জয়পুরহাট    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

নন্দীগ্রামে শর্ট সার্কিটের আগুনে পুরলো কৃষকের বসতভিটা



নন্দীগ্রামে শর্ট সার্কিটের আগুনে পুরলো কৃষকের বসতভিটা
ছবি- প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিন কৃষক ভাইয়ের বসতবাড়ির মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে নগদ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, ধান-চাল, ডাল, টেলিভিশন, ফ্রিজ, সোফা, খাট, পোশাক, বিদেশি কম্বলসহ মূল্যবান আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। 

এ ঘটনায় গোয়ালঘরে থাকা পাঁচটি ছাগলও পুড়ে মারা গেছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। আগুনে পরিবারের বড় ছেলে মাহফুজুল হোসেনের মুখমণ্ডল ও দুই হাত দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪নং থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গুলিয়া কৃষ্ণপুর গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত নুরুল ইসলামের বড় ছেলে মাহফুজুল হোসেন এবং ছোট দুই ছেলে রেজাউল ও শহিদুল পরিবার নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন।

রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পোড়া গন্ধ পেয়ে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। ঘর থেকে বের হয়ে তাঁরা দেখতে পান, মাহফুজুল হোসেনের ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়তে থাকলে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করেন।

তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

ক্ষতিগ্রস্ত মাহফুজুল হোসেনের স্ত্রী ও ছেলে জানান,   আগুনে তাঁদের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত অর্থ ও ঘরের প্রয়োজনীয় প্রায় সব মালামাল পুড়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে নগদ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, ধান, চাল, ডাল, টেলিভিশন, ফ্রিজ, সোফা, খাট, পোশাক ও বিভিন্ন আসবাবপত্র।

এ ছাড়া বিদেশ থেকে আনা কম্বলসহ ঘরের অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও আগুনে নষ্ট হয়েছে। রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের বড় ছেলে মাহফুজুল হোসেন দগ্ধ হন। আগুনে তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাত পুড়ে যায়। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার জহিরুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তাঁরা।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে ছুটে যান নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দুর্দশার খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নগদ অর্থসহায়তা, শুকনো খাবার ও কম্বল বিতরণ করা হয়। আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৪নং থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান  আব্দুল মতিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


নন্দীগ্রামে শর্ট সার্কিটের আগুনে পুরলো কৃষকের বসতভিটা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিন কৃষক ভাইয়ের বসতবাড়ির মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে নগদ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, ধান-চাল, ডাল, টেলিভিশন, ফ্রিজ, সোফা, খাট, পোশাক, বিদেশি কম্বলসহ মূল্যবান আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। 

এ ঘটনায় গোয়ালঘরে থাকা পাঁচটি ছাগলও পুড়ে মারা গেছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। আগুনে পরিবারের বড় ছেলে মাহফুজুল হোসেনের মুখমণ্ডল ও দুই হাত দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪নং থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গুলিয়া কৃষ্ণপুর গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত নুরুল ইসলামের বড় ছেলে মাহফুজুল হোসেন এবং ছোট দুই ছেলে রেজাউল ও শহিদুল পরিবার নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন।

রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পোড়া গন্ধ পেয়ে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। ঘর থেকে বের হয়ে তাঁরা দেখতে পান, মাহফুজুল হোসেনের ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়তে থাকলে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করেন।

তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

ক্ষতিগ্রস্ত মাহফুজুল হোসেনের স্ত্রী ও ছেলে জানান,   আগুনে তাঁদের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত অর্থ ও ঘরের প্রয়োজনীয় প্রায় সব মালামাল পুড়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে নগদ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, ধান, চাল, ডাল, টেলিভিশন, ফ্রিজ, সোফা, খাট, পোশাক ও বিভিন্ন আসবাবপত্র।

এ ছাড়া বিদেশ থেকে আনা কম্বলসহ ঘরের অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও আগুনে নষ্ট হয়েছে। রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের বড় ছেলে মাহফুজুল হোসেন দগ্ধ হন। আগুনে তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাত পুড়ে যায়। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার জহিরুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তাঁরা।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে ছুটে যান নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দুর্দশার খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নগদ অর্থসহায়তা, শুকনো খাবার ও কম্বল বিতরণ করা হয়। আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৪নং থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান  আব্দুল মতিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।



Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত