জয়পুরহাট    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

কোল্ড স্টোরে মাদকের আখড়া,ট্যাপেনটাডলসহ গ্রেপ্তার-৭



কোল্ড স্টোরে মাদকের আখড়া,ট্যাপেনটাডলসহ গ্রেপ্তার-৭
ছবি : প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে আলু সংরক্ষণের একটি কোল্ড স্টোরে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৬৩টি ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার  মামুদপুর ইউনিয়নের আয়মাপুর এলাকার হাফিজার রহমান কোল্ড স্টোরে এ অভিযান চালানো হয়।

এঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, ইটাখোলা গ্রামের বাবলুর ছেলে রেজাউল (৩৮), বারইল গ্রামের ফেরদৌসের ছেলে আনিছুর (৪০), আয়মাপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে রনি (২৬), আটিমুকুল গ্রামের হান্নানের ছেলে হাসান (৩৪), আটিদাশড়া গ্রামের মোশারফের ছেলে গোলাম রব্বানী (৩১), ভাসিলা পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মিজানুর (৩৩) এবং দাশড়া মালিগাড়ি গ্রামের সিরাজুলের ছেলে শামসুল (৩৪)।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাফিজার রহমান কোল্ড স্টোরে মাদক সেবনের আড্ডা চলে এমন এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কোল্ড স্টোরের একটি কক্ষে সাতজনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরো জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় এবং থানার অফিসার ইনচার্জ ওসির নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রহমান, এসআই জাহিদুল ইসলাম ও এসআই ফাইসাল আলী। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বেলাল হোসেন, এএসআই লাবলু মিয়াসহ পুলিশের সদস্যরা।

অভিযানের পর সরেজমিনে ওই কোল্ড স্টোরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আলু সংরক্ষণের পাশাপাশি শ্রমিকদের থাকার জন্য কয়েকটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে একটি কক্ষে বিছানা ও শ্রমিকদের ব্যবহারের বিভিন্ন জিনিসপত্রের পাশাপাশি মাদক সেবনের সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখা যায়।

আলু সংরক্ষণের মতো একটি বাণিজ্যিক স্থাপনার ভেতরে এমন সরঞ্জাম পড়ে থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে। কোল্ড স্টোরের শ্রমিকদের থাকার কক্ষে কীভাবে মাদক সেবনের এমন পরিবেশ তৈরি হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, কোল্ড স্টোরে আলু সংরক্ষণের পাশাপাশি শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশের অভিযানের পর সেখানে মাদক সেবনের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

এ বিবিষয়ে হাফিজার রহমান কোল্ড স্টোরের ব্যবস্থাপক বেলালের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোল্ড স্টোরের ভেতরে মাদক সেবনের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আয়মাপুর এলাকার হাফিজার রহমান কোল্ড স্টোরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

তাঁদের কাছ থেকে ৬৩টি ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কোল্ড স্টোরে মাদকের আখড়া,ট্যাপেনটাডলসহ গ্রেপ্তার-৭

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে আলু সংরক্ষণের একটি কোল্ড স্টোরে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৬৩টি ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার  মামুদপুর ইউনিয়নের আয়মাপুর এলাকার হাফিজার রহমান কোল্ড স্টোরে এ অভিযান চালানো হয়।

এঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, ইটাখোলা গ্রামের বাবলুর ছেলে রেজাউল (৩৮), বারইল গ্রামের ফেরদৌসের ছেলে আনিছুর (৪০), আয়মাপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে রনি (২৬), আটিমুকুল গ্রামের হান্নানের ছেলে হাসান (৩৪), আটিদাশড়া গ্রামের মোশারফের ছেলে গোলাম রব্বানী (৩১), ভাসিলা পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মিজানুর (৩৩) এবং দাশড়া মালিগাড়ি গ্রামের সিরাজুলের ছেলে শামসুল (৩৪)।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাফিজার রহমান কোল্ড স্টোরে মাদক সেবনের আড্ডা চলে এমন এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কোল্ড স্টোরের একটি কক্ষে সাতজনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরো জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় এবং থানার অফিসার ইনচার্জ ওসির নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রহমান, এসআই জাহিদুল ইসলাম ও এসআই ফাইসাল আলী। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বেলাল হোসেন, এএসআই লাবলু মিয়াসহ পুলিশের সদস্যরা।

অভিযানের পর সরেজমিনে ওই কোল্ড স্টোরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আলু সংরক্ষণের পাশাপাশি শ্রমিকদের থাকার জন্য কয়েকটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে একটি কক্ষে বিছানা ও শ্রমিকদের ব্যবহারের বিভিন্ন জিনিসপত্রের পাশাপাশি মাদক সেবনের সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখা যায়।

আলু সংরক্ষণের মতো একটি বাণিজ্যিক স্থাপনার ভেতরে এমন সরঞ্জাম পড়ে থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে। কোল্ড স্টোরের শ্রমিকদের থাকার কক্ষে কীভাবে মাদক সেবনের এমন পরিবেশ তৈরি হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, কোল্ড স্টোরে আলু সংরক্ষণের পাশাপাশি শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশের অভিযানের পর সেখানে মাদক সেবনের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

এ বিবিষয়ে হাফিজার রহমান কোল্ড স্টোরের ব্যবস্থাপক বেলালের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোল্ড স্টোরের ভেতরে মাদক সেবনের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আয়মাপুর এলাকার হাফিজার রহমান কোল্ড স্টোরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

তাঁদের কাছ থেকে ৬৩টি ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত