নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের মোল্লাকুড়ি এলাকায় অবস্থিত আরিফ মেমোরিয়াল কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা সংকট। প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত করে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।
কলেজটির প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আরিফ মেমোরিয়াল কলেজের EIIN নম্বর ১২৩৪০৬। প্রতিষ্ঠানটি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০০৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পায়। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নথিতেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কমিটি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাবেক ডেপুটি স্পিকার আক্তার হামিদ সিদ্দিকীর উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকরা পাঠদান করে আসছেন। তবে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যেতে পারছে না।
শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা না থাকায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এমপিওভুক্তির সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ কমছে বলে দাবি তাদের। এতে একটি সম্ভাবনাময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষক শহিদুল ইসলাম (পলাশ) বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান করে আসছি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের নানা সংকটের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এমপিওভুক্ত করা হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীরাও আগ্রহ নিয়ে ভর্তি হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাদেবপুরের এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আরিফ মেমোরিয়াল কলেজটি গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদের দাবি, যাচাই-বাছাই করে যোগ্যতা ও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কলেজটিকে এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হোক।
এদিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ২০২৫ সালের আর্কাইভেও আরিফ মেমোরিয়াল কলেজকে ঘিরে প্রশাসনিক বিষয়ে নথি প্রকাশিত হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার প্রমাণ বহন করে।
শিক্ষক ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংখ্যা, অবকাঠামো ও অন্যান্য সরকারি শর্ত যাচাই করবে। এরপর যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা হলে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তাদের দাবি, আরিফ মেমোরিয়াল কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।
এখন স্থানীয়দের দৃষ্টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও সরকারের দিকে—কবে মিলবে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এমপিওভুক্তির সুযোগ, আর কবে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সুবিধার আওতায় এসে আরও গতিশীলভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের মোল্লাকুড়ি এলাকায় অবস্থিত আরিফ মেমোরিয়াল কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা সংকট। প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত করে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।
কলেজটির প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আরিফ মেমোরিয়াল কলেজের EIIN নম্বর ১২৩৪০৬। প্রতিষ্ঠানটি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০০৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পায়। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নথিতেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কমিটি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাবেক ডেপুটি স্পিকার আক্তার হামিদ সিদ্দিকীর উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকরা পাঠদান করে আসছেন। তবে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যেতে পারছে না।
শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা না থাকায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এমপিওভুক্তির সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ কমছে বলে দাবি তাদের। এতে একটি সম্ভাবনাময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষক শহিদুল ইসলাম (পলাশ) বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান করে আসছি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের নানা সংকটের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এমপিওভুক্ত করা হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীরাও আগ্রহ নিয়ে ভর্তি হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাদেবপুরের এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আরিফ মেমোরিয়াল কলেজটি গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদের দাবি, যাচাই-বাছাই করে যোগ্যতা ও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কলেজটিকে এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হোক।
এদিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ২০২৫ সালের আর্কাইভেও আরিফ মেমোরিয়াল কলেজকে ঘিরে প্রশাসনিক বিষয়ে নথি প্রকাশিত হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার প্রমাণ বহন করে।
শিক্ষক ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংখ্যা, অবকাঠামো ও অন্যান্য সরকারি শর্ত যাচাই করবে। এরপর যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা হলে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তাদের দাবি, আরিফ মেমোরিয়াল কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।
এখন স্থানীয়দের দৃষ্টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও সরকারের দিকে—কবে মিলবে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এমপিওভুক্তির সুযোগ, আর কবে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সুবিধার আওতায় এসে আরও গতিশীলভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন