জয়পুরহাট    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

জুলাই সনদ না বাস্তবায়ন হলে নতুন সংকটের আশঙ্কা: রাজশাহীতে জামায়াতের পাঁচ দফা স্মারকলিপি প্রদান



জুলাই সনদ না বাস্তবায়ন হলে নতুন সংকটের আশঙ্কা: রাজশাহীতে জামায়াতের পাঁচ দফা স্মারকলিপি প্রদান
ছবি- দৈনিক জয়পুরবার্তা

রাজশাহী: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের দাবি নিয়ে আবারও সরব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এবার দাবি তুলেছে— “জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া দেশে স্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (১২ অক্টোবর) রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের কাছে পাঁচ দফা দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটির নেতারা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সদর আসনের জামায়াত-মনোনীত প্রার্থী ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী-৩ আসনের প্রার্থী ও হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৫ আসনের প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান লিটন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, সহকারী সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম এবং নগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

স্মারকলিপি প্রদানের আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তারা বলেন, “বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নেই। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন প্রয়োজন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন।”

বক্তারা দাবি করেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে, রাজনৈতিক বিভাজন কমবে এবং সব দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।”

তাদের মতে, দেশে এখন ‘একতরফা শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রভাব’ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তারা সতর্ক করে বলেন, “দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা আর অদৃশ্য প্রভাব বা একতরফা নির্বাচন মেনে নেবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া নতুন নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।”

জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’-এ দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কারের জন্য একটি নতুন রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এতে রয়েছে—

*অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচন কমিশন গঠন,

*প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা,

*অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন,

*এবং পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব।

দলটির দাবি, এই পদ্ধতিতে সংসদে দলীয় আধিপত্য বা পরিবারতন্ত্র কমবে, এবং জনগণের বাস্তব প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের এই দাবির পেছনে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক মেরুকরণ ও নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনঅবিশ্বাসই প্রধান কারণ। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কতটা রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করা সম্ভব?

রাজশাহী জেলা জামায়াতের নেতারা বলছেন,“বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন নতুন চিন্তার সময় এসেছে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই একমাত্র উপায়।”

তাদের মতে, জুলাই সনদ ও পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র গড়ে তোলা সম্ভব।

বিষয় : জুলাই সনদ

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জুলাই সনদ না বাস্তবায়ন হলে নতুন সংকটের আশঙ্কা: রাজশাহীতে জামায়াতের পাঁচ দফা স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

রাজশাহী: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের দাবি নিয়ে আবারও সরব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এবার দাবি তুলেছে— “জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া দেশে স্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (১২ অক্টোবর) রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের কাছে পাঁচ দফা দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটির নেতারা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সদর আসনের জামায়াত-মনোনীত প্রার্থী ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী-৩ আসনের প্রার্থী ও হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৫ আসনের প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান লিটন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, সহকারী সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম এবং নগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

স্মারকলিপি প্রদানের আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তারা বলেন, “বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নেই। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন প্রয়োজন জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন।”

বক্তারা দাবি করেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে, রাজনৈতিক বিভাজন কমবে এবং সব দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।”

তাদের মতে, দেশে এখন ‘একতরফা শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রভাব’ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তারা সতর্ক করে বলেন, “দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা আর অদৃশ্য প্রভাব বা একতরফা নির্বাচন মেনে নেবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া নতুন নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।”

জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’-এ দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কারের জন্য একটি নতুন রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এতে রয়েছে—

*অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচন কমিশন গঠন,

*প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা,

*অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন,

*এবং পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব।

দলটির দাবি, এই পদ্ধতিতে সংসদে দলীয় আধিপত্য বা পরিবারতন্ত্র কমবে, এবং জনগণের বাস্তব প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের এই দাবির পেছনে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক মেরুকরণ ও নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনঅবিশ্বাসই প্রধান কারণ। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কতটা রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করা সম্ভব?

রাজশাহী জেলা জামায়াতের নেতারা বলছেন,“বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন নতুন চিন্তার সময় এসেছে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই একমাত্র উপায়।”

তাদের মতে, জুলাই সনদ ও পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র গড়ে তোলা সম্ভব।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত