জয়পুরহাট    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

জাগলার চরে বন বিভাগের জমি দখল ও দাগ বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২



জাগলার চরে বন বিভাগের জমি দখল ও দাগ বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
ছবি : প্রতিনিধি

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা জাগলার চরে বন বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ, বন উজাড় করে দখল, সরকারি জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং দাগ বিক্রির নামে অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আটককৃতদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে তাদেরকে অভিযান চালিয়ে জাগলার চর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন, উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের উত্তর শূল্যকিয়া এলাকার মৃত আবুল খায়েরের ছেলে মো. এনায়েত হোসেন ওরফে এনায়েত খলিফা (৫৬) এবং চরকিং ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার মৃত খবির উদ্দিনের ছেলে মো. রুবেল (৩০)। 

পুলিশ ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়া থানার সুখচর সংলগ্ন মেঘনা নদীর বুকে সম্প্রতি জেগে ওঠা জাগলার চরে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট-সংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধভাবে অবস্থান নেয়। 

তারা বন বিভাগের জমিতে গাছপালা উজাড় করে জায়গা দখলের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষকে ওই চরে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কথিত এজেন্টদের মাধ্যমে এসব মানুষকে বন বিভাগের জমির ‘দাগ’ বিক্রির কথা বলে নগদ টাকা নেওয়া হয়। 

সরকারি বনভূমি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি বা দখল করার কোনো বৈধ সুযোগ না থাকায় এতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। 

বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, অপরাধজনক বল প্রয়োগ, আক্রমণের চেষ্টা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ জনকে আসামী করে হাতিয়া থানায় মামলা করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর বুকে নতুন চর জেগে ওঠার পর থেকেই সেখানে জমি দখল ও জমি নিয়ে নানা ধরনের তৎপরতা শুরু হয়। বিশেষ করে ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষের একটি অংশ জমি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন ব্যক্তির কথায় টাকা দিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি সঠিকভাবে যাচাই না করে টাকা দেওয়ায় অনেকে পরে বিপাকে পড়ছেন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, সরকারি জমি দখল, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা,  হুমকি এবং প্রতারণার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অপর আসামিসহ তদন্তে আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে জমি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র সরকারি বা বন বিভাগের জমি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি কিংবা বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে টাকা চাইলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, জাগলার চরের বনভূমি ও ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সরকারি জমি দখল ও অবৈধ লেনদেন বন্ধে প্রশাসন ও বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাগলার চরে বন বিভাগের জমি দখল ও দাগ বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা জাগলার চরে বন বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ, বন উজাড় করে দখল, সরকারি জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং দাগ বিক্রির নামে অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আটককৃতদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে তাদেরকে অভিযান চালিয়ে জাগলার চর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন, উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের উত্তর শূল্যকিয়া এলাকার মৃত আবুল খায়েরের ছেলে মো. এনায়েত হোসেন ওরফে এনায়েত খলিফা (৫৬) এবং চরকিং ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার মৃত খবির উদ্দিনের ছেলে মো. রুবেল (৩০)। 

পুলিশ ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়া থানার সুখচর সংলগ্ন মেঘনা নদীর বুকে সম্প্রতি জেগে ওঠা জাগলার চরে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট-সংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধভাবে অবস্থান নেয়। 

তারা বন বিভাগের জমিতে গাছপালা উজাড় করে জায়গা দখলের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষকে ওই চরে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কথিত এজেন্টদের মাধ্যমে এসব মানুষকে বন বিভাগের জমির ‘দাগ’ বিক্রির কথা বলে নগদ টাকা নেওয়া হয়। 

সরকারি বনভূমি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি বা দখল করার কোনো বৈধ সুযোগ না থাকায় এতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। 

বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, অপরাধজনক বল প্রয়োগ, আক্রমণের চেষ্টা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ জনকে আসামী করে হাতিয়া থানায় মামলা করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর বুকে নতুন চর জেগে ওঠার পর থেকেই সেখানে জমি দখল ও জমি নিয়ে নানা ধরনের তৎপরতা শুরু হয়। বিশেষ করে ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষের একটি অংশ জমি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন ব্যক্তির কথায় টাকা দিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি সঠিকভাবে যাচাই না করে টাকা দেওয়ায় অনেকে পরে বিপাকে পড়ছেন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, সরকারি জমি দখল, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা,  হুমকি এবং প্রতারণার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অপর আসামিসহ তদন্তে আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে জমি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র সরকারি বা বন বিভাগের জমি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি কিংবা বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে টাকা চাইলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, জাগলার চরের বনভূমি ও ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সরকারি জমি দখল ও অবৈধ লেনদেন বন্ধে প্রশাসন ও বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত