জয়পুরহাট    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের একটি অংশ দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে-প্রধানমন্ত্রী



পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের একটি অংশ দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে-প্রধানমন্ত্রী
ছবি- সংগৃহীত

দেশবাসীকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের একটি অংশ মিলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। সবাই সতর্ক থাকবেন।

মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি কথা বলি ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। যারা এই স্লোগানে এবং এই নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারাই এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। আপনারা দেখেছেন, দেশের কয়েকটি স্থানে কলকারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে।

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার দেশের বাইরে থেকে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে অর্থ সরবরাহ করছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। 

একদল জনগণকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, অন্যরা নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করতে চেয়েছে। এখন দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। আমি আপনাদের আজ থেকেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাব, যাতে আর কেউ কোনোদিন বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।

প্রধানমন্ত্রী বেকার সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন বন্ধ কলকারখানা খোলার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পরে রাজশাহী জেলায় বন্ধ থাকা কারখানার মালিক, অনেক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাকে ডেকে কথা বলেছি। কলকারখানা পুনরায় চালু করতে তাদের উৎসাহিত করেছি। গত সাত মাসে ছয়টি কলকারখানা চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কলকারখানা চালুর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু ডিসেম্বর,এই ১২ মাসের মধ্যে পুরো দেশে আরও ৪৬টির মতো বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব হাসপাতালে শিশু ও নারীদের জন্য পৃথক শয্যার পাশাপাশি কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিস সুবিধা নিশ্চিতেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে গ্রামের মানুষকে সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্যও শহরে ছুটতে হবে না।

জনসভার শুরুতে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এই অর্থ প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বোতাম টিপে সংশ্লিষ্ট চাষিদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষির হাতে চেক তুলে দেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে জনসভায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। এর আগে সামরিক বিমানে করে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারেক রহমান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ধর্মসভা মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের একটি অংশ দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে-প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশবাসীকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের একটি অংশ মিলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। সবাই সতর্ক থাকবেন।

মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি কথা বলি ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। যারা এই স্লোগানে এবং এই নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারাই এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। আপনারা দেখেছেন, দেশের কয়েকটি স্থানে কলকারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে।

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার দেশের বাইরে থেকে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে অর্থ সরবরাহ করছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। 

একদল জনগণকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, অন্যরা নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করতে চেয়েছে। এখন দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। আমি আপনাদের আজ থেকেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাব, যাতে আর কেউ কোনোদিন বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।

প্রধানমন্ত্রী বেকার সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন বন্ধ কলকারখানা খোলার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পরে রাজশাহী জেলায় বন্ধ থাকা কারখানার মালিক, অনেক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাকে ডেকে কথা বলেছি। কলকারখানা পুনরায় চালু করতে তাদের উৎসাহিত করেছি। গত সাত মাসে ছয়টি কলকারখানা চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কলকারখানা চালুর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু ডিসেম্বর,এই ১২ মাসের মধ্যে পুরো দেশে আরও ৪৬টির মতো বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব হাসপাতালে শিশু ও নারীদের জন্য পৃথক শয্যার পাশাপাশি কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিস সুবিধা নিশ্চিতেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে গ্রামের মানুষকে সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্যও শহরে ছুটতে হবে না।

জনসভার শুরুতে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এই অর্থ প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বোতাম টিপে সংশ্লিষ্ট চাষিদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষির হাতে চেক তুলে দেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে জনসভায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। এর আগে সামরিক বিমানে করে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারেক রহমান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ধর্মসভা মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত