জয়পুরহাট    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

মৃত্যুর পর সালমান শাহর ৯ সিনেমা মুক্তি পায়



মৃত্যুর পর সালমান শাহর ৯ সিনেমা মুক্তি পায়
ছবি- সংগৃহীত

ঢালিউডের ‘স্বপ্নের নায়ক’ সালমান শাহ মৃত্যুর ২৯ বছর পরও দর্শকের হৃদয়ে সমানভাবে জনপ্রিয়। অভিনয়, ফ্যাশন ও নিজস্ব স্টাইলের কারণে নব্বইয়ের দশকের এই তারকা এখনো নতুন প্রজন্মের কাছেও আকর্ষণের নাম। বিশেষ করে তার মৃত্যুর পর এক বছর ধরে একের পর এক সিনেমা মুক্তি পাওয়ার ঘটনা তাকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

মৌসুমীর বিপরীতে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর মাত্র সাড়ে চার বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেন ২৭টি চলচ্চিত্রে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে সালমান শাহর মৃত্যু ঢালিউডে গভীর শোকের ছায়া নামিয়ে আনে। তার মৃত্যুর সময় কয়েকটি সিনেমার কাজ চলমান ছিল। কোনো সিনেমার ডাবিং বাকি ছিল, আবার কোনো সিনেমার শুটিংও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে তার মৃত্যুর পর এসব সিনেমার কাজ শেষ করা নিয়ে নির্মাতা ও প্রযোজকদের সামনে তৈরি হয় জটিলতা।

সালমান শাহর মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পর, ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘সত্যের মৃত্যু নেই’। সিনেমাটিতে সালমানের কিছু ডাবিংয়ের কাজ বাকি ছিল, যা পরে সম্পন্ন করা হয়। সালমানকে শেষবার বড় পর্দায় দেখতে দর্শকদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। সিনেমাটিও সে সময় উল্লেখযোগ্য ব্যবসা করে।এরপর একে একে মুক্তি পেতে থাকে সালমান শাহ অভিনীত আরও কয়েকটি সিনেমা। মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া তার সিনেমাগুলোর মধ্যে ছিল ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’।

সালমান শাহ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল ‘বুকের ভেতর আগুন’। ছটকু আহমেদ পরিচালিত এ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাবনূর। তবে সিনেমাটির কাজ পুরোপুরি শেষ করতে পারেননি সালমান। পরবর্তী সময়ে গল্পে পরিবর্তন এনে কিছু অংশে ফেরদৌস আহমেদকে যুক্ত করা হয়।এ ছাড়া ‘মন মানে না’ সিনেমার অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করেন রিয়াজ। ‘স্বপ্নের নায়ক’ সিনেমার কাজও পরবর্তী সময়ে সম্পন্ন করা হয়। আর ‘কে অপরাধী’ সিনেমাটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় ওমর সানীকে নিয়ে।

সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রায় এক বছর ধরে তার অভিনীত সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। ফলে ১৯৯৭ সালজুড়ে তার সিনেমা মুক্তি পাওয়া মানেই ছিল দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও প্রেক্ষাগৃহে ভিড়।তার মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো সিনেমাগুলো দর্শকদের কাছে বিশেষ আবেগের হয়ে ওঠে। কোথাও তার উপস্থিতি সীমিত থাকলেও বড় পর্দায় প্রিয় নায়ককে দেখার আকাঙ্ক্ষাই দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টেনে নিয়েছিল।

সালমান শাহর চলচ্চিত্রজীবন ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তার প্রভাব ছিল দীর্ঘস্থায়ী। তাই মৃত্যুর পরও একের পর এক সিনেমা মুক্তির মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ সময় দর্শকের আলোচনায় ছিলেন এবং আজও বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় নায়ক হিসেবে বিবেচিত হন।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মৃত্যুর পর সালমান শাহর ৯ সিনেমা মুক্তি পায়

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢালিউডের ‘স্বপ্নের নায়ক’ সালমান শাহ মৃত্যুর ২৯ বছর পরও দর্শকের হৃদয়ে সমানভাবে জনপ্রিয়। অভিনয়, ফ্যাশন ও নিজস্ব স্টাইলের কারণে নব্বইয়ের দশকের এই তারকা এখনো নতুন প্রজন্মের কাছেও আকর্ষণের নাম। বিশেষ করে তার মৃত্যুর পর এক বছর ধরে একের পর এক সিনেমা মুক্তি পাওয়ার ঘটনা তাকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

মৌসুমীর বিপরীতে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর মাত্র সাড়ে চার বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেন ২৭টি চলচ্চিত্রে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে সালমান শাহর মৃত্যু ঢালিউডে গভীর শোকের ছায়া নামিয়ে আনে। তার মৃত্যুর সময় কয়েকটি সিনেমার কাজ চলমান ছিল। কোনো সিনেমার ডাবিং বাকি ছিল, আবার কোনো সিনেমার শুটিংও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে তার মৃত্যুর পর এসব সিনেমার কাজ শেষ করা নিয়ে নির্মাতা ও প্রযোজকদের সামনে তৈরি হয় জটিলতা।

সালমান শাহর মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পর, ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘সত্যের মৃত্যু নেই’। সিনেমাটিতে সালমানের কিছু ডাবিংয়ের কাজ বাকি ছিল, যা পরে সম্পন্ন করা হয়। সালমানকে শেষবার বড় পর্দায় দেখতে দর্শকদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। সিনেমাটিও সে সময় উল্লেখযোগ্য ব্যবসা করে।এরপর একে একে মুক্তি পেতে থাকে সালমান শাহ অভিনীত আরও কয়েকটি সিনেমা। মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া তার সিনেমাগুলোর মধ্যে ছিল ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’।

সালমান শাহ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল ‘বুকের ভেতর আগুন’। ছটকু আহমেদ পরিচালিত এ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাবনূর। তবে সিনেমাটির কাজ পুরোপুরি শেষ করতে পারেননি সালমান। পরবর্তী সময়ে গল্পে পরিবর্তন এনে কিছু অংশে ফেরদৌস আহমেদকে যুক্ত করা হয়।এ ছাড়া ‘মন মানে না’ সিনেমার অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করেন রিয়াজ। ‘স্বপ্নের নায়ক’ সিনেমার কাজও পরবর্তী সময়ে সম্পন্ন করা হয়। আর ‘কে অপরাধী’ সিনেমাটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় ওমর সানীকে নিয়ে।

সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রায় এক বছর ধরে তার অভিনীত সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। ফলে ১৯৯৭ সালজুড়ে তার সিনেমা মুক্তি পাওয়া মানেই ছিল দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও প্রেক্ষাগৃহে ভিড়।তার মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো সিনেমাগুলো দর্শকদের কাছে বিশেষ আবেগের হয়ে ওঠে। কোথাও তার উপস্থিতি সীমিত থাকলেও বড় পর্দায় প্রিয় নায়ককে দেখার আকাঙ্ক্ষাই দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টেনে নিয়েছিল।

সালমান শাহর চলচ্চিত্রজীবন ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তার প্রভাব ছিল দীর্ঘস্থায়ী। তাই মৃত্যুর পরও একের পর এক সিনেমা মুক্তির মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ সময় দর্শকের আলোচনায় ছিলেন এবং আজও বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় নায়ক হিসেবে বিবেচিত হন।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত