জয়পুরহাট    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

দুপচাঁচিয়ায় ২ সরকারি কলেজসহ ৫ কলেজ ও ২ মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়



দুপচাঁচিয়ায় ২ সরকারি কলেজসহ ৫ কলেজ ও ২ মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়
ছবি : প্রতিনিধি

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। উপজেলার দুটি সরকারি কলেজসহ বেশ কয়েকটি কলেজ ও মাদ্রাসার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। 

এমনকি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। তবে এর বিপরীতে কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যতিক্রমী ও সন্তোষজনক সাফল্যও অর্জন করেছে। ​এইচএসসি পরীক্ষার হতাশাজনক :উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়:

​আলতাফনগর সরকারি শহীদ এম. মুনছুর আলী ডিগ্রি কলেজ: ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ২৭ জন। পাসের হার ১৫.২৫% (কোনো জিপিএ-৫ নেই)।

তালোড়া সরকারি শাহ এয়তেবাড়িয়া কলেজ: ২১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৪৮ জন। পাসের হার ২২.৭৫% (কোনো জিপিএ-৫ নেই)। দুপচাঁচিয়া জে.কে কলেজ: ১৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ২০ জন। পাসের হার মাত্র ১০.৩১% (কোনো জিপিএ-৫ নেই)। ​

বড় নিলাহালী বেড়াগ্রাম কলেজে  : ৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৬ জন। পাসের হার ১৬.২২%। বি.ডি.এম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ: ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১ জন। পাসের হার ৬.৬৭%।

​এসব প্রতিষ্ঠানে এমন বিপর্যয়কর ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ​ব্যতিক্রমী সাফল্য বিয়াম ল্যাবরেটরির:

হতাশাজনক এই চিত্রের বিপরীতে ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮.৬৪%, যা উপজেলার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

​আলিম পরীক্ষার চিত্রও উদ্বেগজনক:

এইচএসসির পাশাপাশি আলিম পরীক্ষার ফলাফলও কয়েকটি মাদ্রাসার শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মাধাইমুড়ি আদাত আলী আলিম মাদ্রাসা: ৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ। উনাহত সিংড়া আলিম মাদ্রাসা: ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১ জন। পাসের হার ৯.০৯% (কোনো জিপিএ-৫ নেই)।

​তবে এর মাঝেও দুপচাঁচিয়া দারুস সুন্নাহ কামিল মাদ্রাসা শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, যার মধ্যে ৮ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

​শিক্ষক সংকটের চিত্র ও অধ্যক্ষের বক্তব্য:

পৌর এলাকার বি.ডি.এম আদর্শ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সরেজমিনে জানান, ১৯৯৬ সালে নিম্ন মাধ্যমিক হিসেবে যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ১১ জন শিক্ষক থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কোনো শিক্ষক নেই। শিক্ষকশূন্যতার কারণে শিক্ষার্থীরাও প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে অনীহা প্রকাশ করছে। সীমিত সামর্থ্য নিয়েই তিনি পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

​সরকারি সুবিধা সত্ত্বেও ফল বিপর্যয়—ক্ষোভ অভিভাবকদের:

একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন শোচনীয় ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবকরা জানান, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত বেতন-ভাতা ও অবকাঠামোগত সুবিধাসহ নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। এরপরও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিত করতে না পারা অত্যন্ত হতাশাজনক। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং মানসম্মত পাঠদান, নিয়মিত মূল্যায়ন ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​দুপচাঁচিয়ার শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


দুপচাঁচিয়ায় ২ সরকারি কলেজসহ ৫ কলেজ ও ২ মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। উপজেলার দুটি সরকারি কলেজসহ বেশ কয়েকটি কলেজ ও মাদ্রাসার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। 

এমনকি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। তবে এর বিপরীতে কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যতিক্রমী ও সন্তোষজনক সাফল্যও অর্জন করেছে। ​এইচএসসি পরীক্ষার হতাশাজনক :উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়:

​আলতাফনগর সরকারি শহীদ এম. মুনছুর আলী ডিগ্রি কলেজ: ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ২৭ জন। পাসের হার ১৫.২৫% (কোনো জিপিএ-৫ নেই)।

তালোড়া সরকারি শাহ এয়তেবাড়িয়া কলেজ: ২১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৪৮ জন। পাসের হার ২২.৭৫% (কোনো জিপিএ-৫ নেই)। দুপচাঁচিয়া জে.কে কলেজ: ১৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ২০ জন। পাসের হার মাত্র ১০.৩১% (কোনো জিপিএ-৫ নেই)। ​

বড় নিলাহালী বেড়াগ্রাম কলেজে  : ৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৬ জন। পাসের হার ১৬.২২%। বি.ডি.এম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ: ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১ জন। পাসের হার ৬.৬৭%।

​এসব প্রতিষ্ঠানে এমন বিপর্যয়কর ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ​ব্যতিক্রমী সাফল্য বিয়াম ল্যাবরেটরির:

হতাশাজনক এই চিত্রের বিপরীতে ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮.৬৪%, যা উপজেলার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

​আলিম পরীক্ষার চিত্রও উদ্বেগজনক:

এইচএসসির পাশাপাশি আলিম পরীক্ষার ফলাফলও কয়েকটি মাদ্রাসার শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মাধাইমুড়ি আদাত আলী আলিম মাদ্রাসা: ৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ। উনাহত সিংড়া আলিম মাদ্রাসা: ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১ জন। পাসের হার ৯.০৯% (কোনো জিপিএ-৫ নেই)।

​তবে এর মাঝেও দুপচাঁচিয়া দারুস সুন্নাহ কামিল মাদ্রাসা শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, যার মধ্যে ৮ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

​শিক্ষক সংকটের চিত্র ও অধ্যক্ষের বক্তব্য:

পৌর এলাকার বি.ডি.এম আদর্শ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সরেজমিনে জানান, ১৯৯৬ সালে নিম্ন মাধ্যমিক হিসেবে যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ১১ জন শিক্ষক থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কোনো শিক্ষক নেই। শিক্ষকশূন্যতার কারণে শিক্ষার্থীরাও প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে অনীহা প্রকাশ করছে। সীমিত সামর্থ্য নিয়েই তিনি পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

​সরকারি সুবিধা সত্ত্বেও ফল বিপর্যয়—ক্ষোভ অভিভাবকদের:

একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন শোচনীয় ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবকরা জানান, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত বেতন-ভাতা ও অবকাঠামোগত সুবিধাসহ নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। এরপরও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিত করতে না পারা অত্যন্ত হতাশাজনক। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং মানসম্মত পাঠদান, নিয়মিত মূল্যায়ন ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​দুপচাঁচিয়ার শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত