পৌষের শেষ প্রান্তে এসেও দেশের উত্তরের জেলা জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে শীতের প্রকোপ কমেনি। দিনের বেলায় ঝলমলে রোদ দেখা মিললেও উপজেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। টানা পাঁচ দিন ধরে এখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে।
সকালে সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের কারণে জনজীবনে শীতের প্রভাব কাটছে না। তবে দুপুরের দিকে রোদের তাপে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। সন্ধ্যা নামলেই আবার জেঁকে বসছে কনকনে ঠান্ডা।
বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে আক্কেলপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪ থেকে ২২ কিলোমিটার। মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪২ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬ থেকে ২৪ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকলেও সকাল ৮টার আগেই কুয়াশা কেটে চারপাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। এরপর সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ে। গত দুই দিন সূর্যের তেজ অন্য দিনের তুলনায় বেশি থাকায় দিনের বেলায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে।
তবে শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। ভোরে কাজে বের হলে ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকেই। বিশেষ করে যারা নদী, পুকুর ও খালে মাছ ধরা, নৌকা চালানো কিংবা পানি বহনের মতো কাজ করেন, তাদের জন্য এই শীত বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কয়েকদিন পর সূর্যের দেখা পাওয়ায় এসব মানুষ কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাচ্ছেন। রোদে গা গরম করতে পেরে আবার কাজে নামতে পারছেন তারা।
আক্কেলপুরের বিহারপুর এলাকার ভ্যানচালক নয়ন মালি বলেন, ঠান্ডা থাকলেও এখন সকালে সূর্য ওঠে। রোদ থাকায় যাত্রীও একটু বেড়েছে। মানুষজন রাস্তায় বের হচ্ছে, এতে আমাদেরও কিছুটা সুবিধা হচ্ছে।
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কৃষক লুৎফর রহমান ইসলাম বলেন, সকালেই রোদ ওঠায় ক্ষেতে কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে। কুয়াশা কম থাকায় ফসলের দেখভালও সহজ হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা এখনও দেখা যাচ্ছে। অতিরিক্ত শীতের কারণে শিশুদের ডায়রিয়ার প্রকোপ থাকলেও এখন তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন,কয়েকদিন ধরে আক্কেলপুরের তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। তবে দিনের বেলায় রোদের কারণে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাড়ছে। বুধবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই রোদের উপস্থিতি মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
পৌষের শেষ প্রান্তে এসেও দেশের উত্তরের জেলা জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে শীতের প্রকোপ কমেনি। দিনের বেলায় ঝলমলে রোদ দেখা মিললেও উপজেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। টানা পাঁচ দিন ধরে এখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে।
সকালে সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের কারণে জনজীবনে শীতের প্রভাব কাটছে না। তবে দুপুরের দিকে রোদের তাপে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। সন্ধ্যা নামলেই আবার জেঁকে বসছে কনকনে ঠান্ডা।
বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে আক্কেলপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪ থেকে ২২ কিলোমিটার। মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪২ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬ থেকে ২৪ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকলেও সকাল ৮টার আগেই কুয়াশা কেটে চারপাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। এরপর সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ে। গত দুই দিন সূর্যের তেজ অন্য দিনের তুলনায় বেশি থাকায় দিনের বেলায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে।
তবে শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। ভোরে কাজে বের হলে ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকেই। বিশেষ করে যারা নদী, পুকুর ও খালে মাছ ধরা, নৌকা চালানো কিংবা পানি বহনের মতো কাজ করেন, তাদের জন্য এই শীত বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কয়েকদিন পর সূর্যের দেখা পাওয়ায় এসব মানুষ কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাচ্ছেন। রোদে গা গরম করতে পেরে আবার কাজে নামতে পারছেন তারা।
আক্কেলপুরের বিহারপুর এলাকার ভ্যানচালক নয়ন মালি বলেন, ঠান্ডা থাকলেও এখন সকালে সূর্য ওঠে। রোদ থাকায় যাত্রীও একটু বেড়েছে। মানুষজন রাস্তায় বের হচ্ছে, এতে আমাদেরও কিছুটা সুবিধা হচ্ছে।
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কৃষক লুৎফর রহমান ইসলাম বলেন, সকালেই রোদ ওঠায় ক্ষেতে কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে। কুয়াশা কম থাকায় ফসলের দেখভালও সহজ হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা এখনও দেখা যাচ্ছে। অতিরিক্ত শীতের কারণে শিশুদের ডায়রিয়ার প্রকোপ থাকলেও এখন তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন,কয়েকদিন ধরে আক্কেলপুরের তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। তবে দিনের বেলায় রোদের কারণে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাড়ছে। বুধবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই রোদের উপস্থিতি মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন