দশমিনা উপজেলার হাজারো মানুষের জীবন যেন এক অদৃশ্য অন্ধকারে থমকে গেছে। উপজেলার বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে বড় ধরনের টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে টানা প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে পুরো এলাকা।
রবিবার (২ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার (৩ আগস্ট) দিনভরও উপজেলার কোথাও বিদ্যুৎ স্বাভাবিক না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। ঘরের ভেতরে অসহনীয় গরম, রাতভর নির্ঘুম সময় আর অন্ধকারে নাভিশ্বাস উঠেছে মানুষের। মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, বিশুদ্ধ পানির মোটর চালানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দশমিনা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে বড় ধরনের টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ত্রুটি মেরামত সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সোমবার সকালে জেলা থেকে একটি বিশেষ টেকনিক্যাল টিম এসে মেরামতের কাজ শুরু করবে। কাজ শেষ হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ গ্রাহকরা। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হালিম বলেন,
"দশমিনায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রায়ই টেকনিক্যাল সমস্যার অজুহাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না।
দশমিনা বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন,"বারবার একই ধরনের সমস্যার কারণে আমাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে। আমরা চাই, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক।
এদিকে চলমান এইচএসসি ও ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা ঘিরেও উদ্বেগ বাড়ছে।
এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক জাহানারা বেগম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। রাতভর অন্ধকার আর অসহনীয় গরমে তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, উপজেলার ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে গ্রাহকদের নিয়মিত তথ্য জানানো এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দশমিনা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম (প্রকৌশলী) জাকির হোসেন বলেন,গত রাতে দশমিনা পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন পাওয়ার হাউসের কিছু বৈদ্যুতিক ক্যাবলে পানি ঢুকে টেকনিক্যাল ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানরা ত্রুটি মেরামতের কাজ করছেন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সব গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
দশমিনা উপজেলার হাজারো মানুষের জীবন যেন এক অদৃশ্য অন্ধকারে থমকে গেছে। উপজেলার বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে বড় ধরনের টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে টানা প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে পুরো এলাকা।
রবিবার (২ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার (৩ আগস্ট) দিনভরও উপজেলার কোথাও বিদ্যুৎ স্বাভাবিক না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। ঘরের ভেতরে অসহনীয় গরম, রাতভর নির্ঘুম সময় আর অন্ধকারে নাভিশ্বাস উঠেছে মানুষের। মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, বিশুদ্ধ পানির মোটর চালানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দশমিনা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে বড় ধরনের টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ত্রুটি মেরামত সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সোমবার সকালে জেলা থেকে একটি বিশেষ টেকনিক্যাল টিম এসে মেরামতের কাজ শুরু করবে। কাজ শেষ হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ গ্রাহকরা। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হালিম বলেন,
"দশমিনায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রায়ই টেকনিক্যাল সমস্যার অজুহাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না।
দশমিনা বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন,"বারবার একই ধরনের সমস্যার কারণে আমাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে। আমরা চাই, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক।
এদিকে চলমান এইচএসসি ও ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা ঘিরেও উদ্বেগ বাড়ছে।
এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক জাহানারা বেগম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। রাতভর অন্ধকার আর অসহনীয় গরমে তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, উপজেলার ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে গ্রাহকদের নিয়মিত তথ্য জানানো এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দশমিনা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম (প্রকৌশলী) জাকির হোসেন বলেন,গত রাতে দশমিনা পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন পাওয়ার হাউসের কিছু বৈদ্যুতিক ক্যাবলে পানি ঢুকে টেকনিক্যাল ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানরা ত্রুটি মেরামতের কাজ করছেন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সব গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন