জয়পুরহাট    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

সাধারণ নির্বাচনে

ইসরায়েলে ডানপন্থী জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা নেতানিয়াহুর



ইসরায়েলে ডানপন্থী জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা নেতানিয়াহুর
ছবি- সংগৃহীত

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে ডানপন্থী জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের জায়নবাদী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

একই সঙ্গে ইসরায়েলি আরব দলগুলোর সমর্থনে কোনো সরকার গঠন করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনে আরব দলগুলোর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মধ্যে তার এই বক্তব্য দেশটির সরকার গঠনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। 

বুধবার ভোরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনের প্রকৃত ফল জানতে আরও এক থেকে দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে দুটি বিষয় ইতিমধ্যে স্পষ্ট- লিকুদ পার্টি ইসরায়েলের বৃহত্তম একক দল এবং জায়নবাদী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডানপন্থী জোটের নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের একটি ডানপন্থী, জাতীয়তাবাদী ও শক্তিশালী সরকার গঠন করতে হবে। ইসরায়েলের অস্তিত্বের মূল ভিত্তির বিরোধী, জায়নবাদবিরোধী আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠন করে দেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নিজের সরকারের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তার নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তিনি হামাসের সামরিক নেতা মোহাম্মদ দেইফ, ইসমাইল হানিয়া ও ইয়াহিয়া সিনওয়ার, হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

নেতানিয়াহুর দাবি, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার গভীরে নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে ইসরায়েল। দেশটির অস্তিত্বের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি দূর করার পাশাপাশি ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইরান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল, আর ইসরায়েল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।’

নেতানিয়াহু আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ইরানের কাছ থেকে অস্তিত্বগত হুমকি চিরতরে দূর করার ঐতিহাসিক সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইসরায়েল। এই লক্ষ্য থেকে অন্য কোনো বিষয়কে মনোযোগ সরাতে দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, নির্বাচনে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকার গঠনের জন্য অস্বস্তিকর রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন ইসরায়েলের সাবেক কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস। তিনি নিউইয়র্কে ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিঙ্কাস বলেন, বিশ্লেষণী দৃষ্টিকোণ থেকে বিরোধী জোটের নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া তাদের সমর্থকদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী শিবিরের ভোটারদের কেউই লিকুদের সঙ্গে জোট গঠন করতে চান না। নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হলে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে ভোটাররা কখনো ক্ষমা করবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিঙ্কাসের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ভাগাভাগির কোনো ব্যবস্থা করা হলেও তাতে সরকারের অকার্যকারিতা ও অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ও আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু নেতানিয়াহু যেমন তাদের সমর্থনে সরকার গঠনের বিরোধিতা করছেন, তেমনি বিরোধী শিবিরের মধ্যেও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ফলে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল প্রকাশের পরও ইসরায়েলে সরকার গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে পারে। ক্ষমতায় কে আসবে, তার পাশাপাশি সম্ভাব্য জোটের কাঠামো এবং দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ইসরায়েলে ডানপন্থী জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে ডানপন্থী জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের জায়নবাদী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

একই সঙ্গে ইসরায়েলি আরব দলগুলোর সমর্থনে কোনো সরকার গঠন করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনে আরব দলগুলোর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মধ্যে তার এই বক্তব্য দেশটির সরকার গঠনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। 

বুধবার ভোরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনের প্রকৃত ফল জানতে আরও এক থেকে দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে দুটি বিষয় ইতিমধ্যে স্পষ্ট- লিকুদ পার্টি ইসরায়েলের বৃহত্তম একক দল এবং জায়নবাদী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডানপন্থী জোটের নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের একটি ডানপন্থী, জাতীয়তাবাদী ও শক্তিশালী সরকার গঠন করতে হবে। ইসরায়েলের অস্তিত্বের মূল ভিত্তির বিরোধী, জায়নবাদবিরোধী আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠন করে দেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নিজের সরকারের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তার নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তিনি হামাসের সামরিক নেতা মোহাম্মদ দেইফ, ইসমাইল হানিয়া ও ইয়াহিয়া সিনওয়ার, হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

নেতানিয়াহুর দাবি, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার গভীরে নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে ইসরায়েল। দেশটির অস্তিত্বের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি দূর করার পাশাপাশি ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইরান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল, আর ইসরায়েল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।’

নেতানিয়াহু আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ইরানের কাছ থেকে অস্তিত্বগত হুমকি চিরতরে দূর করার ঐতিহাসিক সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইসরায়েল। এই লক্ষ্য থেকে অন্য কোনো বিষয়কে মনোযোগ সরাতে দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, নির্বাচনে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকার গঠনের জন্য অস্বস্তিকর রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন ইসরায়েলের সাবেক কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস। তিনি নিউইয়র্কে ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিঙ্কাস বলেন, বিশ্লেষণী দৃষ্টিকোণ থেকে বিরোধী জোটের নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া তাদের সমর্থকদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী শিবিরের ভোটারদের কেউই লিকুদের সঙ্গে জোট গঠন করতে চান না। নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হলে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে ভোটাররা কখনো ক্ষমা করবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিঙ্কাসের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ভাগাভাগির কোনো ব্যবস্থা করা হলেও তাতে সরকারের অকার্যকারিতা ও অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ও আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু নেতানিয়াহু যেমন তাদের সমর্থনে সরকার গঠনের বিরোধিতা করছেন, তেমনি বিরোধী শিবিরের মধ্যেও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ফলে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল প্রকাশের পরও ইসরায়েলে সরকার গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে পারে। ক্ষমতায় কে আসবে, তার পাশাপাশি সম্ভাব্য জোটের কাঠামো এবং দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত