জয়পুরহাট    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার



আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ছবি : সংগৃহীত

সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে নাফিশা হোসেন (২১) নামে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দরজা বন্ধ করার পর দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তা খুলতে না পারার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে আশুলিয়ার মানিকগঞ্জ পাড়ার বিশ্বাস টাওয়ারের সাততলার দক্ষিণ পাশের একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নাফিশা নওগাঁ সদর উপজেলার উল্লাশপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের বড় ছেলে। তাঁর মায়ের নাম সাবেকুন নাহার। তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে ওই ভবনে প্রায় আট মাস ধরে ভাড়া থাকতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগের রাতে বড় ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর নাফিশা নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে তাঁর ছোট ভাই প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও দরজা খুলতে পারেননি। এরপর বাসার ম্যানেজার মিতু আক্তারকে ডাকা হলে তিনিও দরজা খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সকালে বিষয়টি দেখার কথা বলে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।

সূত্রের দাবি, ভোরে ফজরের নামাজের পর মিতু আক্তার আবার ওই কক্ষে গিয়ে নাফিশাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি বাড়ির মালিক মোফাজ্জল হোসেনকে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। বাড়ির মালিক সেখানে পৌঁছে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এ সময় নাফিশার বাম পায়ের নিচের অংশে ব্লেড দিয়ে কাটার চিহ্ন দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন বাসার ম্যানেজার মিতু আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তিনি দরজা খোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তবে দরজা খুলতে না পারার পরপরই পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও দরজা খুলতে না পারার পর কেন তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ ঘটনায় কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

সময়মতো জরুরি সহায়তা চাওয়া হলে তরুণকে জীবিত উদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতো কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত জরুরি সেবার সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্তের অপেক্ষা নাফিশা হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর পায়ে কাটার চিহ্ন থাকার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের ফল পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

ঘটনার সময়ক্রম, জরুরি সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে নাফিশা হোসেন (২১) নামে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দরজা বন্ধ করার পর দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তা খুলতে না পারার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে আশুলিয়ার মানিকগঞ্জ পাড়ার বিশ্বাস টাওয়ারের সাততলার দক্ষিণ পাশের একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নাফিশা নওগাঁ সদর উপজেলার উল্লাশপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের বড় ছেলে। তাঁর মায়ের নাম সাবেকুন নাহার। তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে ওই ভবনে প্রায় আট মাস ধরে ভাড়া থাকতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগের রাতে বড় ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর নাফিশা নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে তাঁর ছোট ভাই প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও দরজা খুলতে পারেননি। এরপর বাসার ম্যানেজার মিতু আক্তারকে ডাকা হলে তিনিও দরজা খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সকালে বিষয়টি দেখার কথা বলে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।

সূত্রের দাবি, ভোরে ফজরের নামাজের পর মিতু আক্তার আবার ওই কক্ষে গিয়ে নাফিশাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি বাড়ির মালিক মোফাজ্জল হোসেনকে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। বাড়ির মালিক সেখানে পৌঁছে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এ সময় নাফিশার বাম পায়ের নিচের অংশে ব্লেড দিয়ে কাটার চিহ্ন দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন বাসার ম্যানেজার মিতু আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তিনি দরজা খোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তবে দরজা খুলতে না পারার পরপরই পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও দরজা খুলতে না পারার পর কেন তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ ঘটনায় কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

সময়মতো জরুরি সহায়তা চাওয়া হলে তরুণকে জীবিত উদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতো কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত জরুরি সেবার সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্তের অপেক্ষা নাফিশা হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর পায়ে কাটার চিহ্ন থাকার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের ফল পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

ঘটনার সময়ক্রম, জরুরি সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত