জয়পুরহাট    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়

গুইমারায় জাতীয় কন্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ



গুইমারায় জাতীয় কন্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
ছবি- প্রতিনিধি

“শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির গুইমারায় জাতীয় কন্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গুইমারা উপজেলা সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহম্মদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, গুইমারা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অর্জুন নাথ এবং গুইমারা দাখিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল জয়নাল আবেদীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসা. হাছিনা আক্তার।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নারী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বাল্যবিবাহের কুফল, নারী শিক্ষার গুরুত্ব, কন্যাশিশুর অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমাজে মেয়েদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহম্মদ বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বাভাবিক বিকাশ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করে। একটি শিশুর হাতে বই-খাতা থাকার কথা, অল্প বয়সে সংসারের বোঝা নয়। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তারা পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। কন্যাশিশুদের স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিবার ও সমাজকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।”

বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং কন্যাশিশুর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। মেয়েরা সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে পারে। এ জন্য অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠা, শিক্ষা গ্রহণ এবং নিজের যোগ্যতা বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারী শিক্ষার প্রসারে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


গুইমারায় জাতীয় কন্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

“শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির গুইমারায় জাতীয় কন্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গুইমারা উপজেলা সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহম্মদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, গুইমারা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অর্জুন নাথ এবং গুইমারা দাখিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল জয়নাল আবেদীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসা. হাছিনা আক্তার।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নারী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বাল্যবিবাহের কুফল, নারী শিক্ষার গুরুত্ব, কন্যাশিশুর অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমাজে মেয়েদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহম্মদ বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বাভাবিক বিকাশ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করে। একটি শিশুর হাতে বই-খাতা থাকার কথা, অল্প বয়সে সংসারের বোঝা নয়। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তারা পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। কন্যাশিশুদের স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিবার ও সমাজকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।”

বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং কন্যাশিশুর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। মেয়েরা সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে পারে। এ জন্য অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠা, শিক্ষা গ্রহণ এবং নিজের যোগ্যতা বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারী শিক্ষার প্রসারে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত