গর্ভবতী গাভী গরু পুলিশের সহায়তা উদ্ধার

বারহাট্টায় চুরি হওয়া গর্ভবতী গাভী গরু পুলিশের সহায়তা উদ্ধার

শেরপুর সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ

শেরপুর সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ

কুড়িগ্রামে সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে কৃষি বিভাগের ডিডি'র বদলী

কুড়িগ্রামে সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে কৃষি বিভাগের ডিডি'র বদলী