তিন মাস বয়সী শিশুর অবিরাম কান্নার শব্দ শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। গিয়ে তারা দেখতে পান, ঘরের বারান্দায় গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছে মা নাম্মি আক্তার নিপা (২০)-এর মরদেহ। আর মরদেহের পাশেই অসহায়ভাবে কান্না করছে তার তিন মাসের শিশু ছেলে নাহিদ। এ হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ধুনট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের বড়ইটালী গ্রামের লাল মিয়া প্রামাণিকের মেয়ে নাম্মি আক্তার নিপার সঙ্গে ধুনট উপজেলার শিয়ালী গ্রামের ফরহাদ মোল্লার ছেলে বাহাদুর মোল্লার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই অভাব-অনটন ও পারিবারিক কলহের কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি বিরাজ করছিল। এরই মধ্যে তাদের সংসারে জন্ম নেয় তিন মাস বয়সী ছেলে নাহিদ।
জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই সকালে বাহাদুর মোল্লা স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে তাদের রেখে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরদিন ১৬ জুলাই দুপুরে আবার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বিকেলে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশীরা নিপার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, নিপা ঘরের বারান্দায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। একই সঙ্গে তারা জানান, বাহাদুর মোল্লাসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তিন মাসের শিশুটিকে মরদেহের পাশে রেখে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।
খবর পেয়ে নিপার বাবা-মা ঘটনাস্থলে এসে কান্নারত শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা জোলেখা বেগম বাদী হয়ে ধুনট থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পর স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
তিন মাস বয়সী শিশুর অবিরাম কান্নার শব্দ শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। গিয়ে তারা দেখতে পান, ঘরের বারান্দায় গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছে মা নাম্মি আক্তার নিপা (২০)-এর মরদেহ। আর মরদেহের পাশেই অসহায়ভাবে কান্না করছে তার তিন মাসের শিশু ছেলে নাহিদ। এ হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ধুনট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের বড়ইটালী গ্রামের লাল মিয়া প্রামাণিকের মেয়ে নাম্মি আক্তার নিপার সঙ্গে ধুনট উপজেলার শিয়ালী গ্রামের ফরহাদ মোল্লার ছেলে বাহাদুর মোল্লার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই অভাব-অনটন ও পারিবারিক কলহের কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি বিরাজ করছিল। এরই মধ্যে তাদের সংসারে জন্ম নেয় তিন মাস বয়সী ছেলে নাহিদ।
জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই সকালে বাহাদুর মোল্লা স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে তাদের রেখে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরদিন ১৬ জুলাই দুপুরে আবার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বিকেলে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশীরা নিপার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, নিপা ঘরের বারান্দায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। একই সঙ্গে তারা জানান, বাহাদুর মোল্লাসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তিন মাসের শিশুটিকে মরদেহের পাশে রেখে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।
খবর পেয়ে নিপার বাবা-মা ঘটনাস্থলে এসে কান্নারত শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা জোলেখা বেগম বাদী হয়ে ধুনট থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পর স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন