জয়পুরহাট    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

সুনামগঞ্জে দ্বীনের নাম ভাঙিয়ে খাস জমি দখল



সুনামগঞ্জে দ্বীনের নাম ভাঙিয়ে খাস জমি দখল
ছবি : প্রতিনিধি

​ধর্মীয় পবিত্রতা ও জনকল্যাণের নামে সরকারি সম্পত্তি জবরদখল, সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর কুৎসা রটানোর অভিযোগ রয়েছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার আমদাবাদ গ্রামের নুর ইসলামের বিরুদ্ধে। 

ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল এবং অবৈধ মাটি ব্যবসার মাধ্যমে সরকারি সম্পদ লুণ্ঠনের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের সুনির্দিষ্ট দণ্ড ও জরিমানার পরও থামেনি তাঁর এই ঔদ্ধত্য।

​গত ৬ এপ্রিল রাতে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত আমদাবাদ মাঠে মাটি কাটার দায়ে ৪ জনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১,৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। 

একই সাথে মাটি কাটার মূল হুকুমদাতা নুর ইসলামকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দণ্ডের পরেও নুর ইসলাম নিজের অপরাধ স্বীকার না করে উল্টো দম্ভ প্রকাশ করে আসছেন।

গত ৬ এপ্রিলের অভিযানে প্রশাসন কর্তৃক জরিমানা করার পর নূর ইসলাম দাবি করে বেড়াচ্ছেন যে, ওই জরিমানার মাধ্যমেই তাঁর সব অপরাধ শেষ হয়ে গেছে। তিনি স্থানীয় লোকজনের কাছে দম্ভ করে বলছেন, এখন আর কি করবেন। অপরাধ স্বীকার না করে প্রশাসনের রায়কে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা স্পষ্টত আইন অবমাননার শামিল।

​আমদাবাদ এলাকার ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ বা সরকারি খাস জমি খনন করে সরকারি বা বৈধ অনুমোদন ছাড়াই মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে জমি তৈরি করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

ইসলামে অন্যায়ভাবে জনকল্যাণের বা বাইতুল মালের সম্পত্তি দখল করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘ পরিমাণ জমিও দখল করবে, কেয়ামতের দিন সাত তবক জমি তার গলায় বেড়িস্বরূপ ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি) মসজিদ বা মাদ্রাসার মতো পবিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করা মুনাফেকির লক্ষণ। ধর্ম কখনো অপরাধ ঢাকার ঢাল হতে পারে না।

​আইনের দৃষ্টিতে: দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪৪৭ ও ৪৪৮ অনুযায়ী, সরকারি সম্পত্তি বেআইনিভাবে প্রবেশ ও দখল করা এবং জনকল্যাণমূলক সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা করা একটি স্পষ্ট ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

​সরকারি খাস জায়গায় অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে ঘর বানিয়ে থাকার অনুমতি দেওয়ার কথা বলে এবং পরবর্তীতে জমি বন্দোবস্ত এনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নূর ইসলাম সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দশ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। 

এই বিষয়ে কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। টাকার হিসেব নিয়ে তিনি দুই রকম কথা বলছেন। কখনো বলছেন টাকা মসজিদে দান করা হয়েছে, আবার কখনো বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ধর্মের নামে এই বাণিজ্য সাধারণ মানুষকে স্তম্ভিত করেছে।

​অভিযোগ রয়েছে, নূর ইসলাম শুধু সাম্প্রতিক সময়েই নয়, বরং এর অনেক আগে থেকেই সরকারি জায়গা-জমি ভোগদখল করে আসছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দখলকৃত জমির কোনো বৈধ খাজনা-কর বা সরকারি ফি পরিশোধ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। সরকারি সম্পত্তি কেউ ব্যক্তিগতভাবে লিজ বা বন্দোবস্ত ছাড়া বছরের পর বছর ভোগ করতে পারে না।

​মৌজা দুটি হলেও হাসারচর ও আমদাবাদ একই ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। এটি এলাকার যুবকদের যুগ যুগ ধরে ব্যবহার করা ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ। মৌজা ভিন্ন হলেও সরকারি সম্পদ ও প্রকৃতি রক্ষায় প্রতিবাদ করার আইনি অধিকার যে কারো রয়েছে। 

এই প্রেক্ষাপটে, খেলার মাঠ রক্ষার্থে হাসারচরের যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত দরখাস্ত পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে সরকারি সম্পত্তি দখল এবং আইনের চোখে ধুলো দেওয়ার দিন শেষ। প্রশাসন এর আগেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় এনেছে। 

জনগণের সম্পদ রক্ষায় এবং সত্য প্রকাশে বাধা প্রদানকারী অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে প্রচলিত সাংবিধানিক ও আইনি ধারায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। সরকারি সম্পদ ও ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ রক্ষায় প্রশাসন ও সচেতন মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুনামগঞ্জে দ্বীনের নাম ভাঙিয়ে খাস জমি দখল

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

​ধর্মীয় পবিত্রতা ও জনকল্যাণের নামে সরকারি সম্পত্তি জবরদখল, সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর কুৎসা রটানোর অভিযোগ রয়েছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার আমদাবাদ গ্রামের নুর ইসলামের বিরুদ্ধে। 

ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল এবং অবৈধ মাটি ব্যবসার মাধ্যমে সরকারি সম্পদ লুণ্ঠনের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের সুনির্দিষ্ট দণ্ড ও জরিমানার পরও থামেনি তাঁর এই ঔদ্ধত্য।

​গত ৬ এপ্রিল রাতে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত আমদাবাদ মাঠে মাটি কাটার দায়ে ৪ জনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১,৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। 

একই সাথে মাটি কাটার মূল হুকুমদাতা নুর ইসলামকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দণ্ডের পরেও নুর ইসলাম নিজের অপরাধ স্বীকার না করে উল্টো দম্ভ প্রকাশ করে আসছেন।

গত ৬ এপ্রিলের অভিযানে প্রশাসন কর্তৃক জরিমানা করার পর নূর ইসলাম দাবি করে বেড়াচ্ছেন যে, ওই জরিমানার মাধ্যমেই তাঁর সব অপরাধ শেষ হয়ে গেছে। তিনি স্থানীয় লোকজনের কাছে দম্ভ করে বলছেন, এখন আর কি করবেন। অপরাধ স্বীকার না করে প্রশাসনের রায়কে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা স্পষ্টত আইন অবমাননার শামিল।

​আমদাবাদ এলাকার ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ বা সরকারি খাস জমি খনন করে সরকারি বা বৈধ অনুমোদন ছাড়াই মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে জমি তৈরি করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

ইসলামে অন্যায়ভাবে জনকল্যাণের বা বাইতুল মালের সম্পত্তি দখল করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘ পরিমাণ জমিও দখল করবে, কেয়ামতের দিন সাত তবক জমি তার গলায় বেড়িস্বরূপ ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি) মসজিদ বা মাদ্রাসার মতো পবিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করা মুনাফেকির লক্ষণ। ধর্ম কখনো অপরাধ ঢাকার ঢাল হতে পারে না।

​আইনের দৃষ্টিতে: দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪৪৭ ও ৪৪৮ অনুযায়ী, সরকারি সম্পত্তি বেআইনিভাবে প্রবেশ ও দখল করা এবং জনকল্যাণমূলক সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা করা একটি স্পষ্ট ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

​সরকারি খাস জায়গায় অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে ঘর বানিয়ে থাকার অনুমতি দেওয়ার কথা বলে এবং পরবর্তীতে জমি বন্দোবস্ত এনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নূর ইসলাম সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দশ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। 

এই বিষয়ে কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। টাকার হিসেব নিয়ে তিনি দুই রকম কথা বলছেন। কখনো বলছেন টাকা মসজিদে দান করা হয়েছে, আবার কখনো বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ধর্মের নামে এই বাণিজ্য সাধারণ মানুষকে স্তম্ভিত করেছে।

​অভিযোগ রয়েছে, নূর ইসলাম শুধু সাম্প্রতিক সময়েই নয়, বরং এর অনেক আগে থেকেই সরকারি জায়গা-জমি ভোগদখল করে আসছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দখলকৃত জমির কোনো বৈধ খাজনা-কর বা সরকারি ফি পরিশোধ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। সরকারি সম্পত্তি কেউ ব্যক্তিগতভাবে লিজ বা বন্দোবস্ত ছাড়া বছরের পর বছর ভোগ করতে পারে না।

​মৌজা দুটি হলেও হাসারচর ও আমদাবাদ একই ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। এটি এলাকার যুবকদের যুগ যুগ ধরে ব্যবহার করা ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ। মৌজা ভিন্ন হলেও সরকারি সম্পদ ও প্রকৃতি রক্ষায় প্রতিবাদ করার আইনি অধিকার যে কারো রয়েছে। 

এই প্রেক্ষাপটে, খেলার মাঠ রক্ষার্থে হাসারচরের যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত দরখাস্ত পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে সরকারি সম্পত্তি দখল এবং আইনের চোখে ধুলো দেওয়ার দিন শেষ। প্রশাসন এর আগেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় এনেছে। 

জনগণের সম্পদ রক্ষায় এবং সত্য প্রকাশে বাধা প্রদানকারী অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে প্রচলিত সাংবিধানিক ও আইনি ধারায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। সরকারি সম্পদ ও ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ রক্ষায় প্রশাসন ও সচেতন মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত