জয়পুরহাট    মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

সবচেয়ে সস্তা পেঁপে,শিমের দাম আকাশছোঁয়া



সবচেয়ে সস্তা পেঁপে,শিমের দাম আকাশছোঁয়া
ছবি- সংগৃহীত

কাঁচাবাজারে সবজির দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম, আর সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে। অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার ওপরে। তবে চলতি সপ্তাহে মাছ, মাংস ও ডিমের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারভেদে অধিকাংশ পণ্যের দামে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে শসা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে দেশি শসার দাম আরও বেশি, কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

বর্ষা মৌসুমে বাজারে আসা শীতের আগাম সবজির মধ্যে শিমের দাম সবচেয়ে বেশি। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দামের সবজি পেঁপে, কেজি ৩০ টাকা।

সবজির বাড়তি দামের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে কাঁচা মরিচে। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজি ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেলেও সরবরাহ বাড়ায় এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলা ৮০ টাকা কেজি। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বেগুন কিনেছি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৬০ টাকা, এক পোয়া মরিচ কিনেছি ৩০ টাকায়। সবকিছুর দাম বেশি। আমাদের খাওয়ার মতো বাজার নাই।

বিক্রেতারা বলছেন, অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজির দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ী আবু দাউদ বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে সবজির দাম বাড়ছে। উৎপাদন বাড়লে সবজির দাম কম থাকে।

এদিকে মাংসের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা এবং চারটি ৫০ টাকা দরে। ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, ‘এখন ফার্মের মুরগির ডিম ডজন ১৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

মাছের বাজারেও তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাস ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের কিছু ধরনের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকারও বেশি।
বিক্রেতারা জানান, মাছের আকার, জীবিত বা মৃত থাকা এবং সরবরাহের ওপর দাম নির্ভর করে। বাজারভেদে একই মাছের দামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য থাকতে পারে।

মাছ বিক্রেতা জালাল বলেন, ‘মাছের দাম আগের মতোই আছে। দাম সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। মাছ বেশি এলে দাম কমে, আবার ক্রেতা বেশি হলেও দাম বেড়ে যায়।’

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সবচেয়ে সস্তা পেঁপে,শিমের দাম আকাশছোঁয়া

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কাঁচাবাজারে সবজির দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম, আর সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে। অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার ওপরে। তবে চলতি সপ্তাহে মাছ, মাংস ও ডিমের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারভেদে অধিকাংশ পণ্যের দামে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে শসা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে দেশি শসার দাম আরও বেশি, কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

বর্ষা মৌসুমে বাজারে আসা শীতের আগাম সবজির মধ্যে শিমের দাম সবচেয়ে বেশি। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দামের সবজি পেঁপে, কেজি ৩০ টাকা।

সবজির বাড়তি দামের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে কাঁচা মরিচে। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজি ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেলেও সরবরাহ বাড়ায় এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলা ৮০ টাকা কেজি। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বেগুন কিনেছি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৬০ টাকা, এক পোয়া মরিচ কিনেছি ৩০ টাকায়। সবকিছুর দাম বেশি। আমাদের খাওয়ার মতো বাজার নাই।

বিক্রেতারা বলছেন, অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজির দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ী আবু দাউদ বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে সবজির দাম বাড়ছে। উৎপাদন বাড়লে সবজির দাম কম থাকে।

এদিকে মাংসের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা এবং চারটি ৫০ টাকা দরে। ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, ‘এখন ফার্মের মুরগির ডিম ডজন ১৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

মাছের বাজারেও তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাস ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের কিছু ধরনের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকারও বেশি।
বিক্রেতারা জানান, মাছের আকার, জীবিত বা মৃত থাকা এবং সরবরাহের ওপর দাম নির্ভর করে। বাজারভেদে একই মাছের দামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য থাকতে পারে।

মাছ বিক্রেতা জালাল বলেন, ‘মাছের দাম আগের মতোই আছে। দাম সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। মাছ বেশি এলে দাম কমে, আবার ক্রেতা বেশি হলেও দাম বেড়ে যায়।’


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত