জয়পুরহাট    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ

নরসিংদী জেলাতে ঘরে ঘরে উঠছে আগুনী ধান



নরসিংদী জেলাতে ঘরে ঘরে উঠছে আগুনী ধান
ছবি : প্রতিনিধি

নরসিংদীর গ্রামাঞ্চলে ঘরে ঘরে উঠতে শুরু করেছে নতুন মৌসুমের আগুনী ধান। মাঠের সোনালি ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক বাছেদ মিয়া। 

কোথাও চলছে ধান কাটা, কোথাও মাড়াই, আবার কোথাও বাড়ির উঠানে রোদে শুকানো হচ্ছে নতুন ধান। নতুন ধান ঘরে ওঠাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাংলার চিরচেনা পরিবেশে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

কৃষকের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, পরিচর্যা ও অপেক্ষার পর মাঠের ফসল এখন ঘরে তোলাছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত থাকছেন ধান সংগ্রহের কাজে। 

কৃষক আসাদ মিয়া পাশাপাশি তার স্ত্রী ফজিতুন্নেছা ধান শুকানো, পরিষ্কার করা ও সংরক্ষণের কাজে সহযোগিতা করছেন। বাড়ির উঠান, খোলা জায়গা ও মাড়াইয়ের মাঠে এখন চোখে পড়ছে নতুন ধানের ব্যস্ততা।

নতুন ধান ঘরে আসায় অনেক কৃষক পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। ধানের সোনালি রং আর নতুন চালের ঘ্রাণে গ্রামজুড়ে তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। অনেক পরিবার নতুন ধান দিয়ে চাল তৈরি এবং নতুন চালের খাবার তৈরির প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

কৃষকদের কাছে ধান শুধু একটি ফসল নয়, বরং সারা বছরের জীবিকা ও পরিবারের স্বপ্নের অন্যতম অবলম্বন। ধান উৎপাদনের পেছনে রয়েছে জমি প্রস্তুত, বীজ সংগ্রহ, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ ও আগাছা পরিষ্কারসহ নানা পরিশ্রমের কাজ। এসব পরিশ্রমের পর ফসল ঘরে তুলতে পারা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।

তবে ফসল ঘরে তোলার আনন্দের পাশাপাশি কৃষকদের মনে রয়েছে কিছুটা দুশ্চিন্তাও। কৃষি উপকরণের দাম, সার ও কীটনাশকের খরচ, সেচ ব্যয় এবং শ্রমিকের মজুরি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে তাদের। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দাম কেমন পাওয়া যাবে, তা নিয়েও রয়েছে সংকোচ প্রকাশ করছেন কৃষকরা।

কৃষক মোঃ বিল্লাল মিয়ার প্রত্যাশা, নতুন ধানের মৌসুমে তারা যেন উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পান। ধানের ভালো দাম নিশ্চিত হলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা সহজ হবে। পাশাপাশি আগামী মৌসুমে আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন তারা।

এদিকে নতুন ধান ঘরে ওঠাকে কেন্দ্র করে গ্রামের হাটবাজারেও বাড়ছে কৃষি ও খাদ্যশস্য কেনাবেচার ব্যস্ততা। ধান সংগ্রহ, মাড়াই, শুকানো ও সংরক্ষণকে ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য।

সব মিলিয়ে নরসিংদীর গ্রামাঞ্চলে এখন নতুন ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা। কৃষকের ঘরে ঘরে আগুনী ধানের আগমন যেন দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের সার্থকতা। কৃষকদের প্রত্যাশা, ভালো ফলনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে নতুন ধানের এই মৌসুম তাদের জীবনে নিয়ে আসবে স্বস্তি ও সমৃদ্ধি।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


নরসিংদী জেলাতে ঘরে ঘরে উঠছে আগুনী ধান

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নরসিংদীর গ্রামাঞ্চলে ঘরে ঘরে উঠতে শুরু করেছে নতুন মৌসুমের আগুনী ধান। মাঠের সোনালি ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক বাছেদ মিয়া। 

কোথাও চলছে ধান কাটা, কোথাও মাড়াই, আবার কোথাও বাড়ির উঠানে রোদে শুকানো হচ্ছে নতুন ধান। নতুন ধান ঘরে ওঠাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাংলার চিরচেনা পরিবেশে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

কৃষকের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, পরিচর্যা ও অপেক্ষার পর মাঠের ফসল এখন ঘরে তোলাছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত থাকছেন ধান সংগ্রহের কাজে। 

কৃষক আসাদ মিয়া পাশাপাশি তার স্ত্রী ফজিতুন্নেছা ধান শুকানো, পরিষ্কার করা ও সংরক্ষণের কাজে সহযোগিতা করছেন। বাড়ির উঠান, খোলা জায়গা ও মাড়াইয়ের মাঠে এখন চোখে পড়ছে নতুন ধানের ব্যস্ততা।

নতুন ধান ঘরে আসায় অনেক কৃষক পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। ধানের সোনালি রং আর নতুন চালের ঘ্রাণে গ্রামজুড়ে তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। অনেক পরিবার নতুন ধান দিয়ে চাল তৈরি এবং নতুন চালের খাবার তৈরির প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

কৃষকদের কাছে ধান শুধু একটি ফসল নয়, বরং সারা বছরের জীবিকা ও পরিবারের স্বপ্নের অন্যতম অবলম্বন। ধান উৎপাদনের পেছনে রয়েছে জমি প্রস্তুত, বীজ সংগ্রহ, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ ও আগাছা পরিষ্কারসহ নানা পরিশ্রমের কাজ। এসব পরিশ্রমের পর ফসল ঘরে তুলতে পারা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।

তবে ফসল ঘরে তোলার আনন্দের পাশাপাশি কৃষকদের মনে রয়েছে কিছুটা দুশ্চিন্তাও। কৃষি উপকরণের দাম, সার ও কীটনাশকের খরচ, সেচ ব্যয় এবং শ্রমিকের মজুরি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে তাদের। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দাম কেমন পাওয়া যাবে, তা নিয়েও রয়েছে সংকোচ প্রকাশ করছেন কৃষকরা।

কৃষক মোঃ বিল্লাল মিয়ার প্রত্যাশা, নতুন ধানের মৌসুমে তারা যেন উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পান। ধানের ভালো দাম নিশ্চিত হলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা সহজ হবে। পাশাপাশি আগামী মৌসুমে আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন তারা।

এদিকে নতুন ধান ঘরে ওঠাকে কেন্দ্র করে গ্রামের হাটবাজারেও বাড়ছে কৃষি ও খাদ্যশস্য কেনাবেচার ব্যস্ততা। ধান সংগ্রহ, মাড়াই, শুকানো ও সংরক্ষণকে ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য।

সব মিলিয়ে নরসিংদীর গ্রামাঞ্চলে এখন নতুন ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা। কৃষকের ঘরে ঘরে আগুনী ধানের আগমন যেন দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের সার্থকতা। কৃষকদের প্রত্যাশা, ভালো ফলনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে নতুন ধানের এই মৌসুম তাদের জীবনে নিয়ে আসবে স্বস্তি ও সমৃদ্ধি।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত