জয়পুরহাট    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

যমুনার চরে বিনাচাষে গাইঞ্জা ধান,কম খরচে সোনালি স্বপ্ন কৃষকের



যমুনার চরে বিনাচাষে গাইঞ্জা ধান,কম খরচে সোনালি স্বপ্ন কৃষকের
ছবি- প্রতিনিধি

যমুনার বুকে জেগে ওঠা চর, কোথাও বালু, কোথাও পলিমাটির স্তর। সেই চরের নিচু জমিতে বিনা চাষেই গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা। জমি চাষ, সেচ ও নিড়ানির খরচ নেই বললেই চলে। তাই কম খরচে ভালো ফলনের আশায় গাইঞ্জা ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনাপাড়ের কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৫ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।

উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের নিউ সারিয়াকান্দি, পুখুরিয়া, বানিয়াজান ও ভুতবাড়ীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে চলছে গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ। নদীর পানি কমে যাওয়ায় চরের নিচু জমিতে জমে থাকা পলি ও মাটির আর্দ্রতাকে কাজে লাগিয়ে এ ধান চাষ করছেন কৃষকেরা। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলছে চারা রোপণের কাজ।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে যমুনার চরে পলিমাটি জমে। পানি কমে গেলে চরের নিচু জায়গায় ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়। এসব গর্তে জমে থাকা পানি ও পলিমাটিতে বিনা চাষেই গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ করা যায়। এতে জমি প্রস্তুত, সেচ ও নিড়ানির খরচ বেঁচে যায়। ফলে চারা কেনা ও শ্রমের খরচ ছাড়া বাড়তি ব্যয় তুলনামূলক কম হয়। তবে এবার ধানের চারার দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা বাড়তি খরচ হচ্ছে।

পুখুরিয়া চরের কৃষক আবু তালেব বলেন, প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে গাইঞ্জা ধান চাষের উপযোগী চর তেমন জেগে ওঠেনি। এ কারণে এবার ধানের চারার দাম বেশি। তবে খরচ বাড়লেও ফলন ভালো হলে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, চারা রোপণের ২০ থেকে ২৫ দিন পর জমিতে হালকা মাত্রায় ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত এ ধানে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৫ মণ ধান পাওয়া যায়। কম খরচে উৎপাদিত এ ধান পরিবারের খাদ্যচাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়েও ভূমিকা রাখে।

যমুনাপাড়ের কৃষক চান মিয়া বলেন, ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি থেকে আশ্বিন মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে এবার আশ্বিন মাসজুড়েই চারা রোপণের কাজ চলছে। ফলন ভালো হলে পরিবারের সারা বছরের চালের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ধান বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

নিউ সারিয়াকান্দি চরের কৃষক কোরবান আলী বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকৃত কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হলে যমুনাপাড়ের কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছর উপজেলার সহড়াবাড়ি, বানিয়াজান, পুখুরিয়া, নিউ সারিয়াকান্দি, ভাণ্ডারবাড়ী ও ভুতবাড়ীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে গাইঞ্জা ধানের চাষ হচ্ছে। আগে এসব বালুময় জমির অনেক অংশ পতিত থাকত। এখন সেখানে গাইঞ্জা ধান চাষ করে কৃষকেরা জমির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পারছেন। এতে তাঁদের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় খাদ্যচাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রাখছে এ চাষাবাদ।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


যমুনার চরে বিনাচাষে গাইঞ্জা ধান,কম খরচে সোনালি স্বপ্ন কৃষকের

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যমুনার বুকে জেগে ওঠা চর, কোথাও বালু, কোথাও পলিমাটির স্তর। সেই চরের নিচু জমিতে বিনা চাষেই গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা। জমি চাষ, সেচ ও নিড়ানির খরচ নেই বললেই চলে। তাই কম খরচে ভালো ফলনের আশায় গাইঞ্জা ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনাপাড়ের কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৫ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।

উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের নিউ সারিয়াকান্দি, পুখুরিয়া, বানিয়াজান ও ভুতবাড়ীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে চলছে গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ। নদীর পানি কমে যাওয়ায় চরের নিচু জমিতে জমে থাকা পলি ও মাটির আর্দ্রতাকে কাজে লাগিয়ে এ ধান চাষ করছেন কৃষকেরা। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলছে চারা রোপণের কাজ।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে যমুনার চরে পলিমাটি জমে। পানি কমে গেলে চরের নিচু জায়গায় ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়। এসব গর্তে জমে থাকা পানি ও পলিমাটিতে বিনা চাষেই গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ করা যায়। এতে জমি প্রস্তুত, সেচ ও নিড়ানির খরচ বেঁচে যায়। ফলে চারা কেনা ও শ্রমের খরচ ছাড়া বাড়তি ব্যয় তুলনামূলক কম হয়। তবে এবার ধানের চারার দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা বাড়তি খরচ হচ্ছে।

পুখুরিয়া চরের কৃষক আবু তালেব বলেন, প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে গাইঞ্জা ধান চাষের উপযোগী চর তেমন জেগে ওঠেনি। এ কারণে এবার ধানের চারার দাম বেশি। তবে খরচ বাড়লেও ফলন ভালো হলে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, চারা রোপণের ২০ থেকে ২৫ দিন পর জমিতে হালকা মাত্রায় ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত এ ধানে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৫ মণ ধান পাওয়া যায়। কম খরচে উৎপাদিত এ ধান পরিবারের খাদ্যচাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়েও ভূমিকা রাখে।

যমুনাপাড়ের কৃষক চান মিয়া বলেন, ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি থেকে আশ্বিন মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে এবার আশ্বিন মাসজুড়েই চারা রোপণের কাজ চলছে। ফলন ভালো হলে পরিবারের সারা বছরের চালের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ধান বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

নিউ সারিয়াকান্দি চরের কৃষক কোরবান আলী বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকৃত কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হলে যমুনাপাড়ের কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছর উপজেলার সহড়াবাড়ি, বানিয়াজান, পুখুরিয়া, নিউ সারিয়াকান্দি, ভাণ্ডারবাড়ী ও ভুতবাড়ীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে গাইঞ্জা ধানের চাষ হচ্ছে। আগে এসব বালুময় জমির অনেক অংশ পতিত থাকত। এখন সেখানে গাইঞ্জা ধান চাষ করে কৃষকেরা জমির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পারছেন। এতে তাঁদের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় খাদ্যচাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রাখছে এ চাষাবাদ।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত