জয়পুরহাট    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

হিলি তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, অপেক্ষার মাঝেই বাইকারদের ব্যতিক্রমী কৃষক মিটিং



হিলি তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, অপেক্ষার মাঝেই বাইকারদের ব্যতিক্রমী কৃষক মিটিং
ছবি- প্রতিনিধি

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, মোটরসাইকেল চালক ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। তেল সংকটের কারণে পাম্পে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ লাইন, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে এই দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেই এক ভিন্নধর্মী দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক মোটরসাইকেল বাইকার ও কৃষকদের নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে একটি কৃষক মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন এসিআই ফার্টিলাইজার ব্র্যান্ড প্রোমোটার ইয়াসিন আলী।

তিনি জানান, তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছিল। সবাই বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল। তখন মনে হলো, এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই এই ব্যতিক্রমী কৃষক মিটিংয়ের আয়োজন করি।

মিটিংয়ে অংশ নেওয়া কৃষকেরা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, তেল সংকটের কারণে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ পরিবহন সংকটের কারণে উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে দেরি করছেন।

একজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

আমরা তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। এতে আমাদের দৈনন্দিন কৃষিকাজে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে উৎপাদনেও প্রভাব পড়বে।

আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর পরও যদি এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। সরকার যদি খুচরা পর্যায়ে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করত, তাহলে হয়তো এই ভিড় ও দীর্ঘ লাইন তৈরি হতো না।

সরেজমিনে দেখা যায়, তেল পেতে অপেক্ষা করতে করতে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ ট্রাকের পেছনে বিছানা পেতে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কেউ মোটরসাইকেলের উপর বসেই সময় কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ অপেক্ষা এখন যেন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা জানান, হিলি ফিলিং স্টেশনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী তেল বিতরণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি খুব শিগগিরই ফুয়েল কার্ড চালু করা হবে, যাতে ভোগান্তি কমে আসে।

তেল সংকটের এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি এর প্রভাব পড়ছে কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হিলি তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, অপেক্ষার মাঝেই বাইকারদের ব্যতিক্রমী কৃষক মিটিং

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, মোটরসাইকেল চালক ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। তেল সংকটের কারণে পাম্পে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ লাইন, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে এই দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেই এক ভিন্নধর্মী দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক মোটরসাইকেল বাইকার ও কৃষকদের নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে একটি কৃষক মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন এসিআই ফার্টিলাইজার ব্র্যান্ড প্রোমোটার ইয়াসিন আলী।

তিনি জানান, তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছিল। সবাই বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল। তখন মনে হলো, এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই এই ব্যতিক্রমী কৃষক মিটিংয়ের আয়োজন করি।

মিটিংয়ে অংশ নেওয়া কৃষকেরা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, তেল সংকটের কারণে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ পরিবহন সংকটের কারণে উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে দেরি করছেন।

একজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

আমরা তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। এতে আমাদের দৈনন্দিন কৃষিকাজে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে উৎপাদনেও প্রভাব পড়বে।

আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর পরও যদি এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। সরকার যদি খুচরা পর্যায়ে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করত, তাহলে হয়তো এই ভিড় ও দীর্ঘ লাইন তৈরি হতো না।

সরেজমিনে দেখা যায়, তেল পেতে অপেক্ষা করতে করতে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ ট্রাকের পেছনে বিছানা পেতে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কেউ মোটরসাইকেলের উপর বসেই সময় কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ অপেক্ষা এখন যেন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা জানান, হিলি ফিলিং স্টেশনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী তেল বিতরণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি খুব শিগগিরই ফুয়েল কার্ড চালু করা হবে, যাতে ভোগান্তি কমে আসে।

তেল সংকটের এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি এর প্রভাব পড়ছে কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত