জয়পুরহাট    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

মাদারগঞ্জে যমুনা নদীতে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব



মাদারগঞ্জে যমুনা নদীতে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব
ছবি- প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জের যমুনা নদীতে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব চলছে এবং ইলিশগুলো অবাধে মাদারগঞ্জ উপজেলার উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে।

গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ি বাজার থেকে ২০ কে,জি ইলিশ মাছ জব্দ করেছে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। 

জানা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী যমুনা নদী থেকে দূর্গম  মানিকদার, জামাথল,ডাকাতমারাসহ বিভিন্ন  নৌকাঘাটে আকারভেদে ৬ শ থেকে ১হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এসব ইলিশ মাদারগঞ্জের আড়ত হয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে। 

মাদারগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়,মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীতে  ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় প্রজনন সময়ে মাছগুলো নদীর ভাটি অঞ্চল থেকে উজানে চলে আসে। ফলে বছরের এই সময়টাতে যমুনায় প্রচুর ইলিশ মাছ পাওয়া যায়, স্থানীয় মৎস্যজীবিরা কারেন্ট জাল,ফাঁদ জাল দিয়ে সহজে ইলিশ ধরে থাকে। 

বিভিন্ন নৌঘাট ও নির্দিষ্ট পয়েন্টে এসব ইলিশ মাছ বিক্রি করা হচ্ছে প্রকাশ্যে।  রাতের আঁধারে মাদারগঞ্জের কয়েকজন চিহ্নিত মাছ ব্যবসায়ী এইসব ইলিশ ক্রয় করে অনান্য মাছের সাথে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছে। যমুনা নদীতে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনার পরও ইলিশ ধরা ও বেচা-কেনা অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছে।

ইলিশ শিকারের সাথে জড়িত মৎস্যজীবি রবিউল,  হামিদুর ও কদ্দুস জানান, ইলিশ ধরে বিক্রি করি পেটের দায়ে। সরকার কী সুবিধা দিছে এ বিষয়ে আমরা জানি না। মাছের আকার অনুযায়ী ৬শ থেকে ১হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত ইলিশ বিক্রি করি।

মাদারগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসার কামরুজ্জামান জানান, ‘মাদারগঞ্জের সীমানার মধ্যে কোনো জেলে মাছ ধরলে এবং বিক্রি করলে ইলিশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কয়েকদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযানে ইলিশ ধরার কাজে ব্যবহৃত ৬ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বালিজুড়ি বাজারে অভিযান চালিয়ে ২০ কে,জি ইলিশ জব্দ করে ২ টি এতিম খানায় দেয়া হয়’।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন চৌধুরী জানান,‘ ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ সংরক্ষণ চলছে। এ সময়ের মধ্যে ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কয়েকদিন আগে আমরা যমুনা নদীতে মাদারগঞ্জের সীমানায় অভিযান পরিচালনা করেছি এবং ৬শ মিটার জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। কেউ ইলিশ ধরলে এবং বিক্রি করলে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে’।



আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


মাদারগঞ্জে যমুনা নদীতে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জামালপুরের মাদারগঞ্জের যমুনা নদীতে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব চলছে এবং ইলিশগুলো অবাধে মাদারগঞ্জ উপজেলার উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে।

গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ি বাজার থেকে ২০ কে,জি ইলিশ মাছ জব্দ করেছে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। 

জানা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী যমুনা নদী থেকে দূর্গম  মানিকদার, জামাথল,ডাকাতমারাসহ বিভিন্ন  নৌকাঘাটে আকারভেদে ৬ শ থেকে ১হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এসব ইলিশ মাদারগঞ্জের আড়ত হয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে। 

মাদারগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়,মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীতে  ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় প্রজনন সময়ে মাছগুলো নদীর ভাটি অঞ্চল থেকে উজানে চলে আসে। ফলে বছরের এই সময়টাতে যমুনায় প্রচুর ইলিশ মাছ পাওয়া যায়, স্থানীয় মৎস্যজীবিরা কারেন্ট জাল,ফাঁদ জাল দিয়ে সহজে ইলিশ ধরে থাকে। 

বিভিন্ন নৌঘাট ও নির্দিষ্ট পয়েন্টে এসব ইলিশ মাছ বিক্রি করা হচ্ছে প্রকাশ্যে।  রাতের আঁধারে মাদারগঞ্জের কয়েকজন চিহ্নিত মাছ ব্যবসায়ী এইসব ইলিশ ক্রয় করে অনান্য মাছের সাথে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছে। যমুনা নদীতে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনার পরও ইলিশ ধরা ও বেচা-কেনা অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছে।

ইলিশ শিকারের সাথে জড়িত মৎস্যজীবি রবিউল,  হামিদুর ও কদ্দুস জানান, ইলিশ ধরে বিক্রি করি পেটের দায়ে। সরকার কী সুবিধা দিছে এ বিষয়ে আমরা জানি না। মাছের আকার অনুযায়ী ৬শ থেকে ১হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত ইলিশ বিক্রি করি।

মাদারগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসার কামরুজ্জামান জানান, ‘মাদারগঞ্জের সীমানার মধ্যে কোনো জেলে মাছ ধরলে এবং বিক্রি করলে ইলিশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কয়েকদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযানে ইলিশ ধরার কাজে ব্যবহৃত ৬ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বালিজুড়ি বাজারে অভিযান চালিয়ে ২০ কে,জি ইলিশ জব্দ করে ২ টি এতিম খানায় দেয়া হয়’।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন চৌধুরী জানান,‘ ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ সংরক্ষণ চলছে। এ সময়ের মধ্যে ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কয়েকদিন আগে আমরা যমুনা নদীতে মাদারগঞ্জের সীমানায় অভিযান পরিচালনা করেছি এবং ৬শ মিটার জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। কেউ ইলিশ ধরলে এবং বিক্রি করলে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে’।




Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত