জয়পুরহাট    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা

‎তিস্তার পানি বৃদ্ধি, বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত



‎তিস্তার পানি বৃদ্ধি, বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত
ছবি: প্রতিনিধি

‎দুই দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের বহু ফসলি জমি ও বসতবাড়ি।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার (যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার)। এর আগে সকাল ৬টা থেকেও পানি একই পরিমাপে, অর্থাৎ বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

‎​হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে চরম দুর্ভোগ ও উৎকণ্ঠায় পড়েছেন নদী তীরবর্তী চরের লাখো মানুষ। হাতীবান্ধার চর গড্ডিমারী এলাকার বাসিন্দা মমতাজ আলী বলেন, কাল রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টিও হচ্ছে। এবার বন্যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। আমরা এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়েছি, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি।

‎​কালীগঞ্জের শৈলমারী এলাকার কৃষক আশরাফ আলী জানান, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তাদের এলাকায় পানি প্রবেশ করে ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু নিয়ে পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়, ঠিকমতো পশুর খাবারও সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। 

‎একই দুর্ভোগের কথা জানিয়ে আদিতমারীর গোবর্ধন এলাকার গৃহবধূ সানজিদা আক্তার বলেন, গত রাতেই আমাদের বাড়িতে পানি উঠে গেছে। বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছি। টানা বৃষ্টির মধ্যে খুব কষ্টে দিন কাটছে। তিস্তা নদী আমাদের শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না।

‎‎​পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টিপাত ও উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে এই আকস্মিক বৃদ্ধি ঘটেছে। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

‎​ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, সকাল ৬টা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আশা করা যাচ্ছে, রাতের দিকে পানি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বেলা বাড়ার সাথে সাথে পানি কমতে শুরু করেছে। 

‎​লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে বুধবার সকাল থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

‎

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‎তিস্তার পানি বৃদ্ধি, বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

‎দুই দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের বহু ফসলি জমি ও বসতবাড়ি।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার (যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার)। এর আগে সকাল ৬টা থেকেও পানি একই পরিমাপে, অর্থাৎ বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

‎​হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে চরম দুর্ভোগ ও উৎকণ্ঠায় পড়েছেন নদী তীরবর্তী চরের লাখো মানুষ। হাতীবান্ধার চর গড্ডিমারী এলাকার বাসিন্দা মমতাজ আলী বলেন, কাল রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টিও হচ্ছে। এবার বন্যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। আমরা এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়েছি, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি।

‎​কালীগঞ্জের শৈলমারী এলাকার কৃষক আশরাফ আলী জানান, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তাদের এলাকায় পানি প্রবেশ করে ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু নিয়ে পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়, ঠিকমতো পশুর খাবারও সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। 

‎একই দুর্ভোগের কথা জানিয়ে আদিতমারীর গোবর্ধন এলাকার গৃহবধূ সানজিদা আক্তার বলেন, গত রাতেই আমাদের বাড়িতে পানি উঠে গেছে। বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছি। টানা বৃষ্টির মধ্যে খুব কষ্টে দিন কাটছে। তিস্তা নদী আমাদের শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না।

‎‎​পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টিপাত ও উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে এই আকস্মিক বৃদ্ধি ঘটেছে। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

‎​ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, সকাল ৬টা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আশা করা যাচ্ছে, রাতের দিকে পানি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বেলা বাড়ার সাথে সাথে পানি কমতে শুরু করেছে। 

‎​লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে বুধবার সকাল থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

‎


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত