জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

ঘুকসির বিল পর্যটনের অপার সম্ভাবনা



ঘুকসির বিল পর্যটনের অপার সম্ভাবনা
ছবি: প্রতিনিধি

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার প্রকৃতির বুকে লুকিয়ে আছে এক মনোমুগ্ধকর জলাভূমি ঘুকসির বিল। 

এই বিল পত্নীতলা উপজেলার  আমাইড় ইউনিয়ন  , ধামইরহাট উপজেলার আড়ানগর ইউসুফপুর নিয়ে বিস্তৃত জলাভূমি। বর্ষা মৌসুমে বিলটি পনিতে ডুবে টৈম্বুবর ও আকর্ষনীয় হয়।  

বর্ষা এলেই এই বিল যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। চারদিকে থইথই পানি, সবুজ প্রকৃতি, নৌকার মৃদু দোলা আর নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণীর উপস্থিতি বিলটিকে করে তোলে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়। 

ঘুকসির বিল শুধু একটি জলাভূমি নয়; এটি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্ষা মৌসুমে বিলের বিশাল জলরাশি যেন ছোট্ট একটি হ্রদের রূপ ধারণ করে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন, নৌকাভ্রমণ করেন এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

শীতকালে বিলের পানি অনেকটাই কমে যায়। তখন এর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। অন্যদিকে বর্ষাকালে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে, যা স্থানীয় জেলেদের আয়ের অন্যতম উৎস। এভাবেই মৌসুমভেদে ঘুকসির বিল স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিলের চারপাশে রয়েছে সবুজ গাছপালা, কৃষিজমি এবং গ্রামীণ জনপদ। ভোরের সূর্যোদয় কিংবা বিকেলের সূর্যাস্তের সময় বিলের সৌন্দর্য বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। পানির ওপর সূর্যের সোনালি আলো, হালকা বাতাস আর পাখির কলকাকলি দর্শনার্থীদের মনে এনে দেয় প্রশান্তির অনুভূতি।

জীববৈচিত্র্যের দিক থেকেও ঘুকসির বিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ, জলজ উদ্ভিদ এবং মৌসুমি অতিথি পাখির আবাসস্থল হিসেবে বিলটি পরিচিত। পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের প্রাকৃতিক জলাভূমি সংরক্ষণ করা হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘুকসির বিল নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জলাধার ভরাট, অপরিকল্পিত দখল, দূষণ এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে বিলের আয়তন ও পরিবেশগত ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, বিলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, অবৈধ দখল রোধ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিকাশ ঘটানো জরুরি।

যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে ঘুকসির বিলকে একটি আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে যেমন প্রকৃতি সংরক্ষিত হবে, তেমনি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

নওগাঁর প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন ঘুকসির বিল। প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং গ্রামীণ জীবনের অনন্য মেলবন্ধন দেখতে চাইলে একবার হলেও ঘুরে আসা উচিত এই অপরূপ জলাভূমিতে।

অনেক দর্শনার্থী জানিয়েছেন বিল দেখে ভাল লাগছে তবে এখানে খাবার পানি ও টয়েলেট ব্যবস্থা নাথাকায়  খুব সমস্যা হচ্ছে  মানুষের। 

ইতোমধ্যে  নওগাঁ ২ আসনের এমপি এনামুল হক বিল পরিদর্শন করেছেন দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন।  

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঘুকসির বিল পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার প্রকৃতির বুকে লুকিয়ে আছে এক মনোমুগ্ধকর জলাভূমি ঘুকসির বিল। 

এই বিল পত্নীতলা উপজেলার  আমাইড় ইউনিয়ন  , ধামইরহাট উপজেলার আড়ানগর ইউসুফপুর নিয়ে বিস্তৃত জলাভূমি। বর্ষা মৌসুমে বিলটি পনিতে ডুবে টৈম্বুবর ও আকর্ষনীয় হয়।  

বর্ষা এলেই এই বিল যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। চারদিকে থইথই পানি, সবুজ প্রকৃতি, নৌকার মৃদু দোলা আর নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণীর উপস্থিতি বিলটিকে করে তোলে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়। 

ঘুকসির বিল শুধু একটি জলাভূমি নয়; এটি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্ষা মৌসুমে বিলের বিশাল জলরাশি যেন ছোট্ট একটি হ্রদের রূপ ধারণ করে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন, নৌকাভ্রমণ করেন এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

শীতকালে বিলের পানি অনেকটাই কমে যায়। তখন এর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। অন্যদিকে বর্ষাকালে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে, যা স্থানীয় জেলেদের আয়ের অন্যতম উৎস। এভাবেই মৌসুমভেদে ঘুকসির বিল স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিলের চারপাশে রয়েছে সবুজ গাছপালা, কৃষিজমি এবং গ্রামীণ জনপদ। ভোরের সূর্যোদয় কিংবা বিকেলের সূর্যাস্তের সময় বিলের সৌন্দর্য বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। পানির ওপর সূর্যের সোনালি আলো, হালকা বাতাস আর পাখির কলকাকলি দর্শনার্থীদের মনে এনে দেয় প্রশান্তির অনুভূতি।

জীববৈচিত্র্যের দিক থেকেও ঘুকসির বিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ, জলজ উদ্ভিদ এবং মৌসুমি অতিথি পাখির আবাসস্থল হিসেবে বিলটি পরিচিত। পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের প্রাকৃতিক জলাভূমি সংরক্ষণ করা হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘুকসির বিল নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জলাধার ভরাট, অপরিকল্পিত দখল, দূষণ এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে বিলের আয়তন ও পরিবেশগত ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, বিলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, অবৈধ দখল রোধ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিকাশ ঘটানো জরুরি।

যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে ঘুকসির বিলকে একটি আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে যেমন প্রকৃতি সংরক্ষিত হবে, তেমনি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

নওগাঁর প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন ঘুকসির বিল। প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং গ্রামীণ জীবনের অনন্য মেলবন্ধন দেখতে চাইলে একবার হলেও ঘুরে আসা উচিত এই অপরূপ জলাভূমিতে।

অনেক দর্শনার্থী জানিয়েছেন বিল দেখে ভাল লাগছে তবে এখানে খাবার পানি ও টয়েলেট ব্যবস্থা নাথাকায়  খুব সমস্যা হচ্ছে  মানুষের। 

ইতোমধ্যে  নওগাঁ ২ আসনের এমপি এনামুল হক বিল পরিদর্শন করেছেন দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন।  


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত