জয়পুরহাট    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

ফলন ভালো, দাম তলানিতে, আউশে লোকসানের মুখে নওগাঁর কৃষকরা



ফলন ভালো, দাম তলানিতে, আউশে লোকসানের মুখে নওগাঁর কৃষকরা
ছবি : প্রতিনিধি

মাঠজুড়ে এবার সোনালি ধানের সমারোহ। আউশের ফলনও হয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো। কিন্তু সেই সোনালি ধানই এখন কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। উৎপাদন করে ঘরে তোলার পর বাজারে এসে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হিসাব মিলছে না কৃষকের। 

অনেক ক্ষেত্রে ধান বিক্রি করে উঠছে না উৎপাদন খরচও। ফলে বাম্পার ফলনের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে নওগাঁর কৃষকের। একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ধানের বাজারদর কমছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঋণের চাপ, পারিবারিক ব্যয় ও পরবর্তী আমন চাষের প্রস্তুতির খরচ। ফলে আউশের ধান ঘরে উঠলেও কৃষকের হাতে থাকছে না কাঙ্ক্ষিত আয়।

কৃষকদের দাবি, শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি। তা না হলে মাঠে বাম্পার ফলনের পরও কৃষকের মুখে হাসি ফিরবে না। বরং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সামনে আমন মৌসুমেও একই সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা

জেলার বিভিন্ন ধানের হাট ঘুরে দেখা গেছে, জিরোশাইল, কাটারি ও বিআর-২৮ জাতের ধান বর্তমানে প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার জাতভেদে প্রতি মণ ধানের দাম কমেছে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। 

বিপরীতে বেড়েছে চাষাবাদের প্রায় প্রতিটি খাতের ব্যয়। সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক, জমি প্রস্তুত এবং শ্রমিকের মজুরি সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে ভালো ফলন পেয়েও লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, অনেক কৃষককে মূলধন হারানোর আশঙ্কায় ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে নওগাঁয় ৫১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছিল। এবার আবাদ বেড়ে হয়েছে ৫৮ হাজার ৪৭৩ হেক্টর। কৃষি বিভাগের হিসাবে, প্রতি একর জমিতে আউশ ধান উৎপাদনে গড়ে খরচ হয়েছে ৬৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে বিঘাপ্রতি উৎপাদন ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার টাকা।

কৃষকদের হিসাবে চিত্রটি আরও কঠিন। এবার এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২২ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা হিসাবে বিক্রি করলে এক বিঘা জমির ধান থেকে কৃষকের আয় হচ্ছে প্রায় ১৬ থেকে ১৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ, ধানের ফলন ভালো হলেও বিক্রির টাকায় অনেকের উৎপাদন খরচই উঠছে না।

রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রামের কৃষক মোজাফফর হোসেন আবাদপুকুর হাটে ধান নিয়ে এসেছিলেন। বাজারদর নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ধানের দাম খুব কম। এই দামে ধান বিক্রি করলে চাষের খরচই উঠবে না। কিন্তু সংসারের খরচ আছে। তাই বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

মহাদেবপুর উপজেলা সদরের ধানের হাটে ১২ মণ জিরোশাইল ধান নিয়ে এসেছিলেন মহিষবাতান গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, দাম শুনে আর কী হবে। আমাদের দুঃখ-কষ্ট কেউ দেখে না। প্রতি মণ ধান ৮০০ টাকা দরে বিক্রির কথা বলছিল। 

ধান বাজারে আনতেই পরিবহন খরচ হয়েছে। এখন ধান বিক্রি না করে বাড়ি নিয়ে গেলে আবার ভাড়া দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে প্রতি মণ ৮৮০ টাকা দরে ১০ মণ ধান বিক্রি করেছি। অথচ গত বছর একই আউশ ধান ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিলাম।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান কাটার পরপরই তাঁদের সামনে একসঙ্গে কয়েকটি আর্থিক চাপ এসে পড়ে। কারও ঋণের কিস্তি দিতে হয়, কারও জমির বর্গার টাকা পরিশোধ করতে হয়। 

আবার সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেও ধান বিক্রির অর্থের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে বাজারদর পছন্দ না হলেও অনেক কৃষকের হাতে ধান ধরে রাখার সুযোগ নেই।

মান্দা উপজেলার মৈণম গ্রামের কৃষক দিলীপ দাস চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আউশ আবাদ করেছেন। চাষের জন্য সমিতি থেকে ঋণও নিয়েছেন তিনি। দিলীপ দাস বলেন, চার বিঘা জমিতে আউশ চাষ করতে তাঁর প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ধানের দাম কমে যাওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ এবং সংসারের ব্যয় মেটানো নিয়ে তিনি এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

নওগাঁর চকগৌরি এলাকার ধান ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামের ভাষ্য, বর্তমানে ধানের বাজার নিম্নমুখী। আউশ ধান বাজারে আসার পর থেকেই দর কমতে শুরু করেছে। দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। 

তিনি বলেন, বর্তমানে কাটারি ধান প্রতি মণ ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা, জিরোশাইল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং বিআর-২৮ জাতের ধান ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কৃষকের উৎপাদন খরচ যখন ঊর্ধ্বমুখী, ঠিক তখনই তাঁর উৎপাদিত পণ্যের বাজারদর নেমে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ওপর।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি একর আউশ ধান উৎপাদনে কৃষকের গড় খরচ হয়েছে ৬৪ হাজার টাকা। 

প্রতি মণ ধান ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে কৃষক লাভবান হতে পারতেন। কৃষকের কাছ থেকে ধান কম দামে কেনা হলেও স্থানীয় চালের বাজারে এর সরাসরি কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। নওগাঁর বিভিন্ন বাজারে মোটা ও সরু জাতের চাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। ফলে উৎপাদন পর্যায়ে ধানের দর কমলেও সেই সুবিধা ভোক্তার পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না।

চালকল মালিকদের দাবি, গত বোরো মৌসুমে দেশে ধানের ভালো উৎপাদন হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল আমদানি হওয়ায় বাজারে পর্যাপ্ত মজুত তৈরি হয়েছে। এতে দেশীয় চালের চাহিদা কমেছে। করপোরেট পর্যায়েও চালের বিক্রি কমে যাওয়ায় মিলাররা ধান কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়েছে। এর ফলে দেশে উৎপাদিত চালের চাহিদা কমেছে। সামনে আমন মৌসুমও রয়েছে। পরিস্থিতি এমন থাকলে আমন মৌসুমেও কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

তিনি বলেন, নওগাঁর কৃষকের কাছে ভালো ফলন সাধারণত আশীর্বাদ হিসেবে আসে। কিন্তু উৎপাদনের পর বাজারে ন্যায্য দাম না মিললে সেই ফলনই হয়ে ওঠে লোকসানের কারণ। এবার আউশে ঠিক সেই বাস্তবতার মুখোমুখি তারা। 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফলন ভালো, দাম তলানিতে, আউশে লোকসানের মুখে নওগাঁর কৃষকরা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মাঠজুড়ে এবার সোনালি ধানের সমারোহ। আউশের ফলনও হয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো। কিন্তু সেই সোনালি ধানই এখন কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। উৎপাদন করে ঘরে তোলার পর বাজারে এসে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হিসাব মিলছে না কৃষকের। 

অনেক ক্ষেত্রে ধান বিক্রি করে উঠছে না উৎপাদন খরচও। ফলে বাম্পার ফলনের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে নওগাঁর কৃষকের। একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ধানের বাজারদর কমছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঋণের চাপ, পারিবারিক ব্যয় ও পরবর্তী আমন চাষের প্রস্তুতির খরচ। ফলে আউশের ধান ঘরে উঠলেও কৃষকের হাতে থাকছে না কাঙ্ক্ষিত আয়।

কৃষকদের দাবি, শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি। তা না হলে মাঠে বাম্পার ফলনের পরও কৃষকের মুখে হাসি ফিরবে না। বরং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সামনে আমন মৌসুমেও একই সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা

জেলার বিভিন্ন ধানের হাট ঘুরে দেখা গেছে, জিরোশাইল, কাটারি ও বিআর-২৮ জাতের ধান বর্তমানে প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার জাতভেদে প্রতি মণ ধানের দাম কমেছে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। 

বিপরীতে বেড়েছে চাষাবাদের প্রায় প্রতিটি খাতের ব্যয়। সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক, জমি প্রস্তুত এবং শ্রমিকের মজুরি সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে ভালো ফলন পেয়েও লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, অনেক কৃষককে মূলধন হারানোর আশঙ্কায় ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে নওগাঁয় ৫১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছিল। এবার আবাদ বেড়ে হয়েছে ৫৮ হাজার ৪৭৩ হেক্টর। কৃষি বিভাগের হিসাবে, প্রতি একর জমিতে আউশ ধান উৎপাদনে গড়ে খরচ হয়েছে ৬৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে বিঘাপ্রতি উৎপাদন ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার টাকা।

কৃষকদের হিসাবে চিত্রটি আরও কঠিন। এবার এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২২ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা হিসাবে বিক্রি করলে এক বিঘা জমির ধান থেকে কৃষকের আয় হচ্ছে প্রায় ১৬ থেকে ১৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ, ধানের ফলন ভালো হলেও বিক্রির টাকায় অনেকের উৎপাদন খরচই উঠছে না।

রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রামের কৃষক মোজাফফর হোসেন আবাদপুকুর হাটে ধান নিয়ে এসেছিলেন। বাজারদর নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ধানের দাম খুব কম। এই দামে ধান বিক্রি করলে চাষের খরচই উঠবে না। কিন্তু সংসারের খরচ আছে। তাই বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

মহাদেবপুর উপজেলা সদরের ধানের হাটে ১২ মণ জিরোশাইল ধান নিয়ে এসেছিলেন মহিষবাতান গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, দাম শুনে আর কী হবে। আমাদের দুঃখ-কষ্ট কেউ দেখে না। প্রতি মণ ধান ৮০০ টাকা দরে বিক্রির কথা বলছিল। 

ধান বাজারে আনতেই পরিবহন খরচ হয়েছে। এখন ধান বিক্রি না করে বাড়ি নিয়ে গেলে আবার ভাড়া দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে প্রতি মণ ৮৮০ টাকা দরে ১০ মণ ধান বিক্রি করেছি। অথচ গত বছর একই আউশ ধান ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিলাম।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান কাটার পরপরই তাঁদের সামনে একসঙ্গে কয়েকটি আর্থিক চাপ এসে পড়ে। কারও ঋণের কিস্তি দিতে হয়, কারও জমির বর্গার টাকা পরিশোধ করতে হয়। 

আবার সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেও ধান বিক্রির অর্থের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে বাজারদর পছন্দ না হলেও অনেক কৃষকের হাতে ধান ধরে রাখার সুযোগ নেই।

মান্দা উপজেলার মৈণম গ্রামের কৃষক দিলীপ দাস চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আউশ আবাদ করেছেন। চাষের জন্য সমিতি থেকে ঋণও নিয়েছেন তিনি। দিলীপ দাস বলেন, চার বিঘা জমিতে আউশ চাষ করতে তাঁর প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ধানের দাম কমে যাওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ এবং সংসারের ব্যয় মেটানো নিয়ে তিনি এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

নওগাঁর চকগৌরি এলাকার ধান ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামের ভাষ্য, বর্তমানে ধানের বাজার নিম্নমুখী। আউশ ধান বাজারে আসার পর থেকেই দর কমতে শুরু করেছে। দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। 

তিনি বলেন, বর্তমানে কাটারি ধান প্রতি মণ ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা, জিরোশাইল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং বিআর-২৮ জাতের ধান ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কৃষকের উৎপাদন খরচ যখন ঊর্ধ্বমুখী, ঠিক তখনই তাঁর উৎপাদিত পণ্যের বাজারদর নেমে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ওপর।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি একর আউশ ধান উৎপাদনে কৃষকের গড় খরচ হয়েছে ৬৪ হাজার টাকা। 

প্রতি মণ ধান ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে কৃষক লাভবান হতে পারতেন। কৃষকের কাছ থেকে ধান কম দামে কেনা হলেও স্থানীয় চালের বাজারে এর সরাসরি কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। নওগাঁর বিভিন্ন বাজারে মোটা ও সরু জাতের চাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। ফলে উৎপাদন পর্যায়ে ধানের দর কমলেও সেই সুবিধা ভোক্তার পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না।

চালকল মালিকদের দাবি, গত বোরো মৌসুমে দেশে ধানের ভালো উৎপাদন হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল আমদানি হওয়ায় বাজারে পর্যাপ্ত মজুত তৈরি হয়েছে। এতে দেশীয় চালের চাহিদা কমেছে। করপোরেট পর্যায়েও চালের বিক্রি কমে যাওয়ায় মিলাররা ধান কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়েছে। এর ফলে দেশে উৎপাদিত চালের চাহিদা কমেছে। সামনে আমন মৌসুমও রয়েছে। পরিস্থিতি এমন থাকলে আমন মৌসুমেও কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

তিনি বলেন, নওগাঁর কৃষকের কাছে ভালো ফলন সাধারণত আশীর্বাদ হিসেবে আসে। কিন্তু উৎপাদনের পর বাজারে ন্যায্য দাম না মিললে সেই ফলনই হয়ে ওঠে লোকসানের কারণ। এবার আউশে ঠিক সেই বাস্তবতার মুখোমুখি তারা। 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত