জয়পুরহাট    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা আছে

ভবন নেই,চার বছর অস্থায়ী কক্ষে স্বাস্থ্যসেবা



ভবন নেই,চার বছর অস্থায়ী কক্ষে স্বাস্থ্যসেবা
ছবি : প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবন চার বছর ধরে ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে নিজস্ব ভবনে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ থাকলেও কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। প্রথমে প্রায় এক বছর ভাড়া বাসায় এবং পরে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে সীমিত পরিসরে চলছে কেন্দ্রটির সেবা। 

১৯৭৭-৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রটি সিংড়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার পর নতুন ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভবন ও কোয়ার্টার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার বিষয়ে তৎকালীন উপপরিচালকের উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পরিত্যক্ত ঘোষণার লিখিত পত্র পাওয়া যায়নি।

ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার পর সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগিতায় প্রথমে ভাড়া বাসায় কার্যক্রম চালানো হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই অস্থায়ী ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিকল্প নয়। এতে রোগী ব্যবস্থাপনা, ওষুধ সংরক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

সেবা নিতে আসা মরিচা গ্রামের মোকসেদ আলী বলেন, কয়েকদিন আগে স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে ভবন বন্ধ দেখে বাড়ি ফিরে যান। পরে জানতে পারেন, ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে কার্যক্রম চলছে। তাঁর মতো অনেক রোগীই কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থান জানেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নারী, শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হওয়া জরুরি। তাই নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোছা. হাসনে আরা বানু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নিজস্ব ভবন না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। সেখানে স্টোর রুমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদেরও একই কক্ষে বসে কাজ করতে হয়। ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে রোগীদের ব্যক্তিগত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, নিজস্ব ভবনের অভাবে নিয়মিত মাসিক ক্যাম্প পরিচালনা, রোগীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাসিক সভা আয়োজনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সীমিত জায়গায় রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে আমাদের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। 

এবিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহমদ ঈসা জানান, কেন্দ্রটি পাঁচ বছর মেয়াদি অপারেশন প্ল্যানে পুনর্নির্মাণের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মৌখিকভাবে এ তথ্য জানা গেছে। তবে নির্মাণকাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভবন নেই,চার বছর অস্থায়ী কক্ষে স্বাস্থ্যসেবা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবন চার বছর ধরে ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে নিজস্ব ভবনে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ থাকলেও কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। প্রথমে প্রায় এক বছর ভাড়া বাসায় এবং পরে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে সীমিত পরিসরে চলছে কেন্দ্রটির সেবা। 

১৯৭৭-৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রটি সিংড়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার পর নতুন ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভবন ও কোয়ার্টার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার বিষয়ে তৎকালীন উপপরিচালকের উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পরিত্যক্ত ঘোষণার লিখিত পত্র পাওয়া যায়নি।

ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার পর সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগিতায় প্রথমে ভাড়া বাসায় কার্যক্রম চালানো হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই অস্থায়ী ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিকল্প নয়। এতে রোগী ব্যবস্থাপনা, ওষুধ সংরক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

সেবা নিতে আসা মরিচা গ্রামের মোকসেদ আলী বলেন, কয়েকদিন আগে স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে ভবন বন্ধ দেখে বাড়ি ফিরে যান। পরে জানতে পারেন, ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে কার্যক্রম চলছে। তাঁর মতো অনেক রোগীই কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থান জানেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নারী, শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হওয়া জরুরি। তাই নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোছা. হাসনে আরা বানু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নিজস্ব ভবন না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। সেখানে স্টোর রুমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদেরও একই কক্ষে বসে কাজ করতে হয়। ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে রোগীদের ব্যক্তিগত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, নিজস্ব ভবনের অভাবে নিয়মিত মাসিক ক্যাম্প পরিচালনা, রোগীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাসিক সভা আয়োজনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সীমিত জায়গায় রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে আমাদের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। 

এবিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহমদ ঈসা জানান, কেন্দ্রটি পাঁচ বছর মেয়াদি অপারেশন প্ল্যানে পুনর্নির্মাণের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মৌখিকভাবে এ তথ্য জানা গেছে। তবে নির্মাণকাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত