জয়পুরহাট    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

পাহাড়ে দুইটি অচল বিদ্যালয় পুনরায় চালু করল সেনাবাহিনী



পাহাড়ে দুইটি অচল বিদ্যালয় পুনরায় চালু করল সেনাবাহিনী
অনুপম মারমা,(থানচি) বান্দরবান:

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বান্দরবানের থানচি ও রুমা দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগে শতাধিক শিশুর শিক্ষাজীবন আবারও সচল হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বান্দরবান রিজিয়নের ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উদ্যোগে জারুলছড়ি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আরিফ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়। দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়মুখী হতে পারছিল না। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিদ্যালয় দুটি আবারও শিক্ষার আলো ছড়াতে সক্ষম হয়েছে।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, থানচি উপজেলার সুংসাংপাড়া সেনা ক্যাম্পের অধীন থিংদলতে ত্ল্যাং টিওবি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। কুকি-চিন সশস্ত্র তৎপরতার কারণে ২০২০ সাল থেকে বিদ্যালয় দুটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতির পর শিক্ষকদের বেতন কার্যক্রম পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই, খাতা ও পেন্সিল বিতরণ এবং বিদ্যালয়ে হোয়াইটবোর্ড সরবরাহ করা হয়েছে।

এছাড়া সম্প্রতি ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির পরিদর্শনকালে জনগৌষ্ঠিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে  অনুমোদিত চাহিদার ভিত্তিতে জারুলছড়ি পাড়া, সাস্বত পাড়া, হাতিছড়া পাড়া, ক্রেসপাই পাড়া ও আরিফ পাড়ার বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসব সামগ্রীর মধ্যে ছিল সাউন্ড বক্স, সোলার লাইট, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ৭ ফুট ও ৫ ফুট টিন, ২ ইঞ্চি ও ১ ইঞ্চি পাইপ এবং এক হাজার লিটার ধারণক্ষমতার তিনটি পানির ট্যাংক। পাড়াগুলোর কারবারিদের হাতে এসব সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়।

থিংদলতে ত্ল্যাং টিওবির অধিনায়ক বলেন, "শিক্ষা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক সহায়তার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা আরও সুদৃঢ় করতে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর এসব উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার আলো ও উন্নয়নের সুফল ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।"

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় দুটি চালু হওয়ায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণ ও বিভিন্ন উন্নয়নসামগ্রী বিতরণের ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাহাড়ে দুইটি অচল বিদ্যালয় পুনরায় চালু করল সেনাবাহিনী

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বান্দরবানের থানচি ও রুমা দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগে শতাধিক শিশুর শিক্ষাজীবন আবারও সচল হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বান্দরবান রিজিয়নের ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উদ্যোগে জারুলছড়ি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আরিফ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়। দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়মুখী হতে পারছিল না। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিদ্যালয় দুটি আবারও শিক্ষার আলো ছড়াতে সক্ষম হয়েছে।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, থানচি উপজেলার সুংসাংপাড়া সেনা ক্যাম্পের অধীন থিংদলতে ত্ল্যাং টিওবি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। কুকি-চিন সশস্ত্র তৎপরতার কারণে ২০২০ সাল থেকে বিদ্যালয় দুটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতির পর শিক্ষকদের বেতন কার্যক্রম পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই, খাতা ও পেন্সিল বিতরণ এবং বিদ্যালয়ে হোয়াইটবোর্ড সরবরাহ করা হয়েছে।

এছাড়া সম্প্রতি ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির পরিদর্শনকালে জনগৌষ্ঠিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে  অনুমোদিত চাহিদার ভিত্তিতে জারুলছড়ি পাড়া, সাস্বত পাড়া, হাতিছড়া পাড়া, ক্রেসপাই পাড়া ও আরিফ পাড়ার বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসব সামগ্রীর মধ্যে ছিল সাউন্ড বক্স, সোলার লাইট, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ৭ ফুট ও ৫ ফুট টিন, ২ ইঞ্চি ও ১ ইঞ্চি পাইপ এবং এক হাজার লিটার ধারণক্ষমতার তিনটি পানির ট্যাংক। পাড়াগুলোর কারবারিদের হাতে এসব সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়।

থিংদলতে ত্ল্যাং টিওবির অধিনায়ক বলেন, "শিক্ষা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক সহায়তার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা আরও সুদৃঢ় করতে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর এসব উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার আলো ও উন্নয়নের সুফল ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।"

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় দুটি চালু হওয়ায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণ ও বিভিন্ন উন্নয়নসামগ্রী বিতরণের ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত