সাভারের আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক কার্যক্রম ও দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর তাকে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তার স্থলে নতুন প্রশাসক হিসেবে উপজেলা পৌকসলি মো. সাইদুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
প্রশাসকের বদলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক লেনদেন, রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে হলে শুধু মৌখিক বক্তব্য নয়, সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি ও আর্থিক হিসাবও যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের সময় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হলেও সাবেক প্রশাসক অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের পরও অফিসে অবস্থান করতেন। কোনো কোনো দিন রাত ১০টা পর্যন্ত তাকে পরিষদ কার্যালয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কোনো কোনো দিন রাতে অফিস শেষে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের বান্ডিল সঙ্গে নিয়ে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা হতেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
তবে এই অর্থের উৎস কী, কোন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা সরকারি হিসাব-নিকাশে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এবং ব্যাংকে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
অভিযোগের আরেকটি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাসায় নিয়ে যাওয়া ওই নগদ অর্থ গণনার সময় কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তবে অর্থের সঠিক পরিমাণ, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বৈধতা নিশ্চিত করতে দাপ্তরিক নথি যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ওই সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করা। বিশেষ করে ক্যাশবুক, রসিদ বই, রাজস্ব আদায়ের রেজিস্টার, ব্যাংক হিসাব, ব্যাংকে অর্থ জমার চালান, বিভিন্ন ফি ও কর আদায়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি কোন দিন কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা হাতে ছিল, কত টাকা ব্যাংকে জমা হয়েছে এবং এসব হিসাবের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না তা মিলিয়ে দেখা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা করা হলে প্রশাসকের অফিসে অবস্থানের সময় এবং নগদ অর্থ বহনের অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এরই মধ্যে নতুন প্রশাসক মোঃ সাইদুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পূর্বের অভিযোগগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সেবার প্রতিষ্ঠান। ফলে নাগরিক সেবা, রাজস্ব আদায় কিংবা আর্থিক লেনদেন সব ক্ষেত্রেই নিয়মনীতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে সাবেক প্রশাসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে এমন দাবি না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাভারের আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক কার্যক্রম ও দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর তাকে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তার স্থলে নতুন প্রশাসক হিসেবে উপজেলা পৌকসলি মো. সাইদুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
প্রশাসকের বদলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক লেনদেন, রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে হলে শুধু মৌখিক বক্তব্য নয়, সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি ও আর্থিক হিসাবও যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের সময় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হলেও সাবেক প্রশাসক অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের পরও অফিসে অবস্থান করতেন। কোনো কোনো দিন রাত ১০টা পর্যন্ত তাকে পরিষদ কার্যালয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কোনো কোনো দিন রাতে অফিস শেষে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের বান্ডিল সঙ্গে নিয়ে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা হতেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
তবে এই অর্থের উৎস কী, কোন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা সরকারি হিসাব-নিকাশে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এবং ব্যাংকে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
অভিযোগের আরেকটি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাসায় নিয়ে যাওয়া ওই নগদ অর্থ গণনার সময় কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তবে অর্থের সঠিক পরিমাণ, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বৈধতা নিশ্চিত করতে দাপ্তরিক নথি যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ওই সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করা। বিশেষ করে ক্যাশবুক, রসিদ বই, রাজস্ব আদায়ের রেজিস্টার, ব্যাংক হিসাব, ব্যাংকে অর্থ জমার চালান, বিভিন্ন ফি ও কর আদায়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি কোন দিন কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা হাতে ছিল, কত টাকা ব্যাংকে জমা হয়েছে এবং এসব হিসাবের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না তা মিলিয়ে দেখা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা করা হলে প্রশাসকের অফিসে অবস্থানের সময় এবং নগদ অর্থ বহনের অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এরই মধ্যে নতুন প্রশাসক মোঃ সাইদুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পূর্বের অভিযোগগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সেবার প্রতিষ্ঠান। ফলে নাগরিক সেবা, রাজস্ব আদায় কিংবা আর্থিক লেনদেন সব ক্ষেত্রেই নিয়মনীতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে সাবেক প্রশাসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে এমন দাবি না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন