লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে গভীর রাতে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তের তাণ্ডব, গুলাগুলি করে দোকান লুটের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত একটার দিকে উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরাস্তা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ার শব্দ শুনে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত একটার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন গুলাগুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে উঠে। এসময় সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে কেউ রাস্তায় বের হতে সাহস করেনি।
এ সুযোগে চৌরাস্তা মোড়ে চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন হাওলাদারের ছেলে নুর হোসেন রাকিব ও মোঃ জামাল উদ্দিনের দুটি দোকান ভাঙচুর ও লুট করা হয়। দোকান দুটি গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন রাকিব ও জামাল।
তখন দোকানে চাল, সয়াবিন ডিজেল-পেট্রোলের বেশ কয়েকটি ব্যারেল , চিনি, গরুর খাদ্য ও ব্রয়লার মুরগি ও একটি সেলুন দোকানের মালামাল, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইলসহ প্রায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী রাকিব ও জামাল। ঘটনার সময় ৯৯৯ এ ফোন করেও পুলিশের সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাত গভীর হওয়ার পর হঠাৎ স্থানীয় মাকছুদ মোল্লা ও আরাফাতের নেতৃত্বে আলেকজান্ডার থেকে ভাড়াটে দেড়শো থেকে দুইশ লোকের ভাড়াটে লোকজন দুটি ট্রাকসহ দেশীয় লাঠিসোটা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই এলাকায় প্রবেশ করে। তারা প্রথমে দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করে।
এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের অভিযোগও করেন। পরে মালামাল সহ সম্পুর্ন দোকানঘর ট্রাকভর্তি করে লুটে নেয়।
স্থানীয়র-মোঃ ওমর ফারুক, সুমন চন্দ্র শীল অভিযোগ করে বলেন, হামলার আকস্মিকতায় আশপাশের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
পরে হামলাকারীরা চলে গেলে ঘটনাস্থলে এসে তারা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোতে লুটপাট ও ভাঙচুরের চিত্র দেখতে পান। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, লুট হওয়া মালামাল, নগদ টাকা ও দোকানের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে তাদের প্রায় ৩০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রাকিব বলেন, “রাতের আঁধারে হঠাৎ করে অস্ত্রধারীরা হামলা চালায়। গুলির শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপর দোকানঘর সহ মালামাল নিয়ে যায়। আমরা ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে এখন দিশেহারা।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত জামাল বলেন, মধ্যরাতে এমন সশস্ত্র হামলার ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মাকছুদ মোল্লা বলেন, যে জায়গায় দোকানঘর রয়েছে। ওই জায়গা তাদের নয়।প্রতিপক্ষ তার জায়গায় জোর করে দোকান নির্মাণ করেন। গুলাগুলি ও লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে কেউ তাকে জানায়নি।
রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, জমিজমা নিয়ে দু'পক্ষের ঝামেলার খবর তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে থানায় কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে গভীর রাতে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তের তাণ্ডব, গুলাগুলি করে দোকান লুটের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত একটার দিকে উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরাস্তা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ার শব্দ শুনে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত একটার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন গুলাগুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে উঠে। এসময় সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে কেউ রাস্তায় বের হতে সাহস করেনি।
এ সুযোগে চৌরাস্তা মোড়ে চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন হাওলাদারের ছেলে নুর হোসেন রাকিব ও মোঃ জামাল উদ্দিনের দুটি দোকান ভাঙচুর ও লুট করা হয়। দোকান দুটি গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন রাকিব ও জামাল।
তখন দোকানে চাল, সয়াবিন ডিজেল-পেট্রোলের বেশ কয়েকটি ব্যারেল , চিনি, গরুর খাদ্য ও ব্রয়লার মুরগি ও একটি সেলুন দোকানের মালামাল, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইলসহ প্রায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী রাকিব ও জামাল। ঘটনার সময় ৯৯৯ এ ফোন করেও পুলিশের সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাত গভীর হওয়ার পর হঠাৎ স্থানীয় মাকছুদ মোল্লা ও আরাফাতের নেতৃত্বে আলেকজান্ডার থেকে ভাড়াটে দেড়শো থেকে দুইশ লোকের ভাড়াটে লোকজন দুটি ট্রাকসহ দেশীয় লাঠিসোটা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই এলাকায় প্রবেশ করে। তারা প্রথমে দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করে।
এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের অভিযোগও করেন। পরে মালামাল সহ সম্পুর্ন দোকানঘর ট্রাকভর্তি করে লুটে নেয়।
স্থানীয়র-মোঃ ওমর ফারুক, সুমন চন্দ্র শীল অভিযোগ করে বলেন, হামলার আকস্মিকতায় আশপাশের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
পরে হামলাকারীরা চলে গেলে ঘটনাস্থলে এসে তারা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোতে লুটপাট ও ভাঙচুরের চিত্র দেখতে পান। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, লুট হওয়া মালামাল, নগদ টাকা ও দোকানের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে তাদের প্রায় ৩০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রাকিব বলেন, “রাতের আঁধারে হঠাৎ করে অস্ত্রধারীরা হামলা চালায়। গুলির শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপর দোকানঘর সহ মালামাল নিয়ে যায়। আমরা ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে এখন দিশেহারা।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত জামাল বলেন, মধ্যরাতে এমন সশস্ত্র হামলার ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মাকছুদ মোল্লা বলেন, যে জায়গায় দোকানঘর রয়েছে। ওই জায়গা তাদের নয়।প্রতিপক্ষ তার জায়গায় জোর করে দোকান নির্মাণ করেন। গুলাগুলি ও লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে কেউ তাকে জানায়নি।
রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, জমিজমা নিয়ে দু'পক্ষের ঝামেলার খবর তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে থানায় কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন