জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার আন নূর মডেল মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ ওয়ালিউল্লাহ উপর হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন আটক করে মারধর করেন। পড়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।বর্তমানে আহত দুই পক্ষই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আক্কেলপুর পৌরসভার চক্রপাড়া ইটভাটা মোড় এলাকার আন-নূর মডেল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তি মো. ওয়ালিউল্লাহ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি এবং আন-নূর মডেল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা। অপরদিকে অভিযুক্ত শামছুজ্জোহা স্বপনের বাড়ি উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এলাকায়।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিনের মতই মাদ্রাসায় ক্লাস হচ্ছিলো। এসময় মাদ্রাসার অফিসকক্ষে প্রতিষ্ঠানের কাজ করছিলেন হাফেজ ওয়ালিউল্লাহ। সে সময় অভিযুক্ত শামছুজ্জোহা স্বপন সেখানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্র দেখতে চান।
ওয়ালিউল্লাহর অভিযোগ, একপর্যায়ে স্বপন তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি পরিচয় জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে স্বপন তাঁর ওপর শারীরিক হামলা চালান। এতে তাঁর নাক, মুখে ও চোখে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন ও ব্যবসায়ীরা তাঁকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়ালিউল্লাহ বলেন, অফিসে বসে থাকা অবস্থায় একজন ব্যক্তি এসে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন এবং কাগজপত্র দেখতে চান। পরে তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিচয় জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করেন।
তবে অভিযুক্ত শামছুজ্জোহা স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর ছেলের শ্বশুরবাড়ি মাদ্রাসার পাশের লগুনপাড়া এলাকায়। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরামর্শ দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে তাঁর ছেলের। সেদিনও সে ওই মাদ্রাসায় একই উদ্দেশ্যে গিয়েছিল। পরে তাকে মারধর করা হয়। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
শামছুজ্জোহা স্বপন জানান, পাশের গ্রামে শশুরবাড়ী থেকে তিনি যাচ্ছিলেন রাস্তায় কুকুর তাকে তারা করলে আত্নরক্ষায় রাস্তার পাশে মাদ্রাসায় ডুকে পড়েন। পড়ে মাদ্রাসার পরিচালকের রুমে গিয়ে বিভিন্ন কথা বার্তা এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, জামায়াতের এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগে লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। হামলার পর অভিযুক্তকে স্থানীয় লোকজন আটক করে মারধর করলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার আন নূর মডেল মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ ওয়ালিউল্লাহ উপর হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন আটক করে মারধর করেন। পড়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।বর্তমানে আহত দুই পক্ষই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আক্কেলপুর পৌরসভার চক্রপাড়া ইটভাটা মোড় এলাকার আন-নূর মডেল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তি মো. ওয়ালিউল্লাহ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি এবং আন-নূর মডেল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা। অপরদিকে অভিযুক্ত শামছুজ্জোহা স্বপনের বাড়ি উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এলাকায়।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিনের মতই মাদ্রাসায় ক্লাস হচ্ছিলো। এসময় মাদ্রাসার অফিসকক্ষে প্রতিষ্ঠানের কাজ করছিলেন হাফেজ ওয়ালিউল্লাহ। সে সময় অভিযুক্ত শামছুজ্জোহা স্বপন সেখানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্র দেখতে চান।
ওয়ালিউল্লাহর অভিযোগ, একপর্যায়ে স্বপন তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি পরিচয় জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে স্বপন তাঁর ওপর শারীরিক হামলা চালান। এতে তাঁর নাক, মুখে ও চোখে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন ও ব্যবসায়ীরা তাঁকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়ালিউল্লাহ বলেন, অফিসে বসে থাকা অবস্থায় একজন ব্যক্তি এসে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন এবং কাগজপত্র দেখতে চান। পরে তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিচয় জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করেন।
তবে অভিযুক্ত শামছুজ্জোহা স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর ছেলের শ্বশুরবাড়ি মাদ্রাসার পাশের লগুনপাড়া এলাকায়। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরামর্শ দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে তাঁর ছেলের। সেদিনও সে ওই মাদ্রাসায় একই উদ্দেশ্যে গিয়েছিল। পরে তাকে মারধর করা হয়। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
শামছুজ্জোহা স্বপন জানান, পাশের গ্রামে শশুরবাড়ী থেকে তিনি যাচ্ছিলেন রাস্তায় কুকুর তাকে তারা করলে আত্নরক্ষায় রাস্তার পাশে মাদ্রাসায় ডুকে পড়েন। পড়ে মাদ্রাসার পরিচালকের রুমে গিয়ে বিভিন্ন কথা বার্তা এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, জামায়াতের এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগে লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। হামলার পর অভিযুক্তকে স্থানীয় লোকজন আটক করে মারধর করলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন