যে কবির নাম উচ্চারিত হলে, গান কানে ভেসে আসলে, কবিতার আবৃত্তি শুনলে শ্রদ্ধায় ভালবাসায় মন প্রাণ ভরপুর হয়ে যায় তিনি আমাদের প্রাণের কবি ,জাতীয় কবি ,বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
দুঃখ আর কষ্টে ভরা জীবনে তিনি বাংলা সাহিত্যকে যে উপহার দিয়েছেন তা হিসেব করে শেষ করা যাবেনা। এমন কোনো দল, মত, ধর্ম ,বর্ণ, চিন্তাধারার মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি নজরুলকে জানেন অথচ নজরুল ভক্ত নন।
নজরুল সবার। তিনি বলেছেন-আমি সাম্যের গান গাই,আমার চক্ষে নারী পুরুষ কোন ভেদাভেদ নাই।
শৈশবকালে ঘুম থেকে জেগে ও জাগিয়ে জীবন যাত্রা শুরু করতে হবে। তাইতো তিনি বললেন -ভোর হলো দোর খোলো খুকুমণি ওঠো রে
ওই ডাকে জুঁই শাখে ফুল খুকি ছোট রে।এই ভোর কি শুধু সেই ভোর। না জীবন শুরুর ভোর কেও ইঙ্গিত করা হয়েছে প্রচ্ছন্ন ভাবে- যেখান থেকে জীবন শুরু করতে হবে । যে সময় তিনি জন্মেছিলেন ,যে সময়ে তিনি শৈশব কৈশোর কাটিয়ে এগুচিছলেন, দেশ ও সমাজকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন। সে সময়টা ছিল কঠিন পরাধীনতার যুগ। ব্রিটিশ শাসন আমল। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীরা যখন জনগণকে জেগে তুলতে হতাশ সে সময় তিনি শুরু করলেন বিদ্রোহের গান ও কবিতার লেখনি। তাঁর লেখা কবিতা ধুমকেতু যুব সমাজকে জাগ্রত করল, শপথ নিতে শিখালো স্বাধীনতার আন্দোলনে। এই কাব্যগ্রন্থ লেখার জন্য রাষ্ট্র দ্রোহ মামলায় বৃটিশ সরকার তাঁকে জেলে পুরালো। তিনি লিখলেন, "কারার ঐ লৌহ কপাট ভেঙে ফেল কররে লোপাট।" তাকে বলা হলো এসব বন্ধ করলে মুক্তি দেয়া হবে। জবাবে কবি লিখেছেন -একটি কবিতা "বিদ্রোহী" যা ভারতবর্ষে আলোড়ন তুলেছিল সেই সময়।
কবি বলেন -আমি বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত ,আমি সেই দিন হব শান্ত । যবে উৎপিড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবেনা ,অত্যাচারীর খরগ কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবেনা বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত ,আমি সেইদিন হবো শান্ত।কবি নজরুল এর কবিতা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে অগ্নি তে ঘি ঢালার মতো কাজ করে।মুসলিম সমাজের সঙ্কীর্ণ চিন্তা চেতনায় কুঠারাঘাত করে তিনি লিখেছেন -বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে আমরা তখনো পিছে।বিবি তালাকের ফতোয়া খুজিতেছি কোরআন হাদিস চষে। তাঁর লেখা প্রেম ভালোবাসার গান যখন শুনি মনে হয় এক প্রেম পাগল -"তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় সেকি মোর অপরাধ।"
কবি লিখেন -শাওন ও রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে, বাহিরে ঝরো বহে নয়নে বারি ঝরে।অন্যদিকে ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতায় বিশ্ব সেরা তাঁর গান। তিনি অসংখ্য হামদ্ লিখেছেন মহা প্রভুর শানে -হে খোদা দয়াময়, রহমানু রাহিম হে বিরাট হে মহান, হে অনন্ত অসীম। হৃদয় এর গভীর থেকে গভীরে গিয়ে লিখেছেন মন জুড়ানো নাতে রাসুল -আমি যদি আরব হতাম মদিনার ই পথ ,সে-ই পথে মোর হেঁটে যেতেন নূর নবী হযরত। পরকালে নাজাত পাওয়ার আশায় তাঁর মতো করে লিখলেন -মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই ,যেনো গোরে থেকে ও মোয়াজ্জিন এর আজান শুনতে পাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে চীর নিদ্রায় শায়িত বাংলার আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে দেয়া এই মহাকবির স্মৃতি কখনো ,কোন কালে ভুলিবেনা কেউ।
অধ্যক্ষ মোঃ আনিছুর রহমান
লেখক ও কলামিস্ট ,কড়িয়া মাদ্রাসা,পাঁচবিবি জয়পুরহাট।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যে কবির নাম উচ্চারিত হলে, গান কানে ভেসে আসলে, কবিতার আবৃত্তি শুনলে শ্রদ্ধায় ভালবাসায় মন প্রাণ ভরপুর হয়ে যায় তিনি আমাদের প্রাণের কবি ,জাতীয় কবি ,বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
দুঃখ আর কষ্টে ভরা জীবনে তিনি বাংলা সাহিত্যকে যে উপহার দিয়েছেন তা হিসেব করে শেষ করা যাবেনা। এমন কোনো দল, মত, ধর্ম ,বর্ণ, চিন্তাধারার মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি নজরুলকে জানেন অথচ নজরুল ভক্ত নন।
নজরুল সবার। তিনি বলেছেন-আমি সাম্যের গান গাই,আমার চক্ষে নারী পুরুষ কোন ভেদাভেদ নাই।
শৈশবকালে ঘুম থেকে জেগে ও জাগিয়ে জীবন যাত্রা শুরু করতে হবে। তাইতো তিনি বললেন -ভোর হলো দোর খোলো খুকুমণি ওঠো রে
ওই ডাকে জুঁই শাখে ফুল খুকি ছোট রে।এই ভোর কি শুধু সেই ভোর। না জীবন শুরুর ভোর কেও ইঙ্গিত করা হয়েছে প্রচ্ছন্ন ভাবে- যেখান থেকে জীবন শুরু করতে হবে । যে সময় তিনি জন্মেছিলেন ,যে সময়ে তিনি শৈশব কৈশোর কাটিয়ে এগুচিছলেন, দেশ ও সমাজকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন। সে সময়টা ছিল কঠিন পরাধীনতার যুগ। ব্রিটিশ শাসন আমল। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীরা যখন জনগণকে জেগে তুলতে হতাশ সে সময় তিনি শুরু করলেন বিদ্রোহের গান ও কবিতার লেখনি। তাঁর লেখা কবিতা ধুমকেতু যুব সমাজকে জাগ্রত করল, শপথ নিতে শিখালো স্বাধীনতার আন্দোলনে। এই কাব্যগ্রন্থ লেখার জন্য রাষ্ট্র দ্রোহ মামলায় বৃটিশ সরকার তাঁকে জেলে পুরালো। তিনি লিখলেন, "কারার ঐ লৌহ কপাট ভেঙে ফেল কররে লোপাট।" তাকে বলা হলো এসব বন্ধ করলে মুক্তি দেয়া হবে। জবাবে কবি লিখেছেন -একটি কবিতা "বিদ্রোহী" যা ভারতবর্ষে আলোড়ন তুলেছিল সেই সময়।
কবি বলেন -আমি বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত ,আমি সেই দিন হব শান্ত । যবে উৎপিড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবেনা ,অত্যাচারীর খরগ কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবেনা বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত ,আমি সেইদিন হবো শান্ত।কবি নজরুল এর কবিতা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে অগ্নি তে ঘি ঢালার মতো কাজ করে।মুসলিম সমাজের সঙ্কীর্ণ চিন্তা চেতনায় কুঠারাঘাত করে তিনি লিখেছেন -বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে আমরা তখনো পিছে।বিবি তালাকের ফতোয়া খুজিতেছি কোরআন হাদিস চষে। তাঁর লেখা প্রেম ভালোবাসার গান যখন শুনি মনে হয় এক প্রেম পাগল -"তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় সেকি মোর অপরাধ।"
কবি লিখেন -শাওন ও রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে, বাহিরে ঝরো বহে নয়নে বারি ঝরে।অন্যদিকে ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতায় বিশ্ব সেরা তাঁর গান। তিনি অসংখ্য হামদ্ লিখেছেন মহা প্রভুর শানে -হে খোদা দয়াময়, রহমানু রাহিম হে বিরাট হে মহান, হে অনন্ত অসীম। হৃদয় এর গভীর থেকে গভীরে গিয়ে লিখেছেন মন জুড়ানো নাতে রাসুল -আমি যদি আরব হতাম মদিনার ই পথ ,সে-ই পথে মোর হেঁটে যেতেন নূর নবী হযরত। পরকালে নাজাত পাওয়ার আশায় তাঁর মতো করে লিখলেন -মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই ,যেনো গোরে থেকে ও মোয়াজ্জিন এর আজান শুনতে পাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে চীর নিদ্রায় শায়িত বাংলার আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে দেয়া এই মহাকবির স্মৃতি কখনো ,কোন কালে ভুলিবেনা কেউ।
অধ্যক্ষ মোঃ আনিছুর রহমান
লেখক ও কলামিস্ট ,কড়িয়া মাদ্রাসা,পাঁচবিবি জয়পুরহাট।

আপনার মতামত লিখুন