গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ৯নং কামালেরপাড়া ইউনিয়নের পাঁচপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংবর্ধনা, অভিভাবক সমাবেশ ও নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহিশ শাফী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি নাজির আখতার কলেজ, সোনাতলা, বগুড়ার সাবেক এজিএস ওয়াসিম মানিক, পাঁচপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহানাজ সুলতানা, সাবেক সভাপতি সাজেদুর রহমান শিপন, ৯নং কামালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস ছামাদ এবং বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও সাংবাদিক মোঃ আনছারুজ্জামান রেজুয়ান।
নবগঠিত কমিটির অভিভাবক সদস্য হিসেবে একরামুল হক আকন্দ, আতোয়ার রহমান, রনি খাতুন ও রাবেয়া বেগম এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে হেলাল আহম্মেদ ও শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অবদান ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাক্তন শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন—আলহাজ্ব ইমরান হোসেন, আলহাজ্ব ওসমানগণি, সৌজা উদ দৌলা, তবিবর রহমান, শামীম আরা বেগম, ফরিদা আক্তার ও নুরুন্নবী।
এছাড়া বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ সাংবাদিক মোঃ আনছারুজ্জামান রেজুয়ান-কেও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
শিক্ষার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান অভিভাবক সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। এর জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে নবগঠিত কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সুশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছ ও ফুটবল বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহানাজ সুলতানার পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ও ফুটবল বিতরণ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে পরিবেশের প্রতি সচেতনতা সৃষ্টি এবং সবুজ বিদ্যালয় গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি খেলাধুলার সামগ্রী হিসেবে ফুটবল বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এ সময় উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও সুধীজন এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, নবগঠিত কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যোৎসাহী সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সামগ্রিকভাবে সংবর্ধনা, অভিভাবক সমাবেশ, সম্মাননা ও নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভাটি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ৯নং কামালেরপাড়া ইউনিয়নের পাঁচপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংবর্ধনা, অভিভাবক সমাবেশ ও নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহিশ শাফী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি নাজির আখতার কলেজ, সোনাতলা, বগুড়ার সাবেক এজিএস ওয়াসিম মানিক, পাঁচপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহানাজ সুলতানা, সাবেক সভাপতি সাজেদুর রহমান শিপন, ৯নং কামালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস ছামাদ এবং বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও সাংবাদিক মোঃ আনছারুজ্জামান রেজুয়ান।
নবগঠিত কমিটির অভিভাবক সদস্য হিসেবে একরামুল হক আকন্দ, আতোয়ার রহমান, রনি খাতুন ও রাবেয়া বেগম এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে হেলাল আহম্মেদ ও শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অবদান ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাক্তন শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন—আলহাজ্ব ইমরান হোসেন, আলহাজ্ব ওসমানগণি, সৌজা উদ দৌলা, তবিবর রহমান, শামীম আরা বেগম, ফরিদা আক্তার ও নুরুন্নবী।
এছাড়া বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ সাংবাদিক মোঃ আনছারুজ্জামান রেজুয়ান-কেও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
শিক্ষার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান অভিভাবক সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। এর জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে নবগঠিত কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সুশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছ ও ফুটবল বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহানাজ সুলতানার পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ও ফুটবল বিতরণ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে পরিবেশের প্রতি সচেতনতা সৃষ্টি এবং সবুজ বিদ্যালয় গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি খেলাধুলার সামগ্রী হিসেবে ফুটবল বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এ সময় উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও সুধীজন এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, নবগঠিত কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যোৎসাহী সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সামগ্রিকভাবে সংবর্ধনা, অভিভাবক সমাবেশ, সম্মাননা ও নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভাটি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন