জয়পুরহাট    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

রানীগঞ্জ বাজার মন্দির থেকে নুনদহ সড়কের বেহাল দশা



রানীগঞ্জ বাজার মন্দির থেকে নুনদহ সড়কের বেহাল দশা
ছবি : প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজার রানীগঞ্জ বাজার, মন্দির থেকে নুনদহঘাট সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার পাত্তা এমন অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর।

সড়কের কাপেটিং তুলে নতুন করে খোয়া বিছিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় বর্তমানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াঘাট উপজেল রানীগঞ্জ বাজারের মন্দির মার্কেট থেকে নুনদহঘাট ব্রিজ অতিক্রম করে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় সোয়া ৪ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। রি-সিল পদ্ধতিতে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ৭৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়। 

গত দুই বছর পূর্বে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মেসার্স মা ইন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। কিন্তু পূরনো পিচ অপসারণের কার্যক্রম চললেও অজানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করা হয়নি। কাজের অগ্রগতি থেমে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারের দেখা মিলছে না। এতে একদিকে সরকারি অর্থের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে জনগণের ভোগান্তি পরিণত হয়েছে নিত্যদিনের ঘটনায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কে খোয়া বিছানোর পর যথাযথভাবে পরবর্তী কাজ না হওয়ায় যানবাহনের চাপে খোয়া ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে কোথাও গর্ত, কোথাও উঁচু-নিচু অংশ তৈরি হয়েছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় শিক্ষক মো. আশাদুজ্জামান বলেন, সড়কটি স্থানীয় কৃষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার সময় সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য দ্রুত সড়কটি সম্পূর্ণ করা প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজ রুবানা তানজিন বলেন, “রাণীগঞ্জ বাজার–মন্দির থেকে নুনদহ ঘাট পর্যন্ত সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। নির্ধারিত ঠিকাদার চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করে থাকলে প্রকল্পের বিধি ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে পুনঃবিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কোনোভাবেই উপেক্ষা করা হবে না।”

ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রাণীগঞ্জ বাজার মন্দির থেকে নুনদহ ঘাট পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করা হবে। ঠিকাদার চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ না করে থাকলে চুক্তির শর্ত ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুনঃবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের সুযোগ থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


রানীগঞ্জ বাজার মন্দির থেকে নুনদহ সড়কের বেহাল দশা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজার রানীগঞ্জ বাজার, মন্দির থেকে নুনদহঘাট সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার পাত্তা এমন অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর।

সড়কের কাপেটিং তুলে নতুন করে খোয়া বিছিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় বর্তমানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াঘাট উপজেল রানীগঞ্জ বাজারের মন্দির মার্কেট থেকে নুনদহঘাট ব্রিজ অতিক্রম করে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় সোয়া ৪ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। রি-সিল পদ্ধতিতে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ৭৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়। 

গত দুই বছর পূর্বে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মেসার্স মা ইন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। কিন্তু পূরনো পিচ অপসারণের কার্যক্রম চললেও অজানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করা হয়নি। কাজের অগ্রগতি থেমে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারের দেখা মিলছে না। এতে একদিকে সরকারি অর্থের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে জনগণের ভোগান্তি পরিণত হয়েছে নিত্যদিনের ঘটনায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কে খোয়া বিছানোর পর যথাযথভাবে পরবর্তী কাজ না হওয়ায় যানবাহনের চাপে খোয়া ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে কোথাও গর্ত, কোথাও উঁচু-নিচু অংশ তৈরি হয়েছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় শিক্ষক মো. আশাদুজ্জামান বলেন, সড়কটি স্থানীয় কৃষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার সময় সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য দ্রুত সড়কটি সম্পূর্ণ করা প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজ রুবানা তানজিন বলেন, “রাণীগঞ্জ বাজার–মন্দির থেকে নুনদহ ঘাট পর্যন্ত সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। নির্ধারিত ঠিকাদার চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করে থাকলে প্রকল্পের বিধি ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে পুনঃবিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কোনোভাবেই উপেক্ষা করা হবে না।”

ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রাণীগঞ্জ বাজার মন্দির থেকে নুনদহ ঘাট পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করা হবে। ঠিকাদার চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ না করে থাকলে চুক্তির শর্ত ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুনঃবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের সুযোগ থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত