তফসিল ঘোষণা না হলেও বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় পুরোদমে বইতে শুরু করেছে আগাম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের হাওয়া। জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দুপুর কিংবা বর্ষার আগমনী বার্তার চেয়েও এখন এলাকার মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে নির্বাচনী উত্তাপ। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ইতোমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন: “কে হচ্ছেন আগামী দিনের চেয়ারম্যান?”উৎসবের আমেজে কৌশলী প্রচারণা
উপজেলার সদর ইউনিয়ন, চামরুল, তালোড়া, জয়ানগর, গুনাহার ও গোবিন্দপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শোভা পাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের শুভেচ্ছাবার্তাসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসকে কেন্দ্র করে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা জানালেও এসব প্রচারণার অন্তরালে রয়েছে পরিচিতি বাড়ানো ও ভোটারদের মন জয়ের কৌশল।
তবে নির্বাচনী তৎপরতা কেবল পোস্টার-ব্যানারেই সীমাবদ্ধ নেই; সম্ভাব্য প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কুশল বিনিময় করছেন এবং নিজেদের ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।
আধুনিক ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়“সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও জোরালো দাবিতেই আমি আবার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুনরায় নির্বাচিত হতে পারলে দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত এবং শতভাগ নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব। কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না।”
মোয়াজ্জেম হোসেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য প্রার্থী, দুপচাঁচিয়া সদর ইউপি।দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে আবারও মাঠে নেমেছেন তিনি। স্থানীয়দের সেবা নিশ্চিত করতেই তার এই পথচলা বলে জানান তিনি।সেবা পৌঁছাবে জনগণের দোরগোড়ায়
“তালোড়া ইউনিয়নের অনেক মানুষ এখনো বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন থেকে শুরু করে সরকারি সেবার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছে অনেক এলাকা। নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করব। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাই আমার লক্ষ্য। আলহাজ মেহেরুল ইসলাম, বর্তমান চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য প্রার্থী, তালোড়া ইউপি।
জনগণের দোরগোড়ায় ইউনিয়ন পরিষদের মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং অবহেলিত এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নকে মূল প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি।চায়ের দোকানে রাজনৈতিক বিশ্লেষণগ্রামীণ জনপদের আড্ডার প্রধান কেন্দ্রস্থল চায়ের দোকান। দুপচাঁচিয়ার বিভিন্ন মোড় ও বাজারের চায়ের স্টলগুলোতে এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ভোটের অংক।
চায়ের কাপে ঝড় তুলে ভোটাররা হিসেব কষছেনকার কতটুকু জনপ্রিয়তা, মাঠ কার দখলে আর কে এগিয়ে রয়েছেন নির্বাচনী দৌড়ে। তরুণ ও প্রবীণ ভোটারদের ভিন্ন ভাবনানির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবীণ ও তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের প্রত্যাশায় দেখা যাচ্ছে।
প্রবীণ ভোটারদের মত: তালোড়া এলাকার এক প্রবীণ প্রবীণ ভোটার জানান, "ভোটের আগে সবাই আপন সাজে। তবে এবার আমরা দেখে-শুনে সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব প্রার্থীকে ভোট দেব, যিনি সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকবেন।"
তরুণ ভোটারদের চাওয়া: তরুণ ভোটারদের ভাবনা আরও স্পষ্ট। তারা চান এমন নেতৃত্ব, যিনি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন, যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করবেন এবং ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্ত রাখবেন।
মাঠ এখন প্রস্তুত আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও দুপচাঁচিয়ার ইউনিয়নগুলোতে ভোটের আমেজ এখন তুঙ্গে। ভোটাররা যেমন প্রহর গুনছেন ভোটাধিকার প্রয়োগের, তেমনি সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন গণসংযোগে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত স্থানীয় জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে কার গলায় ওঠে বিজয়ের মালা।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
তফসিল ঘোষণা না হলেও বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় পুরোদমে বইতে শুরু করেছে আগাম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের হাওয়া। জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দুপুর কিংবা বর্ষার আগমনী বার্তার চেয়েও এখন এলাকার মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে নির্বাচনী উত্তাপ। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ইতোমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন: “কে হচ্ছেন আগামী দিনের চেয়ারম্যান?”উৎসবের আমেজে কৌশলী প্রচারণা
উপজেলার সদর ইউনিয়ন, চামরুল, তালোড়া, জয়ানগর, গুনাহার ও গোবিন্দপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শোভা পাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের শুভেচ্ছাবার্তাসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসকে কেন্দ্র করে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা জানালেও এসব প্রচারণার অন্তরালে রয়েছে পরিচিতি বাড়ানো ও ভোটারদের মন জয়ের কৌশল।
তবে নির্বাচনী তৎপরতা কেবল পোস্টার-ব্যানারেই সীমাবদ্ধ নেই; সম্ভাব্য প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কুশল বিনিময় করছেন এবং নিজেদের ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।
আধুনিক ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়“সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও জোরালো দাবিতেই আমি আবার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুনরায় নির্বাচিত হতে পারলে দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত এবং শতভাগ নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব। কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না।”
মোয়াজ্জেম হোসেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য প্রার্থী, দুপচাঁচিয়া সদর ইউপি।দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে আবারও মাঠে নেমেছেন তিনি। স্থানীয়দের সেবা নিশ্চিত করতেই তার এই পথচলা বলে জানান তিনি।সেবা পৌঁছাবে জনগণের দোরগোড়ায়
“তালোড়া ইউনিয়নের অনেক মানুষ এখনো বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন থেকে শুরু করে সরকারি সেবার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছে অনেক এলাকা। নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করব। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাই আমার লক্ষ্য। আলহাজ মেহেরুল ইসলাম, বর্তমান চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য প্রার্থী, তালোড়া ইউপি।
জনগণের দোরগোড়ায় ইউনিয়ন পরিষদের মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং অবহেলিত এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নকে মূল প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি।চায়ের দোকানে রাজনৈতিক বিশ্লেষণগ্রামীণ জনপদের আড্ডার প্রধান কেন্দ্রস্থল চায়ের দোকান। দুপচাঁচিয়ার বিভিন্ন মোড় ও বাজারের চায়ের স্টলগুলোতে এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ভোটের অংক।
চায়ের কাপে ঝড় তুলে ভোটাররা হিসেব কষছেনকার কতটুকু জনপ্রিয়তা, মাঠ কার দখলে আর কে এগিয়ে রয়েছেন নির্বাচনী দৌড়ে। তরুণ ও প্রবীণ ভোটারদের ভিন্ন ভাবনানির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবীণ ও তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের প্রত্যাশায় দেখা যাচ্ছে।
প্রবীণ ভোটারদের মত: তালোড়া এলাকার এক প্রবীণ প্রবীণ ভোটার জানান, "ভোটের আগে সবাই আপন সাজে। তবে এবার আমরা দেখে-শুনে সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব প্রার্থীকে ভোট দেব, যিনি সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকবেন।"
তরুণ ভোটারদের চাওয়া: তরুণ ভোটারদের ভাবনা আরও স্পষ্ট। তারা চান এমন নেতৃত্ব, যিনি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন, যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করবেন এবং ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্ত রাখবেন।
মাঠ এখন প্রস্তুত আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও দুপচাঁচিয়ার ইউনিয়নগুলোতে ভোটের আমেজ এখন তুঙ্গে। ভোটাররা যেমন প্রহর গুনছেন ভোটাধিকার প্রয়োগের, তেমনি সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন গণসংযোগে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত স্থানীয় জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে কার গলায় ওঠে বিজয়ের মালা।

আপনার মতামত লিখুন